তৌফিক পিয়াস

৫ বছর আগে লিখেছেন

Happy New Year

দেখতে দেখতে দেখি
পারি হল সাল,
বছরটা গেল যেন
মিষ্টি ও ঝাল।
অনেক কে হারিয়ে
অনেক কে পেয়ে,
গীটারটা হাতে নিয়ে
গলা ফেড়ে গেয়ে।
অনেক কিছু দেখে
শিখে ও শিখিয়ে,
ঝগড়া বিবাদ সব
শান্ত মিটিয়ে।
আজকে সবার শেষে
মিলেছি আবার,
বলবো তোমাদের
হ্যাপি নিউ এয়ার।
continue reading
Likes ১৩ Comments
০ Shares

Comments (13)

  • - আলমগীর সরকার লিটন

    চেতনাবোধ লাগল --

    - নাজনীন পলি

    ভালো লাগলো ............।

    - আহমেদ ইশতিয়াক

    সত্যিই সমকালীন! ভালোই লিখেছেন...

    Load more comments...

তৌফিক পিয়াস

৫ বছর আগে লিখেছেন

বেওয়ারিশ লাশ

আমি একটা বেওয়ারিশ লাশ। এমন না যে আমার বাবা মা নাই। এরকমও না যে তারা কেউ বেঁচে নাই। তারপরেও আমি বেওয়ারিশ। আমার দেহটা পরেই আছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে। আমার এমন অবস্থা কিভাবে হল তা শুনবেন? আসুন তাহলে শুরু থেকে শুরু করি।
আমার নাম শংকর দাস। ধর্মে হিন্দু তা তো বুঝাই যায়। আমাদের জাত নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়না। কারণ আমরা নিচু জাতের। তবে আমাদেরও জাত আছে। শুদ্র। ধর্মের কথা আগে আনার কারণ আছে। সেটা শেষে গিয়ে ধরতে পারবেন আশা করছি। আমার বাবা দাওকান্দি গ্রামের একজন মুচি। দাওকান্দি বাজারে রাস্তার ধারের একটা গাছের নিচে বসে উনি হাজার মানুষের জুতা সেলাই করেন। মানুষটা ভগবানের আশীর্বাদে খুব কষ্ট করেন। আমি তার একমাত্র সন্তান।আমার আগে আরও একটা ছেলে হয়েছিল। ভগবান তার ভাগ্য বলে কিছু লিখে নাই। আড়াই মাসের মাথায় নিওমনিয়া হয়ে মারা যায়। বাবা জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। তার যুগে জাত-জাতি ভেদাভেদির কারনে উনি ইচ্ছা থাকা সত্তেও পড়াশুনা করতে পারেননি। কিন্তু আজ যুগ পাল্টে গেছে। তাই আমার বাবাও চায় না যে আমরা তার মত কষ্ট করি। তাই আমাকে পড়াশুনা করানোর জন্য তিনি সব কিছু করেছেন। ধার-কর্য, কিস্তি করে হলেও তিনি কোনদিন আমার পড়াশুনার কমতি করেননি। নওহাটা কলেজ থেকে পাশ করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নওহাটা কলেজ পর্যন্ত গিয়ে ঘুরে আসে। নওহাটা থেকে দাওকান্দি ১৬ কিলোমিটার হয়। আমার বাড়ি আরও সাড়ে চার কিলো। যাওয়া আসার সমস্যার কারনে মাদারবক্স হলে থাকি। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার করে আমি বাড়ি আসি। মা খুব খুশি হয়। হলের খাবার ভাল হয়না ভেবে আমার জন্যে বেলে মাছ এর ভর্তা আর খেসারির ডাল রান্না করে। আমি... continue reading
Likes ১৯ Comments
০ Shares

Comments (19)

  • - ধ্রুব তারা

    ভাই আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিব বুঝে পাচ্ছি না। অনেক ধন্যবাদ।

    • - ডাঃ এন এইচ সার্জা

      শুভেচ্ছা রইলো!

    - রুদ্র আমিন

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

    • - ডাঃ এন এইচ সার্জা

      শুভেচ্ছা রইলো!

    - জাকিয়া জেসমিন যূথী

    আপনার সাথে টুইটারে বন্ধুতা আছে আমার। 

    এখানে দেখে আশ্চর্য হোলাম। এবং পড়তে এসে চমতকৃত ও উপকৃত হোলাম। 

    • - ডাঃ এন এইচ সার্জা

      অনেক ধন্যবাদ! 

    Load more comments...

তৌফিক পিয়াস

৫ বছর আগে লিখেছেন

বেওয়ারিশ লাশ

আমি একটা বেওয়ারিশ লাশ। এমন না যে আমার বাবা মা নাই। এরকমও না যে তারা কেউ বেঁচে নাই। তারপরেও আমি বেওয়ারিশ। আমার দেহটা পরেই আছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে। আমার এমন অবস্থা কিভাবে হল তা শুনবেন? আসুন তাহলে শুরু থেকে শুরু করি। আমার নাম শংকর দাস। ধর্মে হিন্দু তা তো বুঝাই যায়। আমাদের জাত নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। কারণ আমরা নিচু জাতের। তবে আমাদেরও জাত আছে। শুদ্র। ধর্মের কথা আগে আনার কারণ আছে। সেটা শেষে গিয়ে ধরতে পারবেন আশা করছি। আমার বাবা দাওকান্দি গ্রামের একজন মুচি। দাওকান্দি বাজারে রাস্তার ধারের একটা গাছের নিচে বসে উনি হাজার মানুষের জুতা সেলাই করেন। মানুষটা ভগবানের আশীর্বাদে খুব কষ্ট করেন। আমি তার একমাত্র সন্তান। আমার আগে আরও একটা ছেলে হয়েছিল। ভগবান তার ভাগ্য বলে কিছু লিখেনাই। আড়াই মাসের মাথায় নিওমনিয়া হয়ে মারা যায়। বাবা জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। তার যুগে জাত-জাতি ভেদাভেদির কারনে উনি ইচ্ছা থাকা সত্তেও পড়াশুনা করতে পারেননি। কিন্তু আজ যুগ পাল্টে গেছে। তাই আমার বাবাও চায় না যে আমরা তার মত কষ্ট করি। তাই আমাকে পড়াশুনা করানোর জন্য তিনি সব কিছু করেছেন। ধার-কর্য, কিস্তি করে হলেও তিনি কোনদিন আমার পড়াশুনার কমতি করেননি। নওহাটা কলেজ থেকে পাশ করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নওহাটা কলেজ পর্যন্ত গিয়ে ঘুরে আসে। নওহাটা থেকে দাওকান্দি ১৬ কিলোমিটার হয়। আমার বাড়ি আরও সাড়ে চার কিলো। যাওয়া আসার সমস্যার কারনে মাদারবক্স হলে থাকি। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার করে আমি বাড়ি আসি। মা খুব খুশি হয়। হলের খাবার ভাল হয়না ভেবে আমার জন্যে বেলে মাছ এর ভর্তা আর খেসারির ডাল রান্না করে।... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - রুদ্র আমিন

     যতটুকু জ্ঞান আছে চেষ্টা করি। আপনার কবিতায় অনেক কিছু জানতে পারলাম ভাইজান। সুন্দর এবং শেখার মতো কবিতা।

    - জিয়াউল হক

    ছড়া পড়ে মুগ্ধ হলাম কিন্তু ভাবিত হলাম বাংলা একাডেমির ঘন ঘন বানান রীতি পরিবর্তনের কারণে। আসল সমস্যাটা যে কোথায় কে জানে!

    - শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

    বাঙলা একাডেমীর বানান রীতি অনুযায়ী আগে যা শিখছিলাম সব উল্টাপাল্টা লাগে। কি আর করা।

    Load more comments...

তৌফিক পিয়াস

৫ বছর আগে লিখেছেন

ভোট

কালকে নাকি সকাল থেকে দেওয়া হবে ভোট,
হাশেম মিয়াঁ, ভোটটা দিবেন, পড়ে লুঙ্গি-কোট।
কামাই এবার করবেন দাদা, পকেট হবে পুরু,
সকাল থেকে ভোট কেনাবেচা করবে নেতারা শুরু।
মানিব্যাগটা লাফিয়ে উঠবে, একশ দুশোর নোটে,
বেনসনেরই বিড়ি থাকবে, কালো কালো ঐ ঠোঁটে।
এরকমই সব স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভাঙলো দাদার,
সকাল থেকেই দেখা হয় যেন পরম লক্ষ্মি-রাধার।
গসুল সেরে, পাওডার মেখে চুল গুলো শেতি করে,
রেডি হয়ে গেলেন, হাশেম মিয়াঁ, ভোটের দিনের ভোরে।
দশটা নাগাদ বুথে চলে এসে, দাদা ঘুর ঘুর করেন,
ধৈর্যহারা দাদা যে আমার টাকার জন্য মরেন।
লোকের পরে লোক দাঁড়িয়ে, লম্বা হয়েছে সারি,
ক্ষুধার জ্বালায় চুরবুর করে, দাদার শুকনো নাড়ি।
ভোটটা উনি বেচবেন বলে পিছিয়ে পিছিয়ে দাঁড়ান,
গরমের চোটে বেচারা দাদা রুমাল ঝাড়িয়ে নাড়ান।
সকাল গেল, দুপুর গেল, বিকাল গড়িয়ে আসে,
লক্ষ্মি-রাধা অন্যের ঘরে খিলখিলিয়ে হাসে।
বিগারে দাদার পিনিক তখন মাথায় বসেছে চড়ে,
ভোট তো দাদা দিবেন না বলে হটে গেলেন সরে।
continue reading
Likes ১২ Comments
০ Shares

Comments (12)

  • - ফেরদৌসা রুহি

    পড়লাম কিন্তু কি বলব ভাবছি

    চলুক যার যেমন খুশি।

    তবে কথা কিন্তু মন্দ বলেনি

    • - ধ্রুব তারা

      ধন্যবাদ আপা মন্তব্যের জন্যে

    - শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

    তাঁরা খ্যাতিমান লেখক, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, সচিব, ব্যবসায়ী, ঠিকাদারদের অখাদ্য-কুখাদ্য পেলেই শুধু কোনো দিক থেকে শব্দ সংখ্যা কমিয়ে পত্রস্থ করতে পারলেই চাকরিজীবন সার্থক মানেন। আর এসব ব্লগে যাঁদের লেখা পোস্ট হয়, তাঁরা এত বেশি আবেগে উদ্বেল থাকেন যে, একই রচনা একই সঙ্গে একাধিক ব্লগে পাঠানোর ভেতর আত্মতৃপ্তি খোঁজেন।

    লেখাটায় বাস্তবতা আছে। ধন্যবাদ

    - ধ্রুব তারা

    আপনাকেও ধন্যবাদ

    Load more comments...

তৌফিক পিয়াস

৫ বছর আগে লিখেছেন

হায়রে পড়াশুনা

পড়াশুনা পড়াশুনা করে আমাদের পুরো জীবনটাই শেষ বলতে গেলে। তাই দেখি এটা নিয়ে কি লেখা যায়।
পড়িতে পড়িতে বাড়া,
যাইতেছি আমি মারা,
পড়িতে না আর ভাল লাগে।
মাথা মুথা চুল খাড়া,
কবিরাজে দিল ঝাড়া,
বই খানা ছিঁড়ে ফেলি রাগে।
বয়সে হইয়া পাঁচ,
কখনো করিনি আঁচ,
পড়াশুনা হবে এত জ্বালা।
কপালে পড়িল ভাঁজ,
চোখেতে লাগিল কাঁচ,
কান বুঝি হয়ে গেল কালা।
সকাল সকাল উঠি,
খাইয়া ভাজি ও রুটি,
মাথা গুজে পড়া করি শুরু।
স্কুলে চুনো পুঁটি,
কখন যে হবে ছুটি,
এই বুঝি এসে গেল গুরু।
ভয়ে যে কাপিল পা,
ভুলে গেছি সব, যা!
ধরলে কি বলব না জানি।
স্কেল এ বারি খা,
ডাকিয়া আনিল মা,
অপমানে মাথা গেল হানী।
বিজ্ঞান দিল মোরে,
“ডাক্তার বানাব তোরে”
বলে দিল বাপ মা দুজনে।
মাথায় ঢুকে না, ওরে!!
কার সাথে কি যে জোরে,
বাচবোনা বুঝি এই ভুবনে।
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে অত
পড়াশুনা হল কত?
খাচ্ছি তো ঘাড়ে বসে তোমারই।
বেকার বসেছে যত,
মাথা তারা করে নত,
পড়াশুনা লাভে হল সবারই।
continue reading
Likes ১১ Comments
০ Shares

Comments (11)

  • - সালাহ্‌ আদ-দীন

    শত কর্ম ব্যস্ততার মাঝে ললিতকলার চর্চায় নিবিষ্ট তরুন কবি শফিকুল ইসলাম এর জীবন ঘনিষ্ট সাহিত্য কর্ম শ্রাবন দিনের কাব্যএক দুঃখ-বেদনা বিরহের প্রতীক । যেখানে কোন শব্দ জড়তা নেই ,শব্দের বাহুল্য নেই । নিরীক্ষা প্রয়াসী কবি ছন্দের সযত্ন শাসন মেনে শব্দ চয়ন,পঙক্তি বিন্যাস ,প্রতীক উপমা উৎপ্রক্ষায় যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ ঘাত-প্রতিঘাতের অব্যক্ত বানী ব্যক্ত করে সমৃদ্ধ করেছেন শ্রাবণ দিনের কাব্য

     

    পড়তে পারলে ভাল লাগত। 

Load more writings...