লোডিং ...
Site maintenance is running; thus you cannot login or sign up! We'll be back soon.

আজ ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তির কাণ্ডারি বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয় । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয় । সেদিনই বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় আকাশবানী কলকাতা রেডিও থেকে তাজউদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন । তাঁর এই ভাষণে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অকুতভয় সংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলা সরকার গঠনের কথা । পাক হানাদারদের রুখে দেয়ার জন্য সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে পাক বাহিনীকে পরাস্ত করার সংবাদ ফুটে উঠেছিল তাঁর এই ভাষণে । স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আহ্বান জানাচ্ছি সমস্ত বুদ্ধিজীবী, টেকনিশিয়ান, ইনজিনিয়ার, সংবাদপত্র সেবী, বেতার শিল্পী, গায়ক ও চারুশিল্পীদের, তারা যেন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্যে এগিয়ে আসেন । আমাদের সামনে বহুবিধ কাজ-তার জন্য বহু পারদর্শীর প্রয়োজন এবং আপনারা প্রত্যেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করবার সুযোগ পাবেন”।, তাজউদ্দীন আহমদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এই যুদ্ধে বাঙালি জাতিই বিজয়ী হবে । তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, “এ যুদ্ধে যে আমাদের জয় অবশ্যম্ভাবী তাতে সন্দেহের কারণ নেই । আপনারা ইতিমধ্যে সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে যে বিজয় অর্জন করেছেন শত্রুপক্ষ আজকে তা স্পষ্টই বুঝতে পেরেছে । তারা ভেবেছিল যে, আধুনিক সমর সজ্জায় এবং কামানের গর্জনের নীচে স্তব্ধ করে দিবে বাঙ্গালির ভবিষ্যৎ আশা-ভরসা । আর চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখিয়ে বাঙ্গালিকে তারা বুটের নীচে নিষ্পেষণ করবে । কিন্তু তাদের সে আশা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে । আমরা তাদের মারমুখী আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছি এবং তাদেরকে যে প্রতিনিয়ত হটিয়ে  দিচ্ছি এতে তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে । তাদের খাদ্য সরবরাহের সকল পথ আজ বন্ধ, ঢাকার সাথে আজ তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । উড়োজাহাজ থেকে খাবার ফেলে এদেরকে ইয়াহিয়া খান আর বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারবে না । ওদের জ্বালানি সরবরাহের লাইন আমাদের মুক্তিবাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে । ইয়াহিয়ার উড়োজাহাজ আর বেশি দিন বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে না । বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি উত্তাল জনসমুদ্রের মাঝখানে ওরা আজকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত । বাংলাদেশের আকাশে শীঘ্রই ঝড়ের মাতন শুরু হচ্ছে । ওরা জানে ওরা হানাদার । ওরা জানে ওদের বিরুদ্ধে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের ভ্রুকুটি ও ঘৃণা । ওরা ভীত, - ওরা সন্ত্রস্ত, - মৃত্যু ওদের সামনে পরাজয়ের পরোয়ানা নিয়ে হাজির । তাই ওরা উন্মাদের মত ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে”।, তাজউদ্দীন আহমদ আরোও বলেন, “যারা আমাদের সংগ্রামে শরিক হতে চান তাদের জন্য রইল আমাদের আমন্ত্রণ । যাদের পক্ষে নেহাৎই মুক্ত এলাকায় আশা সম্ভব নয় তাদেরকে আমরা আশ্বাস এবং প্রেরণা দিচ্ছি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষ থেকে, শহীদ ভাই বোনদের বিদেহী আত্মার পক্ষ থেকে । শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না । ইনশাআল্লাহ্‌, জয় আমাদের সুনিশ্চিত”। 

আপনার সমস্যা সম্পর্কে দয়া করে আমাদের জানান