মোঃ ইয়াসির ইরফান

৩ বছর আগে লিখেছেন

আগুনে ফুলের গল্প


ঘুম ভাঙতেই পেটের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল সাঈদের । মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ পড়তেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠল সে । সর্বনাশ, আটটা বাজতে মাত্র পনেরো মিনিট বাকী ! হাতে একদম সময় নেই । ভার্সিটির বাস ধরতে গেলে এক্ষুনি বেরোনো দরকার । কোনমতে মুখে পানির ঝামটা দিয়ে, দুই মিনিটের মধ্যে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ল সে ।
রাস্তা দিয়ে কিছুটা আসতেই মাথাটা যেন ঘুরে উঠল তার । একী, ভয়ানক কান্ড ! গাছের মাথায় তো যেন আগুন ধরে গেছে ! পুরো লালচে আভায় যেন ভরে গেছে গাছের মাথাটা । এই দৃশ্যের প্রতি অদ্ভুত এক দূর্বলতা সাঈদের জন্মগত । তার পা যেন কিছুতেই সরতে চাইছে না । ওদিকে বাস মিস হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে মনে ।
ভাবুক মনটাকে আপাতত মাটি চাপা দিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটতে থাকে সাঈদ । অনেকটা দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বাসটা কোনমতে ধরতে পারে সে ।
 

বাসে উঠে শান্তিমতো একটু যে বসবে সে সুযোগও যেন নেই । সিট নিয়ে একজনের সাথে লেগে গেল মহা-ক্যাচাল । এমনিতেই ক্ষুধার যাতনায় মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে আছে, সেখানে আবার এইসব ক্যাচাল ভাল লাগে ! বাসের সিটে পিঠটা একটু এলিয়ে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে সাঈদ । কিন্তু হঠাৎ একটা দৃশ্যে চোখ পড়তেই ঘুম-টুম যেন উধাও হয়ে গেল কোথায় ।
সেই গাছের মাথায় ঘন লালচে আভা ! ওহ, অদ্ভুত সুন্দর । ধুম করে জ্যামটা ছুটে গেল । ভোঁ করে বাসটাও পেরিয়ে এল সেই জায়গাটা । ভীষণ তৃষ্ণার্তের মতো সাঈদ তাকিয়ে থাকে, আবার কবে রাস্তার পাশে অমন গাছের দেখা পাবে । তাকিয়েই থাকে, কখনো একটু দেখা পায় আবার হারিয়ে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

মোঃ ইয়াসির ইরফান

৩ বছর আগে লিখেছেন

কষ্ট নেবে কষ্ট


মোবাশ্বেরা খানম কিছুক্ষণ বিমূঢ়ের মতো তাঁর বউমার দিকে চেয়ে থাকলেন । তিনি যেন নিজের কানকে বিশ্বাসকরতে পারছেন না । তিনি ঠিক শুনেছেন তো ! বউমা তাঁর সাথে কখনো এভাবে কথা বলবে, এ যেন তাঁর ভাবনাতীত ।
কিছুক্ষণ চুপ করে শুনে গেলেন বউমার কথা । সবটা ঠিকমতো তাঁর কানে গেল না । তাঁর ছেলের দিকেও তাকালেন, অকর্মার ঢেঁকিটা একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব শুনছে । কিচ্ছুটি বলছে না । এও কী সম্ভব ! এ-ই কী তাঁর সেই ছেলে, যে মায়ের এতটুকু কষ্ট সহ্য করতে পারত না বলে, ওইটুকুন বয়সে পাটায় ঘষে মরিচ-পিঁয়াজ পিষে দিত ! মা একটু রাগ করলেই কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলত ! এ-ই কী তাঁর সেই ছেলে ? নাকি অন্য কেউ ?
বিয়ের পর কি ছেলে আর মায়ের থাকে না ? বউয়ের হয়ে যায় !
 


অরুচির কারণে মুখে কিছু তুলতে পারছে না শুনে, দুপুরে মেজ মেয়ে আসার সময় বাপের জন্য মুরগী রান্না করে এনেছিল । মোবাশ্বেরা খানমই বলেছিলেন, যেন কিছু রান্না করে নিয়ে আসে । মাঝে মেজ মেয়ের বাসায় কিছুদিন ছিলেন তাঁরা । তখন বেশ আহ্লাদ করে মেয়ের রান্না খেতেন আহমদুল্লাহ মাষ্টার । তাই এই অরুচিতে যদি মানুষটা দুটো ভাত মুখে দিতে পারে, সে চিন্তা করেই মেজ মেয়েকে বলেছিলেন বাপের জন্য যেন কিছু রান্না করে নিয়ে আসে ।
মেজ মেয়ে রান্না করে এনেছিল, মুরগী-ভুনা । দুপুরে খাওয়ার সময় মেয়েকে সাথে নিয়ে বেশ তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিলেন আহমদুল্লাহ মাষ্টার । ডায়াবেটিসের কারণে রাতে বেশী খান না । যেটুকু খান সেটুকু যেন ভালমতো খেতে পারেন, তাই বউমা কে মোবাশ্বেরা খানম বলেছিলেন মুরগী দিতে ।
বউমা... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - তামান্না তাবাসসুম

    সুন্দর কবিতা , পড়ে ভাল লাগলো।

মোঃ ইয়াসির ইরফান

৫ বছর আগে লিখেছেন

মা (আম্মা/আম্মু/মম/মাদার/আম্মি/মাম্মি)

 
মা
‘মা’ শব্দটা নাকি অতি মধুর । হয়তো স্নেহ-মায়া-ভালবাসার মৌচাক আছে বলে ! আমার জানামতে (আমার জানার পরিধি আহামরী কিছু নাই) বিশ্বে যতভাবে জননীকে সম্বোধন করা হয় । প্রায় সবটাতেই ‘ম’ বর্ণটা রয়েছে । এতে মমতাময়ীর ম’এর সাথে কোন সম্পর্ক আছে কি না জানি না । ‘মা’ অতিশয় ক্ষুদ্রাকার এই কথাটির বিস্তৃতি-ব্যাপ্তি কতটা তা আমি তো কোন ছার, অনেক মহাপন্ডিত পর্যন্ত বুঝতে অক্ষম হয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন । মায়ের মমত্ববোধ তারও চেয়ে বিশাল । স্নেহ-ভালবাসা কতটা তা বুঝার সাধ্য কারো নাই ।
 সন্তান হৃষ্টপুষ্ট নাদুস-নুদুস সত্বেও হায় হায় করে যিনি বলে উঠেন, “আমার বাচ্চাটা না কিছুই খায় না” তিনিই মা । প্রতিটি শ্বাসের মত যিনি কল্যান কামনায় সদা লিপ্ত থাকেন তিনিই মা । আমাদের আবেগ-অনুভূতি, আবদার, ভরসা-ভালবাসা সমস্ত কিছুর ছায়াতল-ই ‘মা’ ।
 প্রত্যেক মায়ের কাছেই তার সন্তানই শ্রেষ্ঠ । তার মত মহান পুত্র (আমার মত একটা নিম্ম স্তরের গাধাকেও  যদি কোন মা এই চোখে দেখেন !) ধরনীতে দ্বিতীয়টি কোনদিন জন্ম নেয়নি ভবিষ্যতে নেবে না । তবে প্রত্যেক সন্তানের কাছে তার ‘মা’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা হয় না । সন্তানরা বড়ই অকৃতজ্ঞ প্রজাতি !
 
মা দিবস
মা দিবসের সৃষ্টি তাদেরই জন্য, যারা ছেলে-মেয়ে adult হলে বলে- “বাপু, এবার নিজেই নিজের রাস্তা দ্যাখো” । কিংবা সহজ কথায় বলা চলে সন্তান থেকে আলাদা হয়ে যায় বা করে দেয় । অবশ্য সেসব দেশে সন্তানরাও নিজের পায়ে দাঁড়াবে বলে মায়ের স্নেহতল থেকে মুক্তি চায় ।
আমরা তো তেমন না । আমাদের দেশে মায়েরা বলে, “সন্তান যত বড় হোক না কেন মায়ের কাছে সেই ছোট্টটি রয়ে যায়” । ‘বাবুসোনা’, ‘খোকনসোনা’, ‘খোকা’ ইত্যাদি নামগুলোই তার সত্যতা বহন করে । আর আমরা সন্তানরাও মায়ের সেই মমতামাখা হাতের স্পর্শ থেকে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

মোঃ ইয়াসির ইরফান

৫ বছর আগে লিখেছেন

আমি মোঃ ইয়াসির ইরফান । সাহিত্য আমার ভাললাগা, ভালবাসা । সাহিত্য লিখতে, পড়তে ভাললাগে । তাই লিখি, পড়ি । জানি, আমার লেখার মান ভাল না । স্বীকার করতে কুন্ঠাবোধ করি না, ভাল লেখার সে যোগ্যতাও আমার নাই । বস্তাপচা লেখায় কারো মন খারাপ করা আমার উদ্দেশ্য নয়, সাহিত্যের অপমান করতেও চায় না । আমি তো শুধু আমার ভাললাগার, ভালবাসার কাজটাই করি । আমার অপরাগতা, অক্ষমতায় প্রতিমূহুর্তে ক্ষমা চেয়ে যাই, সাহিত্য ও সাহিত্যিক সমীপে । সসংকোচে, সংশয়ের ঘেরাটোপে, নিন্দিত হওয়ার ভয়ে সাহিত্য রচনার শুরুতেই 'তরুন তুর্কী' ছদ্মনামে সাহিত্যের বিশাল ভান্ডারে পা রেখেছি । সাহিত্যের এই বিরাট-অভিজাত জায়গার অতি ক্ষুদ্র কোনে আমার জায়গা হবে কি না, তা আমার জানা নাই । জানতে চাই না । আমি শুধুমাত্র আমার ভাললাগা প্রকাশে যদি কোন স্পর্ধা, কোন ত্রুটি হয়ে থাকে তার জন্য মার্জনা চাই । তারুন্য আমার অলংকার । অঙ্গে তারুন্যের উন্মাদনা বয়ে চলেছি, (জন্ম তারিখ - ০৯/০৪/৯২) সয়ে চলেছি আনন্দের সাথে । উচ্ছলতার সাথে সন্ধি করেছি তারুন্যের সূচনা লগন হতে । স্রষ্টায় ভীষন আস্থা আমার । জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্রষ্টার সাহচর্য, তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করি । বিশ্বাস করি, প্রতিক্ষনে প্রতি নিঃশ্বাসে তিনি আমার সাথেই আছেন । নিজেকে আমি মূল্যায়ন করি অতি সাধারন পর্যায়ের মানুষ রুপে । নিজের সম্পর্কে আমার উক্তি, Lower Clash Ass (LCA) বা নিম্ম স্তরের গাধা । যে স্তরের মানব সন্তানেরা ধরিত্রীর মানুষ, প্রকৃতি, প্রতিটি ধূলিকণা হতে ক্রমাগত উপকার গ্রহন করে কিন্তু প্রতিদান দিতে অক্ষম থাকে । বরং যতদিন বাঁচে ততদিনই গলার কাঁটা হয়ে থাকে, পরিবারের, সমাজের, দেশের, ধরনীর ।

Likes Comments

মোঃ ইয়াসির ইরফান

৫ বছর আগে লিখেছেন

T-20 বিশ্বকাপ এর গল্পগুলি

আরেকটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে । পঞ্চম T-20 বিশ্বকাপ । এবারেরআসরের আয়োজক আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশ । যারা এর আগে সফলতার সাথে পঞ্চাশওভারের বিশ্বকাপ আয়জন করে নজড় কেড়েছে সারা বিশ্বের । এই তো কদিন আগেক্রিকেটের এই তীর্থভুমে শেষ হল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘এশিয়া কাপ’ । আরেকটি T-20 বিশ্বকাপের আগে একটু ঘুরে আসা যাক আগের চারটি আসর থেকে ।
প্রথম T-20 বিশ্বকাপ ।
আয়োজক দেশ – দক্ষিন আফ্রিকা (২০০৭) ।
চ্যাম্পিয়ন দেশ – ভারত ।
রানার্স আপ দেশ – পাকিস্তান ।
আসরের প্রথম ম্যাচেই মাত করে দেয় ক্রিস গেইল নামক দৈত্যরুপি এক মানুষ ।সেঞ্চুরী দিয়ে আফ্রিকান বোলারদের চোখের পানি, নাকের পানি এক করে ওয়েষ্টইন্ডিজকে পৌছে দেয় দুই শতাধিক রানের চূড়ায় । খেলার হাফটাইমে যারা ওয়েষ্টইন্ডিজ কে একরকম ম্যাচ দিয়ে দিয়েছেলেন, তারা আবার চোখ রগড়ে দেখেনঅবিশ্বাস্য এক ম্যাচ । যার পরিসমাপ্তি আফ্রিকানদের উল্লাসে । গিবসেরটর্নেডো ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে ঠেলে দেয়, ডু অর ডাই ম্যাচের দিকে । এখানেইঘটে অঘটন । শুরু থেকেই এই ম্যাচটাকে পাখির চোখ করে রেখেছিল বাংলাদেশের তরুনদলটি । শুরুতেই গেইলকে আউট করে সেই লক্ষ্যে দৃঢ়তার সূচনা করে তারা । তবুওআটকে রাখা যায়নি রানের লাগাম । যখন বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামে তখন আস্কিংরেট আটেরও উপরে । প্রথমেই নেই উড়ন্ত সূচনার দূরন্ত বাহন তামিম ইকবালনামের টগবগে তরুন । উইকেটের দুই প্রান্তে তখন বাংলাদেশের দুই ভরসা আশরাফুলএবং আফতাব । শুরু হল আশরাফুলের লাগাম ছাড়া দৃষ্টিনন্দন সব মার । বোলার বলযেখানেই দিন না কেন, আশরাফুলের ব্যাট নামের বিশাল তক্তা সেসব খুঁজে নিয়েঠিকই বাউন্ডারির পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন । ইতিহাস করলেন আশরাফুল । মাত্র ২০ বলেফিফটি । যদিও পরে আর থাকেনি সেটা । বিদায় নিল... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - চারু মান্নান

    বসন্ত ভালোবাসা,,,,,,,,,,,

    • - ইকবাল মাহমুদ ইকু

    - মেজদা

    এমন দুঃখের দিনে তার মা দেখতে চেয়েছে। চোখে জল এসে গেল। মেয়েটি জেনে হয়তো আরও দুঃখের মধ্যে প্রে গেল। তার প্রতিক্রিয়া না বলে ভাল হয়েছে। এখন পাঠক তার মত করে ভেবে নেবে। ধন্যবাদ 

    - ইকবাল মাহমুদ ইকু

    আপনাকেও ধন্যবাদ মেজদা  

    Load more comments...