ফেরদৌসী বেগম ( শিল্পী )

৫ বছর আগে লিখেছেন

অনন্তকালের ভালবাসা

 
ভালবাসা যে, দুরন্তর মহাসাগরের মত,
যেখানে বালি সমুদ্রে গিয়ে মিশে,
ভালবাসার তরঙ্গে ঘূর্ণায়মান হয়ে।
জোয়ারের মত হয়ে তীরে আসে,
চাওয়ার আর প্রয়োজনে দেয় যে আলিঙ্গন।
ভালবাসা যে, ঐ আকাশের উজ্জল চাঁদের মত,
উষ্ণতার সমুদ্র জুড়ে ঝিলিমিলি স্রোত,
গভীর, প্রশস্ত, শক্তিশালী আর কি শান্ত।
সর্বদাই যেন বয়ে বয়ে আসে আর যায়,
কখনো কখনো পথপ্রদর্শকের মত,
আশ্রয়ের অবগাহন করিয়ে দেয়।
ভালবাসা যে, সমুদ্রের সতেজ মৃদুমন্দ বাতাস,
আলতো করে মুখ জুড়ে ছোঁয়া দিয়ে যায়,
পরম সুখ আর ভালোলাগার সুদূরপ্রসারী।
নোনা বাতাসের মিষ্টি সুবাস দিয়ে,
যেন মনের সমস্ত কষ্টগুলো মুছিয়ে,
কষ্টের মাঝে ডুবন্ত জীবনকে বাঁচিয়ে তুলে।
ভালবাসায় যে, উপলব্ধি থাকে পৃথিবীর সর্বত্র,
সৌন্দর্য্যে, বায়ুতে কিংবা রহস্যে ভরা,
দীর্ঘশ্বাসটাকে দুরে সরিয়ে দিয়ে,
বাতাসের হাত দিয়ে করে আলিঙ্গন।
বন্ধ চোখেও যেন যাদুমন্ত্র স্মৃতি নৃত্য,
গভীরতম স্মৃতিরাও তখন পালাতে পারেনা।
ভালোবাসাকে যদি, কখনো আত্মারাও বিদায় বলে,
এবং আকাশ যেখানে সমদ্রে গিয়ে মিশে,
সেখানেও যেন ভালবাসার হয় পরিচয়।
পৃথিবীতে ভালবাসা থাকবে চিরকালই,
সমুদ্রে যেখানে স্মৃতি স্পর্শ মিলে।
ভালবাসা থাকবে জীবন্ত হয়েই,
ফিরে ফিরে আসবে, অনন্তকালের প্রবাহে।
continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (3)

ফেরদৌসী বেগম ( শিল্পী )

৫ বছর আগে লিখেছেন

ভালবাসার অনুভুতি

ভালবাসা যেন, মনের লুকানো কিছু অনুভুতি,
ক্রমাগত পরম ভালোলাগার প্রসারণ,
কিংবা কিছুটা সময়ের একান্ত বোধ।
ঘড়ির কাটার টিক টিক শব্দ করা,
আর হিমেল হাওয়ায় বয়ে চলা,
এ যেন হৃদয়ের অনন্ত অর্চি।
মুখের হাসিটাকে আচ্ছাদিত করে,
ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ের আশঙ্কায়,
সে এক যন্ত্রণা প্রকাশের ধ্বনি।
ভালবাসা যেন, মনের অনুভুতিতে কিছু ভাললাগা,
রঙিন প্রজাপতির মত পাখা দুটি মেলে,
উড়ে উড়ে বেড়ানো মনের সকল ভাব।
ছন্দময়ী সুন্দর একটি মন ছোঁয়া গান,
ফাল্গুনের মৃদুমন্দ বাতাসের আন্দোলন,
এ যেন হৃদয়ের অন্যরকম আনন্দ দোলা।
উষ্ণ আলোতে গ্রীষ্মের উজ্জল দিন,
আর গাছে গাছে পাখিদের সরবে কূজন,
সে এক হৃদয়ের প্রবল আবেগ উচ্ছ্বাস।
ভালবাসা যেন, জমে থাকা মনের অনুভুতি সব,
গভীর থেকে গভীরে গোপন করে রাখা,
সযতনে মনের অন্ধকার কক্ষটিতে।
মনের দরজা খুলে, দুর্গম পথ বেয়ে,
অবরুদ্ধ প্রণয়ে এগিয়ে যাওয়া,
এ যেন হৃদয়ের স্পন্দিত নিষ্পেষণ।
শ্রবনীয় হৃতপিন্ডের ধ্বনিত ঐকতান,
দুরুদুরু বুকের গম্ভীর প্রাণস্পন্দন ,
সে এক বাস্তব আর স্বপ্নে দোলানো জীবন।
continue reading
Likes ২১ Comments
০ Shares

Comments (21)

  • - ঘাস ফুল

    হিংস্র দানবরা পরীর বুবুকে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরী এই হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছে। বুবুর যন্ত্রণায় বাবাও গত হল। বুবুর স্মৃতি প্রতি নিয়ত পরীকে ভীষণ কষ্ট দেয়। বুবুকে নতুন করে দেখতে চায়, অন্তত একবারের জন্য হলেও। 

    না ফেরার দেশে চলে যাওয়া বড় বোনকে লেখা চিঠি পড়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। অনেক দরদ আর আবেগ আছে চিঠিটাতে। খুব ভালো লিখেছেন লীলাবতী। মন ছুঁয়ে গেলো। 

    - মিশু মিলন

    কি বলব! পড়ে খানিকটা নীরব হয়ে থাকার চিঠি।

    ভাল থাকুন।

    - আখতারুজ্জামান সোহাগ

    না ফেরার দেশে রয়েছে বোন, তার কাছে লেখা ছোট বোনের চিঠি। এ চিঠি কখনো খুঁজে পাবে না প্রাপক। সেটা আগেই জানা। কত সুনিপুণ ভাবে উঠে এসেছে প্রকৃতি, উঠে এসেছে আবেগ! ভালো লেগেছে আপু। কাল আপনাকে দেখেছিলাম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। তখন চিনতে পারিনি। আজ লেখা পড়ে চিনলাম।

    Load more comments...

ফেরদৌসী বেগম ( শিল্পী )

৫ বছর আগে লিখেছেন

সুদূর আমেরিকায় আমার সবজি বাগান!!

আমেরিকায় আসার আগে আমি কখনোই কল্পনাও করিনি, এখানে এসেও কোন একদিন আমি বাগান করবো। তাও আবার নিজের হাতে বাগান করে দেশীয় সবজি আর ফল খাওয়া।  প্রথম দিকে অবশ্য এতটা দেখিনি, কিন্তু এখন আমরা এশিয়ানরা এসে, একজনের দেখাদেখি আরেকজন, এক এক করে সবাই নিজের হাতেই দেশীয় সবজির বাগান করছে। আমাদের দেশীয়রা সবাই, যারা এপার্টমেন্টে বা ভাড়া বাসায় থাকেন তারাও বারান্দায় কিংবা অল্প একটু জায়গা পেলেই টবের মধ্যেই গাছ-গাছালী লাগিয়ে থাকেন। আর নিজের বাড়ি হলে তো কোনো কথাই নেই। দেশীয় লাউ, কুমড়া, সীম, ঢেঁড়স, মুলাশাক, লালশাক, ডাটাশাক, পুঁইশাক, কচুশাক আর কচুর লতি, আরো কত্তকি! এই সবই যখন যা পাওয়া যায়, তাই সবাই বাগানে লাগিয়ে থাকে। বাগান করা যেন আমাদের বংশ-পরম্পরা। আমার আব্বুর চাকুরীর সুবাদে দেশের অনেক জায়গায় যেতে হয়েছিল। তখন দেখতাম আমার আব্বু, যেখানেই যেতেন অফিসে কিংবা বাসার আশেপাশে যেটুকু জায়গা পেতেন, তাতেই লোক লাগিয়ে দিতেন বাগান করতে। দেখা যেত, আমার আব্বুকে দেখে অফিসের লোকেরাও খুব উৎসাহ পেতেন বাগান করার জন্য। তখন তো শুধুই দেখতাম কিন্তু আকর্ষণটা ঠিকই রয়ে গিয়েছে।
এখানে তো শীতের সময় কিছুই করা যায় না। কিন্তু আমার বাড়ীর ব্যাক-ইয়ার্ডে প্রতিবছরই গরমের সময় কিছু সবজি, ফুল আর ফলের বাগান করে থাকি। এত বেশি সব্জি না হলেও, নিজের হাতে গাছ থেকে সবজি তুলে আনা সে এক অন্যরকম আনন্দ। সবচেয়ে বেশী আনন্দ লাগে এই ভেবে যে আমি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে থেকেও আমার নিজের করা বাগানের গাছ থেকে কিছু দেশীয় সবজি তুলে নিতে পারছি। এই বাগান করার পর তা থেকে নিজেদের হয়ত ২/৩ বার খাওয়া হয়। আর বাকিটা অল্প করে হলেও এবং সবাইকে না পারলেও, যে কয়জনকে পারি, পরিচিত আর বন্ধুদের... continue reading
Likes ৩৫ Comments
০ Shares

ফেরদৌসী বেগম ( শিল্পী )

৫ বছর আগে লিখেছেন

গাছের শিকড়ের মতই যেন মানুষের জীবনটা !!

 
আমার ছোট ছেলে অসি, পাঁচ বছর বয়স তখন, মাত্র প্রি-কিন্ডারগার্টেনে দিয়েছি।  অসি এবং আমার মেঝু ছেলে শাওন দুজনকে স্কুল থেকে নিয়ে এসে সোফায় একটু বসতেই দরজায় কলিং বেল বেজে উঠে। অসি তখন "ভাইয়া এসেছে, ভাইয়া এসেছে" বলতে বলতে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই আমার বড় ছেলে অণি এসে ঢুকলো। অণিকে ঘেমে একাকার অবস্থা দেখে, আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম--
আমিঃ  কিরে বাবা, তোর এই অবস্থা কেন?
অণি-   বাহিরে খুব গরম আম্মু !!      
আমিঃ   কেন, স্কুল বাসে কি এসি ছিলনা?
অণি-   ছিলো তো। বাস থেকে নেমে বাসায় আসতে, এইটুকুতেই এক্কেবারে ঘেমে গিয়েছি। অনেক অনেক গরম বাহিরে।
আমিঃ  এই জন্যইতো আমি গাড়ি দিয়ে নিয়ে আসতে চাই তোকে, কিন্তু তুই ইতো নিজে নিজে আসতে চাস। যা, সোজা বাথরুমে গিয়ে গোছল করে আয় বাবা। আমি খাবার টেবিলে দিচ্ছি।
অণি বাথরুম থেকে এলে পরে, শাওনকে বাথরুমে পাঠালাম এবং অসিকে আমি অন্য বাথরুমে গোছল করায়ে নিয়ে এলাম। তারপর ছেলেদের জন্য খাবার টেবিলে দিয়ে দিলাম এবং আমি বসে টিভি দেখছিলাম। তার কিছুক্ষণ পর আমার বাগানে যাওয়ার কথা মনে পড়ল। সকালে ফজরের নামাজ পড়ার পর ছেলেদের স্কুলে দিয়ে এসে বাগানে গিয়ে গাছগুলোতে একবার পানি দিয়ে আসি আবার বিকেলে একবার পানি দিই, এই দুইবারই গাছে পানি দেওয়া হয়। দুপুরে ঠাঠা রোদ্দুরে গিয়ে গাছে পানি দেওয়ার সাহসই হয় না, তাই দুপুরে আর গাছে পানি দেওয়া হয়না। এই চাকুরিটা আমার করতে হয় মার্চ/এপ্রিল থেকে অক্টোবর/ নভেম্বর পর্যন্ত। সেই সকালে গাছগুলোতে পানি দিয়ে আসলে সারাদিনে রৌদ্রে শুকায়ে, গাছ এবং গাছের পাতাগুলো সহ একেবারে নুয়ে পড়ে। আবার বিকেলে গাছে পানি দেওয়ার পর রাতের আর্দ্রতায় যেন গাছগুলো সব তর-তাজা হয়ে উঠে, গরমের সময় এমনি করেই গাছগুলো বড় হতে থাকে। এইসব ভাবতে... continue reading
Likes ২৬ Comments
০ Shares

Comments (26)

  • - সকাল রয়

    ভাগ্যিস অধ্যাপিকা খুরশিদা বেগম অন্য ধর্মাবলীর হননি। তাহলে  আজ হয়ে যেত সংখ্যালঘু হামলা।

    • - রাজু আহমেদ

      সংখ্যালগু এবং সংখ্যাগরিষ্ট শব্দগুলোর জন্মদাতাদের পেলে একটা কিছু করতাম ।

    - শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

    ab¨ev`

    • - রাজু আহমেদ

      সেরকমটা আপনাকেও । ধন্যবাদ ভাই ।

ফেরদৌসী বেগম ( শিল্পী )

৫ বছর আগে লিখেছেন

আমার স্মৃতির একটি বই

 
 
স্মৃতির পাতায় লুকিয়ে থাকা,
সযতনে রেখেছি সবই মনের গভীরে।
দীর্ঘ দিনের সেই পুরানো দৃশ্যপট,
চেনা পথ-ঘাট সবই আছে মনে,
যদিও আজ সেইসব পাল্টে গেছে।
তবুও ভুলিনি, সবই স্ফটিকের মত আছে। 
ছিল আমার যত আশা-আকাঙ্ক্ষা,
রঙিন করে দেখা সব স্বপ্ন গুলো,
চোখ জুড়ানো ছবিতে, ভরে রেখেছি।
ভালো সময় আর খারাপ সময়,
সব মিলিয়ে তো বেশ ভালই ছিল,
এই সবই তো আমার স্মৃতিতেই আছে।  
শিশুকালের চঞ্চলতা আর দুষ্টুমির খেলা,
কিশোরী মনে জাগা আনন্দের দোলা,
পরম সুখের সাগরে তখন ভেসেছিলাম।
কিযে লাজুক ছিলাম তখন আমি!
মাঝে মাঝে কত যে অবাক হয়েছি,
ভুলিনি কিছুই, এখনো সব মনে আছে।
প্রাণ খুলে কতইনা আনন্দে হেসেছি,
পরম আহ্ব্লাদে কতইনা কেঁদেছি,
ব্যথার যন্ত্রনায় কত গুঙ্গিয়েছি,
শুধু শুধু ভয়ে কত যে শিহরিত হয়েছি!
যা কিছু যায়না বলা, যা কিছু যায়না ভুলা,
এই সব কিছুই মনের গভীরে লুকিয়ে আছে।  
মনে ছিল যত গভীর ভাবনাগুলো,
আর চাওয়া-পাওয়ার সব ইচ্ছাগুলো,
এই সমস্ত কিছুই আমার সাথেই থাকে।
সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া স্মৃতিগুলো সব,
আমার কাছেই, যত্ন করে যেখানে রেখেছি,
আর সেটাই হলো, আমার স্মৃতির একটি বই।
continue reading
Likes ১৬ Comments
০ Shares

Comments (16)

Load more writings...