নাজনীন পলি

৩ বছর আগে লিখেছেন

নেকড়ে অরণ্যে (প্রতিযোগিতা/২০১৬) ক্যাটাগরী-২ পর্ব-৪

 

পুরো অফিস নিস্তব্ধ । ছুটি শেষে সবাই চলে গেছে । রাজিবুল ইসলাম কাজ বুঝিয়ে দেবেন বলে হাসিকে বসিয়ে রেখেছে । সন্ধ্যা যেয়ে রাতে পা দিচ্ছে । হাসি বুঝতে পারছে না কি এমন কাজ বুঝিয়ে দেবেন বলে বস তাকে বসিয়ে রেখেছে । গতকাল হাসি তার ছোট বোনের বিয়ের জন্য বসের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার চেয়েছিল , আজ কি বস ওর সাথে সে ব্যাপারে কথা বলবে ? একা একা বসে থেকে হাসির একটু একটু ভয় ও লাগছে । হাসি রাজিবুলকে ছুটির জন্য তাড়া দিতেও পারছে না যদি বস টাকাগুলো আর না দেয় ।

হাসি দেখে রাজিবুল কেমন যেন টলমল পায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছে । রাজিবুল আসতে আসতে হাসির মুখের দিকে ঝুঁকে আসে , হাসির মনে হয় বস ওর ঠোঁটের সাথে ঠোঁট ছোঁয়াতে চায় । হাসি চট করে সরে যেতে যেয়ে বসের মুখে অ্যালকোহলের গন্ধ পায় । বোকার মত প্রশ্ন করে স্যার আপনি কি নেশা করেছেন ? এবার রাজিবুল হাসির দু’বাহু চেপে ধরে বলে, তোমার মত সুন্দরী সামনে থাকলে নেশাতো এমনিতেই হয়ে যায় । এরপর রাজিবুল নেকড়ের রূপ ধারণ করে হাসির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে । হাসির শরীর থেকে তার বস্ত্রকে খুলে নিয়ে নগ্ন দেহে বসিয়ে দেয় নখের আঁচড় , দাত দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে দেয় প্রস্ফুটিত যৌবন । উত্থিত লিঙ্গ নিয়ে কুমারী মেয়ের সতীত্ব ভাঙ্গার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠে । হাসির সব প্রতিরোধ নেকড়ের শক্তির কাছে পরাজয় মানে । কুমারীত্বের রক্ত ছিটে পড়ে সমস্ত ফ্লোর জুড়ে , রাজিবুল উল্লসিত হয় আর হাসি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে । কতক্ষণ পর রাজিবুলের ভিতরের নেকড়ের খিদে মিটে যায় । হাসির দিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ছুড়ে দিয়ে বলে এই নাও তোমার টাকা । হাসির চোখ বিদ্রোহে জ্বলে ওঠে । টাকার উপর থুথু ছিটিয়ে চলে আসে ।

অবিন্যস্ত চুল আর কুঁচকানো জামা পরে হাসি বেরিয়ে আসে রাস্তায় । কার কাছে যেয়ে বিচার চায়বে সে । পুলিশের কাছে যাবে ? কিভাবে নিজের অপমানের বর্ণনা দিবে সে ? রাজিবুলের মত লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়বে সে , কে এসে পাশে দাঁড়াবে ওর ? এসব প্রশ্ন ওকে আরও বিধ্বস্ত করে তোলে । অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে থাকে কয়েক জনের সাথে ধাক্কা লাগে , কেউ কেউ বলে উঠে আরে পাগল নাকি !

 

হাসির চোখ জ্বলে যায় , মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা । বুকের ভিতর ভীষণ চাপ অনুভব করে সে । মনে হয় কারো বুকে মাথা রেখে যদি একটু কাঁদতে পারতো । বাবা মারা যাবার পর সমস্ত আত্মীয় পরিজনের মুখোশ খুলে গেছে ওর সামনে । একেকজন মানুষরূপী নগ্ন  নরক পশু । সমস্ত পৃথিবীর উপর ক্ষোভ জমতে থাকে হাসির । মনে হয় এ মুহূর্তে ও যদি ধূলিকণার মত হাওয়ায় মিলে যেতে পারতো ! ওর জীবনটা কেন এমন হল ? ওর বাবাকে কেন এত কম সময়ে চলে যেতে হল । বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলেই যদি যাবে কেন মা ছোট ভাই বোনদের বোঝা ওর কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে গেলেন ? কেন বত্রিশ বছর বয়সেও ওর কোন সংসার হল না ? মাহফুজের কথা খুব মনে পড়ছে আজ । সেদিন মাহফুজকে ফিরিয়ে না দিলে আজ ওদের একটা সংসার থাকতো , ছোট একটা বাচ্চা থাকতো । মাহফুজ সাথে থাকলে নিশ্চয় আজ এভাবে কেউ ওকে অপমান করতে পারতো না ।

 

হাসি ভাবতে থাকে সে কি তার মাকে ফোন দিবে । ছোটবেলায় মায়ের কোলে মাথা রাখলেই সমস্ত দুঃখ কষ্ট নিমিষেই  দূর হয়ে যেত । কিন্তু মা’কে ফোন দিয়ে কি বলবে সে । কাল ছোট বোন খুশির বিয়ে । মা নিশ্চয় এখন খুব ব্যস্ত । তাছাড়া বিয়ের টাকাটা ও হাসি জোগাড় করতে পারলো না ।

হাসির আর কাউকে ফোন করা হয় না । সামনে একটা ওষুধের দোকান দেখে ঢুকে পড়ে । দোকানদারের শ্যেন দৃষ্টি উপেক্ষা করে এমারজেন্সি কন্ট্রাসেভটিভ কিনে নেয় । হাসি কোনভাবেই নেকড়ের বীজকে শরীরে বাসা বাঁধতে দিতে চায় না । অপমানের সাজা হয়তো সে দিতে পারবে না কারণ এসব অপরাধীদের হাত অনেক লম্বা । কিন্তু তাদের বিষাক্ত বীজকে তো ধ্বংস করতেই পারে ।

 

রাত দশটা বাজে । হাসির হোস্টেলের রুমমেটরা হাসির জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে । হঠাৎ হাসিকে রুমে ঢুকতে দেখে সবাই ছুটে আসে , সমস্বরে বলে কি হয়েছে আপু ? শরীর খারাপ নয়তো ? হাসি কোন মতে বলে , আমি একটু গোসল করতে চাই । বাথরুমে ঢুকে ট্যাঁপ ছেড়ে দিয়ে ট্যাঁপের নিচেই বসে পড়ে সে । ট্যাঁপের পানি আর চোখের নোনা পানিতে হাসি ভেসে যেতে থাকে ।

Likes Comments
০ Share

Comments (7)

  • - প্রলয় সাহা

    তোমাতে আমাতে 
    কোনো দূরত্ব তাই আমি 
    দেখি না দেখি না...
    বাহ্‌ গুরুজ্বী বাহ্‌ emoticons