আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

ফেরা (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা ২০১৬ - চতুর্থ পর্ব, ক্যাটাগরি-০২, ছোট গল্প)

এক.
১৯৯৫ সাল।
শীতের সকাল। চারদিকে কুয়াশা। কুয়াশার জন্য দূরের লোকজন তেমন দেখা যায় না। এখনও সূর্য উঠেনি। জসিম উদ্দিন রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছেন। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন ভোরে উঠে তিনি হাঁটেন। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তার কাছে মনে হল কোথাও একজন কাঁদছে। কয়েক কদম যাওয়ার পর দেখলো আট-নয় বছরের একটি মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার দিকে এগিয়ে আসছে। জসিম উদ্দিন যতই সামনে যাচ্ছে ততই মেয়েটি সামনে আসছে। মেয়েটি ইতোমধ্যে জসিম উদ্দিনের কাছাকাছি চলে আসলো। জসিম উদ্দিন কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মেয়েটি তাকে ঝাপটে ধরে বললো, আংকেল আমার আব্বু আমাকে রেখে চলে গেছে। আব্বুকে খুঁজে দেন। বলেই সে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
মেয়েটি হঠাৎ জসিম উদ্দিনকে ঝাপটে ধরায় তিনি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। মেয়েটিকে দেখে মনে হলো কোন ভদ্র ঘরের মেয়ে। কিন্তু এই সকাল বেলায় এখানেই বা এলো কি করে? তার বাবাকেই বা তিনি কিভাবে খুঁজে দেবেন। জসিম উদ্দিন মেয়েটিকে দুই হাতে সারিয়ে বললো, এই মেয়ে এসব কি বলছ?
জসিম উদ্দিনের প্রশ্নে সে আরো ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
– এই মেয়ে কাঁদছ কেন? বল কি হয়েছে?
মেয়েটি শীতে থর থর করে কাঁপছে আর কাঁদছে। মনে হয় জসিম উদ্দিনকে পেয়ে তার কিছুটা সাহস হয়েছে। তাই আবার বললো, আমার আব্বুকে খুজে দেন আংকেল।
– কি হয়েছে তোমার আব্বুর?
– আমার আব্বু আমাকে রেখে চলে গেছে?
– এতটুকুন মেয়েকে রেখে কোন বাবা চলে যেতে পারে? ঘটনা কি সত্যি করে বল। তুমি তোমার বাবার সাথে রাগ করেছো?
– না আমি রাগ করিনি।
– তোমার নাম কি?
– সাদিয়া।
– কোথায় তোমার বাড়ি?
– ঢাকা আমাদের বাড়ি।
-এখানে আসলে কি করে?
– চট্টগ্রাম থেকে আব্বুর সাথে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ আগে সামনের স্টেশনে ট্রেন থামে। আব্বু তখন ট্রেনে বসে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (1)

  • - গোখরা নাগ

    বাহ দারুন তো' ...!!!

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

লাল গরু (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা ২০১৬ - দ্বিতীয় পর্ব, ক্যাটাগরি-০২, ছোট গল্প)

ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। বড় ভাই কামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর জামাল উদ্দিন কোন ঈদে কোরবানি দিতে পারেনি। আজ থেকে পনের বছর পূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন কামাল উদ্দিন। জামাল উদ্দিন ভাবছে এবার নিজের পোষা লাল গরুটা বিক্রি করে কোরবানিতে শরিক হবে।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর জামাল উদ্দিন ও স্ত্রী জরিনা বেগম তাদের শোবার ঘরে আসলো। জামাল উদ্দিন বালিশটা টেনে হেলান দিয়ে বসলেন। জরিনা বেগম একটি পান মুখে দিয়ে বললেন, কি ব্যাপার আইজকা এতো তাড়াতাড়ি শুইয়া পড়বেন নাকি?
– না। তোমার সাথে কিছু কথা আছে। তার আগে আমারে এক খিলি পান দাও।
জরিনা বেগম সুপারি, জর্দা, খয়ার ও চুন দিয়ে পান বানিয়ে স্বামীর নিকট এসে বললো, নেন আপনার পান।
জামাল উদ্দিন পানটি হাতে নিয়ে মুখে দিল। জরিনা বেগম এবার বললো, বলেন কি বলবেন?
জামাল উদ্দিন পান মুখে দিয়ে চিবাচ্ছে আর বলছে, ভাইয়া মারা যওয়ার পর এ পর্যন্ত কোনদিন কোরবানি দিতে পারি নাই। প্রতিবছরই তো মাংসের জন্য শিহান মাইনষের বাড়িতে গিয়া বইসা থাকে। তাই ভাবতেছি এইবার আমি কোরবানিতে শরিক হইব। এহন তুমি কি কও?
– কোরবানিতে শরিক হইবেন ট্যাহা কোথায় পাইলেন?
– ট্যাহা কোথাও পাইনি। লাল গরুটা বেইচ্ছা কোরবানিতে শরিক হইবো। আল্লাহর রহমে আমাগো গরুতো এখন চাইরট্টা। সামনের বছরটা গেলেইতো বাছুরটা বড় হইয়া যাইবো।
– আমারও তো ইচ্ছে করে কোরবানি দিতে। কিন্তু আপনার সমর্থের কথা চিন্তা কইরা কিছুই বলতে পারি নাই। শিহান প্রতি বছরই কোরবানির ঈদ এলে কাঁইন্দা বেড়ায়। এহন আমার কোন আপত্তি নাই। আপনি গরু বেইছতে পারেন। continue reading
Likes Comments
০ Shares

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

অপসংস্কৃতি ও আজকের তরুণ সমাজ (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা-২০১৬- প্রথম পর্ব, ক্যাটাগরি-৩, প্রবন্ধ)

অপসংস্কৃতি সর্ম্পকে আলোচনা করার পূর্বে আমাদের জানা প্রয়োজন সংস্কৃতি কি? সংস্কৃতি ইংরেজি ‘Culture’শব্দের বাংলা রূপ। সংস্কৃতির আরো খাঁটি বাংলা হচ্ছে ‘কৃষ্টি’। আর এই কৃষ্টি শব্দের অর্থ ‘কর্ষণ, বা ‘চাষ’। ষোল শতকের শেষের দিকে ফ্রান্সিস বেকন সর্বপ্রথম ইংরেজি সাহিত্যে ‘Culture’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে ওয়াল্ড ইমার্ঘন‘Culture’কে পূর্ণ রূপে ব্যাখ্যা করেন।
একটা জাতির দীর্ঘদিনের জীবনাচরণের ভেতর দিয়ে যে মানবিক মূল্যবোধ সুন্দরের পথে, কল্যাণের পথে এগিয়ে চলে তাই Ôসংস্কৃতিÕ। সংস্কৃতি স্থবির নয়। এগিয়ে চলাই তার ধর্ম। সংস্কৃতিকে কোন নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা যায় না। সংস্কৃতির নিজস্ব স্বকীয়তা আছে। দেশ-কাল-জাতি ভেদে সংস্কৃতি ভিন্ন রকম হয়। সংস্কৃতির মূল কথা হলো সুন্দরভাবে বাঁচা। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রত্যয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে সংস্কৃতি অর্থ মানুষের যাবতীয় সৃষ্টি যা বংশ পরম্পরায় উত্তরাধিকার সূত্রে মানব সমাজে বর্তায় এবং বিদ্যমান থাকে। 
এ প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী MacIver বলেছেন, ''Our culture is what we are'' অর্থাৎ Ôআমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতিÕ|সংস্কৃতির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী E.B. Tylor তাঁর মতে, ''Culture is the complex whole which includes knowledge, belief, art, moral, law, custom and any habits acquired by man as a member of society.''অর্থাৎ Ôসংস্কৃতি হচ্ছে সেই সমষ্টি যা সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নৈতিকতা, আইন, রীতিনীতি এবং অন্য যেকোন দক্ষতা ও অভ্যাসের জটিল সমষ্টি।Õ
এবার আমার মূল বিষয় অপসংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় আসি। সংস্কৃতির বিকৃত রূপ হচ্ছে অপসংস্কৃতি। সংস্কৃতির কাজ জীবনকে বিকশিত করা, চিত্তকে আনন্দিত করা, মানুষকে প্রেমবান করা। আর অপসংস্কৃতি মানুষের জীবনকে কলুষময় করে। চেতনাকে নষ্ট করে। জীবনকে নাশ করে। স্থায়ীভাবে মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয়, মোহনীয় ও হৃদয়গ্রাহী হলেও এ থেকে কোন সুফল পাওয়া যায় না। অপসংস্কৃতি মানুষকে খারাপ কাজের... continue reading
Likes Comments
০ Shares

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

মায়ের স্বপ্ন (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতার ২০১৬ - প্রথম পর্ব, ক্যাটাগরি-০২, ছোট গল্প)

খোদেজা বেগমের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন তার সন্তান শাকিল এদেশের একজন নামকরা ডাক্তার হবে। গরিব দু:খী মানুষের সেবা করবে। অভাবের সংসারে কত কষ্ট করে খোদেজা তার সংসার চালাচ্ছেন তা শুধু আল্লাই ভালো জানেন। তার সম্পদ বলতে কিছু নেই। রেললাইনের পাশেই এক বস্তিতে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজে না খেয়ে শাকিলের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন।
খোদেজা বেগম একজন সহজ, সরল নারী। খুব সাদা-সিধে তার জীবন যাপন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তিনি পাননি। প্রকৃতি থেকেই শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন বিধায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিতে পারেননি বলে কি সন্তানকে শিক্ষিত করবেন না! তা কিছুতেই হতে পারে না। তিনি উপলব্ধি করেন শিক্ষার মর্ম। তাইতো ছেলেকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন। তাকে শিক্ষিত করতে হবে। ছেলে শিক্ষিত হলে নিজের সম্মান বৃদ্ধি পাবে। সমাজে ভালো একটা স্থানে যেতে পারবে। ছেলে চাকুরী করবে সংসারের অভাব দূর হবে। তাইতো খোদেজা বেগম খেয়ে না খেয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন। স্বপ্ন একটাই ছেলে শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার হবে।
খোদেজা বেগম কখনো পেট পুরে তিন বেলা খেতে পারেননি। তিনি স্বামীকে বেশি ভালো বাসতেন। তাইতো অল্প বয়সেই স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শাকিলের বয়স তখন দুই বছর। এমন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যান। নির্বাক হয়ে গেলেন খোদেজা বেগম। হে খোদা একি করলে তুমি? কেন তুমি আমার নিষ্পাপ সন্তানকে এতিম করলে?
অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে ছেলে শাকিলকে নিয়ে বেঁচে আছেন। তাকে নিয়েই তার সমস্ত স্বপ্ন। শাকিল এবার এইচ.এস.সি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। শাকিল কি পাড়বে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে! মাকে খুশি করতে! দীর্ঘ ষোল বছর যাবত খোদেজা বেগম... continue reading
Likes ১০ Comments
০ Shares

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

আয়না

রমনা পার্ক রাজধানী ঢাকার ঠিক মধ্যভাগে নগরের অক্সিজেন সরবরাহকারী হিসেবে নীরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নানা প্রজাতির গাছ, কৃত্রিম হ্রদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে পার্কটি নগরবাসীর এক প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এখানে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ নানা শ্রেণী মানুষের আগমন ঘটে।  মুনিয়া ও শ্রাবণ নামের এক প্রেমিক যুগল রমনা পার্কের ভিতর প্রবেশ করল। তারা হাঁটতে হাঁটতে রমনা পার্কের কোন একটি জায়গায় এসে বেঞ্চের উপর বসল। কিছুক্ষণ পরই নয়/দশ বছরের একটি মেয়ে কতগুলো বকুল ফুলের মালা নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসল। মেয়েটির পরনে একটি ময়লা জামা ও একটি স্যালোয়ার। মেয়েটি অসহায় দৃষ্টিতে ডান হাতে একটি মালা নিয়ে শ্রাবণের সামনে ধরে বললো, সাব মালা নিবেন! মালা! বকুল ফুলের মালা। নেন না একটা মালা। দ্যাহেন কি সুন্দর ঘ্র্যান! আফারে খুব মানাইবো। মুনিয়া মেয়েটির মিনতি মাখা কথা শুনে হেসে উঠল।  মেয়েটি আবার বললো, হাসবেন না আফা। হাছা কথা কইছি আফনারে মানাইবো। আর আফনারা যদি আমাগর কাছ থিকা মালা না নেন তাইলে আমরা খামু কি?  মেয়েটির এ সমস্ত মিনতি মাখা কথা শুনে শ্রাবণ ভাবতে লাগলো, এত ছোট মেয়ে অথচ কত সুন্দর করে কথা বলে। মেয়েটির প্রতি তার মায়া হল। শ্রাবণ তাকে বললো, তোমার এখানে কয়টি মালা? মেয়েটি গুণে বললো, সাব দশটা।  - একটি মালার দাম কত? - পাঁচ ট্যাহা। - সবগুলো মালা আমার কাছে দাও। মেয়েটি সবগুলো মালা শ্রাবণের হাতে দিল। শ্রাবণ সবগুলো মালা মুনিয়ার গলায় ও খোঁপায় পড়িয়ে দিল। বাহ! পার্কের প্রকৃতি পরিবেশে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে মুনিয়াকে। এবার শ্রাবণ মানিব্যাগ থেকে একশত টাকার একটি নোট বের করে মেয়েটির হাতে দিল।  মেয়েটি আঙ্গুলের কর গুণে দেখল একটি মালার দাম পাঁচ টাকা হলে দশটি মালার দাম পঞ্চাশ টাকা হয়। মেয়েটি... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (2)

  • - মুহম্মদ ফরহাদ ইমরান

    সর্ব অঙ্গে বাঁধিবে পূণ্য- বিধি তোর-
    দেখো না, চাঁদের হাটে- ইদুলফিতর;. দারুণ লেগেছে ভাই ।

    • - আলমগীর সরকার লিটন

      অনেক ধন্যবাদ দাদা

    • Load more relies...
    - মাইদুল আলম সিদ্দিকী

    চমৎকার দাদা emoticons

    • - আলমগীর সরকার লিটন

      সিদ্দিক দা

      অনেক ধন্যবাদ

    - সুমন সাহা

    খুব ভালো লাগলো দাদা। শুভেচ্ছা জানবেন।emoticons

    • - আবু খায়ের আনিছ

      ধন্যবাদ দাদা

Load more writings...