Health Image

অসুখবিসুখ দূরে রাখতে প্রতিদিন খাওয়া উচিত যে ৮টি খাবার


রোগের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে প্রতিকারের চেয়ে রোগউত্তম। আর বিভিন্ন অসুখবিসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য আমাদের অতি পরিচিত সাধারণ কিছু খাদ্য। এর মধ্যে কিছু খাবার আমরা নিয়মিত খেয়ে থাকি, আবার কিছু খাই কালেভদ্রে। জেনে নিন অতি পরিচিত ৮টি খাবারের কথা, যেগুলোর অসাধারণ গুণাবলী অসুখবিসুখ রাখবে দূরে।

১. লেবু
লেবু একটা জিনিস যা সারা বছরই পাওয়া যায়। তাই ভাতের পাতে প্রতিদিন খান লেবু। লেবু রুচি বর্ধক তো বটেই, সেই সাথে নানা রোগের প্রতিরোধকও। বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত ও ঘা জাতীয় রোগ দূর করতে লেবু সহায়তা করে।

এছাড়া হৃদরোগ প্রতিরোধেও লেবু ভূমিকা রাখে। একটি মাঝারি আকৃতির লেবু থেকে ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

২. রসুন
প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে রাখবে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে। রসুন প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে পরিচিত। রসুনে প্রোটিনের পাশাপাশি থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন সি। রসুন কৃমি নাশক, শ্বাস কষ্ট কমায়, হজমে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৩. পেঁয়াজ
পেঁয়াজ বলবর্ধক ও রোগরোগ। পেঁয়াজের সালফার যৌগ রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়। শরীরে ইনসুলিন ও হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে পেঁয়াজ।

৪. কাঁচামরিচ
অবিশ্বাস্য মনে হলেও কাঁচা মরিচেই রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ১৪৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এতে পটাশিয়ামও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২২ মিলিগ্রাম। এ কারণেই প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে যায়।

কাঁচা মরিচ হাড়, দাঁত, মাড়ি ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা মরিচ মেটাবলিজমের হার বাড়িয়ে ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। ফলে ওজন কমে। নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

৫. কালিজিরা
কালিজিরাকে বলা হয় সর্বরোগের ওষুধ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিমাণে কালিজিরা যোগ করে প্রতিরোধ করতে পারবেন নানা ধরনের অসুখবিসুখ। জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা, বাতের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে কালিজিরা অতুলনীয়।

এছাড়া কালিজিরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কাশি ও হাঁপানি উপশম করে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়ায়।

৬. কিশমিশ
কিশমিশ বিশেষ খাবার তৈরিতে ব্যবহার হলেও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখার উপকার বহুবিধ। কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ক্ষত থেকে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কিশমিশ রক্তস্বল্পতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হাড়ের রোগরোগকরে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

৭. কলা
কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করতে খুবই জরুরি। দিনে তিনটি কলা খেতে পারলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়া কলাতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল যা দৃঢ় টিস্যু গঠনের অন্যতম উপাদান। এছাড়া রক্তস্বল্পতা ও কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করতে কলা খুবই কার্যকরী।

৮. টমেটো
টমেটো মূলত একটি ফল হলেও এটি সবজি হিসেবেও পরিচিত। এর স্বাদ, উচ্চ পুষ্টিমান করেছে একে অনবদ্য। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি। এতে রয়েছে লাইকোপেন নামের বিশেষ উপাদান যা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, মুত্রাশয়, প্রোস্টেট ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।