Entertainment Image

পুরনো প্রেমের নতুন গল্প



প্রতি সপ্তাহেই সিনেমা মুক্তি পায়, দর্শককে একটু খানি বিনোদনের আশায় ছবি দেখতে হলে যায় কিন্তু কয়টা ছবি দর্শকের মন ছুয়ে যায়? সাম্প্রতিক সময়ে এই হার খুবই নগন্য। আর ভাল ছবির এই আকালের সময়ে শিহাব শাহীন নির্মাণ করলেন ‘ছুয়ে দিলে মন’। চলচ্চিত্রটির রিভিউ করেছেন সুদীপ্ত সাইদ।

১০ই এপ্রিল ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছেই-এ খবরটি আমার মনগড়া নয় এমনই তথ্য জানিয়েছেন স্বয়ং হল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলা উদ্দীন। তিনি আরও জানিয়েছেন তরুণ প্রজন্ম ছবিটি গ্রহণ করেছে। ছুঁয়ে দিলে মন এর দর্শক আসলে তরুণরাই। শিহাব শাহীনও জানিয়েছেন তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন। চলুন দেখে আসি এই সাড়া জাগানো ছবিটির অন্দর মহলে কি আছে? কেন ছুঁয়ে দিলো তরুনদের মন? তাদের হৃদয়ের কতটাই বা ছুঁতে পেরেছে ছবিটি।

‘ছুয়ে দিলে মন’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও মম। পর্দায় তাদের চরিত্র আবির ও নীলা। আবির ও নীলার প্রেম কাহিনী নিয়েই গড়ে ওঠেছে ছবির গল্প। চিরাচরিত প্রেমের উপাখ্যানই বলা যায়। যেখানে শৈশবে একে অপরের প্রেমে পড়ে আবির ও নীলা। তারপর বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে গেলে বিচার বসে। যে বিচারে নীলার ভুলে শাস্তি পায় আবির। এমনকি পুরো পরিবার নিয়ে হৃদয়পুর ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমাতে হয় তাদের। কিন্তু কেউ কাউকেই ভুলতে পারে না। আবির পরিণত বয়সে আবার ঘটনাচক্রে নীলার কাছে ফিরে যায়। এরপর নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে মিলন হয় আবির ও নীলার। গল্প এতটুকুই। এমন গল্প দর্শক অসংখ্যবার দেখেছেন। কিন্তু ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এ এই গল্পের উপস্থাপনায় একমাত্র ব্যতিক্রম।

শিহাব শাহীনের প্রথম ছবি এটি। নাটক-টেলিফিল্মের হাত পাকানো এই নির্মাতার প্রথম ছবিতেও টেলিফিল্মের কিছুটা আঁচ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। তবে দৃশ্যধারণ আর গল্প বলার ঢঙে ছিল ভিন্নতা। শিহাব শাহীন পার পেয়ে গেছেন এখানেই।
বাণিজ্যিক এই ছবিতে বাণিজ্যের সব খোরাক নিয়েই হাজির হয়েছেন শিহাব। স্মার্ট নায়ক, আবেদনময়ী নায়িকা, সুন্দর সুন্দর গান, কমেডি, অসাধারণ লোকেশন- সবই আছে।

‘ছুঁয়ে দিলে মন’ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বেশ কয়েকটা ধাপে। আবির-নীলার কিশোরবেলার প্রেম; আবিরের তরুণ জীবন-যাপন। আর হৃদয়পুরের প্রতাপশালী ব্যক্তি খান সাহেবেরে মেয়ে হিসেবে নীলার যাপন। এই ধাপগুলোর উপস্থাপনই ছবিতে ভিন্নতা এনেছে।
বেশ কিছু জায়গায় কিছু অসংগতিও চোখে পড়েছে। যেমন নীলা ডাক্তারি করছে অথচ তার পোশাকে তার কোনো ছাপ নেই। শিশুদের জন্য নাচের স্কুলে নাচছে নীলা ও আবির। এমন ছোটখাট অসংখ্য অসংগতি হয়তো চোখে পড়বে আপনার।

ড্যানি চরিত্রে ইরেশ যাকের ছিলেন এক কথায় অসাধারণ। তার গেটআপ বেশভূষায় একজন ভিলেন হিসেবে তার চরিত্রকে যথার্থভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে। ইতিবাচক চরিত্রে মিশা সওদাগর এক কথায় সফল। আরিফিন শুভ তার সর্বোচ্চ অভিনয়টা এখানে করার চেষ্টা করেছেন তা স্পষ্ট। কারণ এই নায়কের আর ছবিগুলো যারা দেখেছেন তারা এটি অনায়াসেই স্বীকার করবেন। রোমান্স ফুটিয়ে তুলতে তার জুড়ি মেলা ভার। জাকিয়া বারী মমর প্রতি পরিচালক হয় তো একটু বেশিই নজর দিয়েছেন। বিশেষ করে তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে। আর মমও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন প্রতিটি দৃশ্যে। ফলে শুভ-মমর প্রেমের রসায়নে দর্শক মুগ্ধ হয়েছে। তালি দিয়ে তার প্রকাশও ঘটিয়েছে দর্শক। তবে ছোট ছোট চরিত্রগুলোর দিকে পরিচালকের নজর ছিল খুবই কম। পরিচালকের ভাবা উচিত ছিল শুধু নায়ক-নায়িকা দিয়েই একটা ছবির পুরোটা প্রকাশ করা যায় না। প্রয়োজন ছোট ছোট চরিত্র আর পারিপার্শ্বিক মানুষের উপস্থিতিও।

লোকেশন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিহাব শাহীন অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। তবে গানের চিত্রায়ণে বলিউডের ছায়া কম থাকলে ভাল হতো।
সর্বশেষ বলবো পুরনো জিনিসকে নতুন করে কীভাবে দেখাতে হয় তা ভালোভাবেই উপস্থাপন করেছেন শিহাব। আর এ কারণেই দর্শক দেখেছে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’।
এক নজরে ছুঁয়ে দিলে মন
কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা : শিহাব শাহীন
অভিনয় : আরিফিন শুভ, জাকিয়া বারী মম, মিশা সওদাগর, সুষমা সরকার, আনন্দ খালেদ, নওশাবা, সিমান্ত, আলীরাজ ও ইরেশ যাকের।
সঙ্গীত : সাজিদ সরকার ও হাবিব ওয়াহিদ
চিত্রগ্রহণ : রিঙ্কন খান
সম্পাদনা : রাকিব রানা
ব্যানার : মনফড়িং ও এশিয়াটিক ধ্বনিচিত্র
সিনেমা হলে মুক্তি : ১০ এপ্রিল ২০১৫