Sports Image

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের সত্য প্রতিনিধি



ক্রিকেট অভিজাত লোকের খেলা, ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। ইংরেজিতে একটা কথা বলা হয়ে থাকে ‘ক্রিকেট ইজ এ জেন্টলম্যান’স গেম’। কালের বিবর্তনে সেই চেতনা কিছুটা হারিয়ে গেলেও আজও তার কিছু বিশুদ্ধ প্রতিনিধি আছেন। যাদেরকে দেখলেই মনে হবে খেলাটি বুঝি ভদ্রলোকেরাই খেলেন।
১৯৮৩ সালের ৩১ মার্চ সাউথ আফ্রি কার ডারবানের নাটালের জন্মগ্রহণ করেছিলেন হাশিম আমলা। ৬ ফুট লম্বা এই মানুষটি ১১২ টি একদিনের ইনিংসে ইতিমধ্যেই করেছেন ২০ টি শতক ও ২৮টিই অর্ধ শতক। ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৫৫.২৬. একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ৪,৫,৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। মোট রান করেছেন ৫৬৯২. সর্বোচ্চ ১৫৯ রান। টেস্ট খেলেছেন ৮২টি। রান করেছেন ৬৭৫৭. এভারেজ ৫২.৭৮। যার মধ্যে আছে ২৩টি শতক ও ২৮টি অর্ধ শতক।

সর্বোচ্চ ৩১১ রান। এছাড়াও টি-২০ খেলেছেন ২৬টি আর রান করেছেন ৬০০টি। গড় ২৫.সর্বোচচ করেছেন ৫৬ রান। আমলা প্রথম আলোয় আসেন উ-১৯ বিশ্বকাপ ২০০২ তে সাউথ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দিয়ে। এবং প্রথম দলে ডাক পান ২০০৪-০৫ সালে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে। তারপরই দলে থাকা যখন হুমকির মুখে পড়ে গেছিল তখন নিউজিল্যান্ডের সাথে নিশ্চিত হারা ম্যাচে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে হারের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং ম্যাচ ড্র করেন। তারপর ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তিনি খেলেন এক বিস্ময়কর সিরিজ।

তিনি পুরো টেস্ট সিরিজে মাত্র একবার আউট হন আর রান করেন ৪৯০. এভারেজ ছিলো ৪৯০. তারপর ক্যারিবীয় সফরে ৫ ম্যাচের একদিনের সিরিজে ২টি সেঞ্চুরি করে দলে তার জায়গা নিশ্চিত করেন ভালোভাবে। যা তাকে জায়গা করে দেয় টি-২০ স্কোয়াডে ও। ২০১২ সালের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন নিজের ব্যাক্তিগত ও সাউথ আফ্রিকার পক্ষে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। তার অবদান ছিলো ২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার সেমি ফাইনালে উঠার পথেও। সেখানে তিনি ৫ ম্যাচে করেন ১৮৫ রান। এই বছরের ডিসেম্বরেই তিনি একটি ডাবল হান্ড্রেড করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২০১৪ এর শেষ দিকে তিনি হয়ে যান সাউথ আফ্রিকার পক্ষে ওডিআই ও টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। হাসিম আমলার ছোট ভাই আহমেদ ও একজন ক্রিকেটার।

যিনি বর্তমানে সাউথ আফ্রিকান টিম ডলফিনের অধিনায়ক। আমলা যে একজন সত্যিকারের মুসলিম তার প্রমান তিনি সব সময় খুব ভালোভাবেই দিয়ে থাকেন। তিনি কখনো তার জার্সিতে কোন মদ/এ্যালকোহল এর লোগো ব্যাবহার করতে দেননি যার কারণে তাকে প্রতি মাসে জরিমানা ও গুনতে হয়। তিনি ড্রেসিং রুমে সময় পেলে কুরআন শরিফ ও পড়েন। এছাড়া ও ওয়েইন পার্নেল মুসলিম হওয়ার পথে সব ছেয়ে বড় অবদান রাখেন আমলা। তার সম্পর্কে স্টেইন একবার একটি কথা বলেন। কথাটি ছিল নিম্মরুপ : আমি একবার বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেছি এবং হাসিম ও ভুলে গেছে। তারপর আমার মনে হলে আমি বিসমিল্লাহ পড়ে নিই এবং হাসিম কে বলি যার ফলে ও আমাকে ধন্যবাদ দেন। সত্যিকারের একজন আদর্শ মুসলিম ক্রিকেটারের নাম হল হাসিম আমলা। রেসপেক্ট।