Entertainment Image

চাষী নজরুল ইসলাম



“ওরা ১১ জন” সিনেমাটি দেখলে গর্বের বাংলাদেশকে আবার নতুন করে চেনা যায়। এই স্বনামধন্য চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। অবাক করা তথ্য হচ্ছে, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে পরিচালক হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন। ১৯৭২ এ মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটিই ছিল স্বাধীনতার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। তবে তার জন্যে চলচ্চিত্রে কাজ করাটা এটাই প্রথম ছিল না। তিনি ১৯৬১ সালে তখনকার খ্যাতিমান পরিচালক ফতেহ লোহানীর সাথে 'আছিয়া' চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পিতার মৃত্যুর পর সংসারে বড় ছেলে হিসেবে সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। এজি অফিসে অফিসের পোস্ট-সর্টার হিসেবে ১৯৬৯ পর্যন্ত চাকরি করেছেন। এফডিসি মাত্র তখন গড়ে উঠছে। আউয়াল সাহেব বিখ্যাত সিনেমা করিয়ে ফতেহ্ লোহানীর প্রধান সহকারী। চাষী চাকরির ফাঁকে ফাঁকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, একই সঙ্গে শুরু করলেন নাটক। আলী মনসুর সাহেবের কৃষ্টি সংঘের সঙ্গে কাজ করেন মঞ্চে অভিনয় করেন। এদিকে চাষীর সিনেমা প্রীতিটা জানতেন তার খালাতো বোনের স্বামী সৈয়দ আওয়াল। একদিন সুযোগ এলো- চাষীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন পরিচালক অভিনেতা ফতেহ লোহানীর সঙ্গে। ফতেহ লোহানী তখন 'আছিয়া' করছিলেন। চাষীকে ছোট্ট একটা রোল করার জন্য নিয়েছিলেন। কিন্তু ফতেহ্'র নির্দেশে পরদিন সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৬১'র জুন মাসে চাষী কাজ শুরু করলেন। এরপর প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রাকার ওবায়েদ-উল-হকের সহকারী হিসাবে 'দুইদিগন্ত' চলচ্চিত্রে কাজ করেন ১৯৬৩ সালে। এভাবেই কাজ করতে করতে এল মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তাঁর নির্মিত সিনেমার তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

ওরা ১১ জন - (১৯৭২)
সংগ্রাম - (১৯৭৪)
ভালো মানুষ - (১৯৭৫)
বাজীমাত - (১৯৭৮)
দেবদাস - (১৯৮২)
চন্দ্রকথা - (১৯৮৫)
শুভদা - (১৯৮৬)
লেডি স্মাগলার - (১৯৮৬)
মিয়া ভাই - (১৯৮৭)
বেহুলা লক্ষিন্দর - (১৯৮৭)
বিরহ ব্যথা - (১৯৮৮)
মহাযুদ্ধ - (১৯৮৮)
বাসনা - (১৯৮৯)
দাঙ্গা ফাসাদ - (১৯৯০)
পদ্মা মেঘনা যমুনা - (১৯৯১)
দেশ জাতি জিয়া - (১৯৯৩)
আজকের প্রতিবাদ - (১৯৯৫)
শিল্পী - (১৯৯৫)
হাঙর নদী গ্রেনেড - (১৯৯৫)
হাছন রাজা - (২০০১)
কামালপুরের যুদ্ধ - (২০০২)
মেঘের পরে মেঘ - (২০০৪)
শাস্তি - (২০০৫)
সুভা - (২০০৫)
দ্রুবতারা - (২০০৬)
দুই পুরুষ - (২০১১)
দেবদাস - (২০১৩) (দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশের প্রথম রঙিন সংস্করণ)

জীবনে অনেক সম্মননাও পেয়েছেনঃ

১. বাংলাদেশ সিনে জার্নালিষ্ট এ্যসোসিয়েশন এওয়ার্ড সংগ্রাম ১৯৭৪ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
২. জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শুভদা ১৯৮৬ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
৩. সিনে ডিরেক্টরাল এসোসিয়েটস সার্বিক বিবেচনায় ১৯৮৫ চলচ্চিত্র নির্মাণ
৪. শের-ই-বাংলা স্মৃতি পুরস্কার। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৮৮ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
৫. বাংলাদেশ ফিল্ম ক্রিটিকস্। বিরহ ব্যথা ১৯৮৯ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
৬. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফেডারেশন এওয়ার্ড। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৮৯ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
৭. সিনে ডিরেক্টরাল সোস্যাল ওয়েলফেয়ার। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৮৯ পরিচালনায়
৮. বাংলাদেশ সোস্যাল ওয়েলফেয়ার। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৯৫ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব
৯. স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৯৫ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব
১০. জহির রায়হাণ স্বর্ণপদক। সার্বিক বিবেচনায় ১৯৯৫ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব
১১. জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ১৯৯৭ হাঙর নদী গ্রেনেড ১৯৯৭ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
১২. একুশে পদক । ২০০৪ ।
১৩. বিনোদন বিচিত্রা অ্যাওয়ার্ড । ২০০৩ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
১৪. জেনেসিস নজরুল সন্মামনা পদক । ২০০৩ ১৫. বি.সি. আর.এ.অ্যাওয়ার্ড । ২০০৫ শ্রেষ্ঠ পরিচালক
১৬. তারকালোক অ্যাওয়ার্ড । ১৯৯৭ ।
১৭. আন্তজাতির্ক বাংলাদেশ।ইন্দোকালা মিউজিক । ২০০৩ জহির রায়হান আজীবন সন্মাননা
১৮. CJFB অ্যাওয়ার্ড । । শ্রেষ্ঠ পরিচালক
১৯. আন্তজাতির্ক কালাকার পুরস্কার । ২০০৫ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রএবং শ্রেষ্ঠ পরিচালক
২০. ট্রাব অ্যাওয়ার্ড । ২০০৩ ।

১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর জন্ম নেয়া এই কৃতী সন্তান কিছুদিন আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ২০১৫ সালের ১১ই জানুয়ারি রোববার ভোর পাঁচটা ৫৫ মিনিটে এই চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃত্যুবরন করেন।