Travel Image

চন্দ্র বর্মন কোট : প্রাচীন বাংলার রাজধানী



আমাদের ভ’খন্ডের অস্তিত্ব বহু প্রাচীন। ধারনা করা হয়, যাযাবর জাতীয় লোক সর্ব প্রথম এখানে আসেন। খ্রিষ্টপুর্ব পঞ্চ দশ শতকে ভারত বর্ষেও এই অঞ্চলে আর্যদের আগমনের আগে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা সংবলিত বিভিন্ন জনপদে কৃষি ভিত্তিক নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। লোকজনও খুব পরিশ্রমী ছিল। কৃষি কাজ করে প্রার্চুযময় জীবন যাপন করতে পারতেন। জনপদগুলো সাধারনত দেশের বড় বড় নদ নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। মৌর্য শাসনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার শাসন ক্ষমতা বিভিন্ন রাজ বাংলার শাসন ক্ষমতা বিভিন্ন রাজ পরিবারের হাতে চলে যায়। এছাড়াও কিছুকিছু বিদেশী রাজ বংশ আংশিক বঙ্গ শাসন করেন। এদেও মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো গ্রিক, শক, পহলক, কুষান প্রভৃতি রাজবংশের রাজন্যরা। কুষান রাজ বংশের শাসনামলের কিছু স্বর্নমুদ্রা বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে। তবে এই রাজারা কি ভাবে কত দিন কোন কোন অঞ্চলে শাসন করতেন তার সঠিক তথ্যাবলি লিখিত আকারে নেই। বাংলায় গুপ্ত রাজ বংশের সুচনা হয়েছিল ৩২০ খিষ্টাব্দে। কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন যদিও গুপ্ত সম্রাটরা প্রায় পুরো ভারত বর্ষ শাসন করেছিলেন তবে তাদের নিবাস ছিল বঙ্গে। সঠিক তথ্য এবং প্রমানের অভাবে এ ধারনা গৃহীত হয়নি। তবে গুপ্ত সম্রাট প্রমান চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে উত্তরবঙ্গে কিছুটা স্থান সম্রাজ্যের অন্তভুক্ত হয়ে ছিল। ষষ্ঠ শতকের গোড়ার দিকে দুর্ধর্ষ পাহাড়ি জাতি হুনদের প্রবল আক্রমনে মহাপরাক্রমশালী গুপ্তসম্রাজ্যেও পতন ঘটে। ফলে ভারতবর্ষে একক শাসনে ফাটল ধরে। গুপ্ত সাম্রারাজ্য টুকরা টুকরা হয়ে প্রায় হয়ে প্রায় পঞ্চাশটি ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হলো। এদের মধ্যে বঙ্গরাষ্ট্র এবং গৌড় ছিল সবচেয়ে শক্তি ধর। আনুমানিক৫২২ খিষ্টাব্দে প্রাচীন বঙ্গের সবচেয়ে শক্তি ধর রাজ্যের পত্তন হয়। মনে করা হয় বঙ্গের দক্ষিন অঞ্চল অর্থাৎ বর্তমানে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এর রাজধানী ছিল। রাজধানীর নাম ছিল চন্দ্র বর্মন কোট। দুঃখের বিষয় যে চতুর্থ শতকের পুর্বেকার কোটালী পাড়ার কোন ঐতিহাসিক দলিল বা লিখিত নজির নেই বললেই চলে, যা আছে তা নিতান্তই ছিটে ফোটা। আনুমানিক ৩১৫ খিষ্টাব্দে বাকুড়ার পুরস্কারের রাজা সিংহ বর্মার পুত্র চন্দ্র বর্মন সর্ব প্রথম কোটালীপাড়া জয় করেন এবং চন্দ্র বর্মন কোট নামে একটি মাটির দুর্গ নির্মান করেন আয়তাকার এই দুর্গ নগরটি ১৭.৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়ে ছিলো এই দুর্গের দৈর্ঘ এবং প্রস্থ খুব একটা আলাদা ছিলো না। দৈর্ঘ্য ছিলো ৪.৭৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ছিলোপ্রায় ৪ কিলো মিটার। এর চার দিকে চারটি মাটির প্রাচীর ছিল এবং প্রচীরের বাইরে ১০ কিলো মিটার উচ্চতা ছিল। সমতর ভ’মি থেকে প্রায় ১২.৮৪ মিটার এবং প্রায় ৪০.৫০ মিটার প্রশস্ত ছিল। প্রাচীর ও প্রতি রক্ষা পরিখা সমূহ এখনো বিদ্যমান। পুর্ব দিকের প্রাচীরের মাঝামাঝি স্থানে কিছুটা অংশ ফাঁকা ছিল। সম্ভবত এটি ছিল রাজ দুর্গের প্রবেশের সিংহদ্বার মাটি দ্বারা নির্মিত মূও দুর্গটি ছিল ৩০০ফুট উঁচু। আজো ওই সিংহদ্বারটি বড় ভাঙ্গা নামে পরিচিত। গুপ্ত সম্রাটদের দুর্বলতার সুয়োগে ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গজনপদে তাবৎ বাংলার সর্বকালের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী স্বাধীন রাষ্ট গঠিত হয় যার নাম ছিল বঙ্গরাষ্ট। এই স্বাধীন রাষ্ট্রটিই ছিলো প্রাচীন বাংলার বৃহত্তর রাষ্ট্র এবং রাজধানী ছিল চন্দ্রবর্মন কোট, অর্থাৎ বর্তমান কোটালপিাড়ার এই রাজ্যটির পুর্বে ছিল বর্তমান ব্রম্মদেশ, পশ্চিমেছি ল বর্তমান ওড়িষ্যা, দক্ষিনে ছিলো বঙ্গোসাগর এবং উত্তরে ছি হিমারয় পর্বত। মহাপরাখ্রমশীল রাজ্য গোপ চন্দ্র আনুমানিক ৫২৫ খ্রি: চন্দ্রবর্মন কেটে রাজধানী স্থাপন করে মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারন পূর্বক রাজ্যেও শাসনভার গ্রহন করেন সুতরাং চন্দ্রবর্মন কোট হলো বৃহত্তর বঙ্গের সর্ব প্রথম রাজধানী ।