Lifestyle Image

শিশুকে করে তুলুন খাবারের প্রতি আগ্রহী



দুধ বা শাকসবজি বেশিরভাগ শিশুরই মুখে রোচে না। পুষ্টিকর খাবারে প্রতি তারা যেন রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করে বসে থাকে। জোর জবরদস্তি করে খাওয়ানোর ফলে খাবারের প্রতি বিতৃষ্ণা ও অনাগ্রহ তাদের প্রতিনিয়ত বেড়েই চলতে থাকে। কিন্তু পুষ্টিকর খাবার না খেলে আপনার সন্তান সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠবে কীভাবে? হোন একটুখানি কৌশলী আর আপনার শিশুকে করে তুলুন খাবারের প্রতি আগ্রহী।

মেন্যু তৈরি
সপ্তাহের শেষে সন্তানকে নিয়ে বসে পুরো সপ্তাহের মেন্যু পরিকল্পনা করুন। পরিকল্পনা করতে বসে গল্প করে বুঝিয়ে দিন সুষম খাদ্যতালিকায় কী ধরনের খাবার থাকা উচিত, সেগুলো খেলে ওর কী উপকার হবে ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর খাবার সংক্রান্ত বই, পত্রপত্রিকা বা ওয়েবসাইটও ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারেন একসঙ্গে। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার কথাগুলো যেন পড়ার বইয়ের মতো না শোনায়। নিত্যদিনের খাবারের মধ্যে স্বাস্থ্যকর কিন্তু মুখরোচক খাবার যেমন ফ্রুট সালাদ, মিল্ক শেক, ভেজিটেবল পরোটা অবশ্যই রাখবেন। শিশুকে বাদ দিয়ে নিজেরা বাইরের খাবার খাবেন না। বুঝতে পারলে সে নিজেকে প্রতারিত বোধ করবে এবং অবাধ্য হবে। বাড়ির সবাই একসঙ্গে খেতে বসুন এবং একই খাবার খান। সপ্তাহে একদিন ওকে ওর পছন্দমতো জাঙ্কফুড খেতে দিন।

কেনাকাটায় সাথে নিন
ছুটির দিনে বাড়ির বাজার করার সময় আপনার শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যান। বাজার করার সময় নানা ধরনের সবজি, ফল, মাছ ইত্যাদি চেনাতে থাকুন। বিভিন্ন খাবারের রং, আকার, গন্ধ, স্পর্শ বুঝতে সাহায্য করুন। বিভিন্ন রঙের সবজি, ফল একসঙ্গে বেছে কিনে নিয়ে আসুন। রান্না করার সময় ওর সাহায্য নিন তা যত সামান্যই হোক। দেখবেন নিজের পছন্দ করা খাবার সে বেশ আনন্দ নিয়েই খাচ্ছে। যারা একটু বড় হয়েছে, তাদের কয়েকটি সহজ অথচ পুষ্টিকর রেসিপি শিখিয়ে দিন। সবাই মিলে খেতে বেশ মজাই লাগবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার
– ঠাণ্ডা দুধে শিশুর পছন্দমতো ফ্লেভার মিশিয়ে দিতে পারেন। দুধের বদলে কাস্টার্ড, পুডিংও দিতে পারেন। চিপস বা বার্গারের বদলে চিজ স্যান্ডউইচ, স্টিমড মোমো বা ভেজিটেবল ক্যাসারোল জাতীয় মুখরোচক খাবার খেতে দিন।

– সফট ড্রিঙ্কের বদলে ফ্রেস ফ্রুট জুস বা লেবুর শরবত করে খাওয়ান।

– নানা রকম মৌসুমি সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ দিনের যেকোনো সময়ে খেতে দিতে পারেন।

– টক, মিষ্টি রায়তা বা ডিপ বানিয়ে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য ফল মিশিয়ে স্ন্যাকস হিসেবে খেতে দিতে পারেন।

– বাড়িতে চকলেট, টফি, মিষ্টি বা পেস্ট্রিজাতীয় জিনিস ফ্রিজে বেশি পরিমাণে স্টক করে রাখলে শিশুরা নিষেধ করা সত্ত্বেও খাবে। এগুলো বিশেষ উপলক্ষে বাড়িতে আনুন। ফ্রিজে জমিয়ে রাখবেন না।