"শিশুতোষ গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

বিন আরফান.

৪ বছর আগে লিখেছেন

সাফারি পার্কের বাঘ

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এপার্কে বাঘ-সিংহ, পশু-পাখি মুক্ত অবস্থায় অবাধে বিচরণ করে। মানুষ সম্প্রদায় গাড়ির খাঁচায় বন্দী হয়ে ঘুরপাক খেয়ে নানা প্রজাতির জীব-জন্তু, পশু-পাখি দেখে চিওবিনোদন করেন। কখনো প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্যের আড়ালে, কখনোবা সামনে এদের দেখা মেলে। এতে চোখ-মন দুটোই জুড়ায়।
এক রাতে মুক্ত একদল বাঘ পাহারাদারদের ফাঁকি দিয়ে চুপিসারে পার্কের সীমানা প্রাচীরের বাইরে চলে আসে। সবুজে ঘেরা ভাওয়ালের ঐতিহ্য গজারী অরণ্যের ফাঁকে পাকা ধানক্ষেতে অবস্থান নেয় তারা। অর্ধেক ক্ষেত জুড়ে ধান আর অর্ধেক মাড়াই করা। মাড়াইকৃত খড় স্তূপ করে সাজানো ছিল ক্ষেতের অর্ধাংশের মাঝখানে। বাঘদলের আত্মরক্ষার জন্য চমকপ্রদ জায়গা। তারা অবস্থান নেয় খড়ের স্তূপের চারপাশে।  continue reading

৮৯১

বিন আরফান.

৪ বছর আগে লিখেছেন

পুতুলের বিয়ে

রিয়ার পুতুলের বিয়ে ঠিক করেছে মিতুর পুতুলের সাথে।  গতকাল রিয়া তার বান্ধবীদের নিয়ে রিতুদের বাসায় দাওয়াত খেয়েছিল। সেখানেই বিবাহের চূড়ান্ত আলাপ হয়।  আজ সকালে গায়ে হলুদ। বিকালে বিয়ে। আয়োজন হবে রিয়ার বাসায়।  মিতু নিজের বান্ধবীদের নিয়ে তার পুতুলকে বর সাজিয়ে খুব সকালেই রিয়ার বাসায় হাজির।  রিয়া বিশাল আয়োজনের পসরা সাজিয়েছে।  কলাগাছের গেট দিয়ে ফিতা কাটিয়ে বেলুন ফাটিয়ে বরযাত্রীদের বরণ করে নিল। কাঁচা হলুদ বেটে মিহি করে একে অন্যের গায়ে মেখে হাত মুখ হলুদিয়া পাখির মত ফুটিয়ে তুলেছে। সবাইকে দেখতে খুব মিষ্টি লাগছিল। মনে হচ্ছিল, রাজবাড়ির বিয়েতে ঘোড়ায় চড়ে আসা বরযাত্রীদের সমাদর চলছে। হলুদ রিয়ার দাদী বেটে দিলেও দুপুরের রান্না রিয়ার মাকেই... continue reading

১১৫২

আমির ইশতিয়াক

৪ বছর আগে লিখেছেন

দুষ্টু মিন্টু

আমি তখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। তখন আমাদের ক্লাসে ছিল এক দুষ্টু ছেলে। তার নাম মনির হোসেন মিন্টু। সে সব সময় স্যারদের ক্লাসে পড়া জিজ্ঞাসা করলে উল্টাপাল্টা জবাব দিত। অবশ্য তার জবাবে যুক্তি থাকে। একদিন ক্লাসে বিজ্ঞান স্যার আমাদেরকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সর্ম্পকে বোঝাচ্ছিলেন। তিনি অনেকবার বুঝানোর পর স্যার একে একে সবাইকে বললেন, আম পাকলে আকাশের দিকে না উঠে মাটিতে পড়ে কেন?
আমরা সবাই যে যার মতো বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিলাম। যখন স্যার মিন্টুকে প্রশ্ন করলেন মিন্টু তখন জবাব দিল, স্যার আকাশেতো খাওয়ার কেউ নেই, তাই আম আকাশের দিকে না উঠে মাটিতে পড়ে যায়।
তার উত্তর শুনে আমরা... continue reading

৫৬৮

আমির ইশতিয়াক

৫ বছর আগে লিখেছেন

সেমুলী

আমি তখন ছোট। বয়স ছয়কি সাত হবে। মাঝে মাঝে স্কুলে যেতাম এবং দিনে একটা করে বই ছিঁড়তাম। আমি ছিলাম নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার জন্মের পর থেকেই বাবার সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। অথচ আমার জন্মের পূর্বে আমাদের সংসারে ছিল ঘোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ও বালতি ভরা দুধ। দাদা যখন সংসার ছেড়ে দিলেন, তখন থেকেই আমাদের সংসারে অবনতি ঘটতে থাকে। এখন বাবা একদম নিঃস্ব হয়ে গেছেন। আগের মত জমিজমা নেই। সব বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন বাবা পরের জমিতে কাজ করে। এই রোজগার দিয়ে কোন মতে সংসার চালায়। আমরা পর পর চারটি ভাই ও একটি বোন জন্ম নিলাম। আমি... continue reading

৬৮৫

জাবেদ ভুঁইয়া

৫ বছর আগে লিখেছেন

দুষ্টপরী ,মিষ্টিপরী আর মোহনকুমার

চাঁদটা যখন খিলখিল করে হেসে উঠে ,আলোতে মেতে উঠে পৃথিবী। মাঝরাত্তিরের কুয়াশার বুকে মাথাগুজে মুক্তোর মত ঘাসের ডগায় ঝিলমিল করে জ্যোৎস্নারা।
চারদিকে নিঝুমতা যখন বেশ করে ঝেঁকে বসে। ঠিক তখন, ঐযে ঐ মস্ত মাঠটা দেখছ তার সোজা ডানে গেলে পাবে একটা মস্ত দীঘি।
পূর্ণিমার রাতে জ্যোৎস্না হেসে লুটোপুটি খায় দিঘির জলে। তাই দিঘীর নামটাও চাঁদের দিঘি।
জ্যোৎস্নাদের সাথে খেলা করার জন্য প্রায়ই দিঘির পাড়ে নেমে আসে একঝাক পরী। চাঁদের আলোয় যেন পরীদের মেলা বসে দিঘির পাড়ে।
রাত্রিভর জ্যোৎস্না গায়ে মেখে হৈ হুল্লোড় করে পরীরা।
শেষরাত্রিরে যখন চাঁদটা ডুবো ডুবো হয়ে সূর্যিমামাকে আমন্ত্রণ জানায় সেসময় দিঘির জলে স্নান সেরে পরীরা আবার ফিরে যায়... continue reading

৭৮২

নূর মোহাম্মদ নূরু

৫ বছর আগে লিখেছেন

রূপকথার কিংবদন্তি লেখক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের ১৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

কিংবদন্তি শিশুসাহিত্যিক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন (Hans Christian Andersen)। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, নাট্যকার ও কবি। এ্যান্ডারসন বিখ্যাত মূলত দু’টি কারণে, তার রূপকথার জন্য তো তিনি বিখ্যাতই, আরেকটি তার ভ্রমণ ডায়েরির জন্য (ট্রাভেলগ)। তার বিখ্যাত কিছু কবিতাও আছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাটার নাম জেগ এর এন স্ক্যান্ডিনেভ, ইংরেজি করলে হয় আই এম এ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান। তবে শিশুসাহিত্যিক হিসাবেই তিনি অধিক পরিচিত। রূপকথার জাদুকর বলা হয় তাকে। ছোটদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন কল্পনার এক আশ্চর্য জগৎ। শিশুদের জগত বড়দের চেয়ে আলাদাই শুধু নয়, অনেক অনেক রঙিন আর প্রাণবন্তও। বিশ্বের ও বাংলা ভাষার অনেক শিশুসাহিত্যিক এই রংদার জগতটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন আকর্ষণীয় করে। আমাদের সকলের... continue reading

৫৯৬

mottakin H abdus sattar

৫ বছর আগে লিখেছেন

এক মহিলার চিটি

অল্প পড়োয়া এক মহিলাতার প্রবাসী স্বামিীকে একটা চিটি লিখল। আসলে তার দাড়ি কমার প্রতি কোন ঙ্গান নেই। চিটিটা এ রকম “ওগো সারাটি জীবন তুমি বিদেশেই কাটাইলে এই ছিল। তোমার কপালে আমার পা। আরো ফুলিয়া উটিছে উটানটা। জলে ডুবিয়া গেছে ছোট খোকা। স্কুলে যাইতে চায়না ছাগলটা। শুধু ঘাস খাইয়া ঝিমাইতেছে তোমার বাবা। পেটের অসুখে বুগিতেছে বাগানটা। আমে ভরিয়া গিয়াছে ঘরের ছাদ । স্থানে স্থানে ফুটা হইয়া গিয়াছে গাভীর পেট। দেখে মনে হয় বাচ্চা দিবে করিমের বাপ। রোজ দুই সের করিয়া দুধ দেয় বড় বউ। রান্না করিতে গিয়া হাত পোড়াইয়া ফেলেছে কুকুর ছানা। সারাদিন লেজ নাড়াইয়া খেলা করে বড় খোকা। দাড়ি কাটিতে... continue reading

৬৭৩

তৌফিক মাসুদ

৫ বছর আগে লিখেছেন

পিউ

   
অনেক দিন আগের কথা। এক বনের ধারে হিজল গাছের তলায় একটা পুকুর ছিল। সেখানে তিনটি ছোট্ট হাঁসের ছানা তাদের মায়ের সাথে বাস করত। হাঁসের ছানাগুলোর মা অনেক শখ করে তাদের নাম রেখেছিল। তাদের সবচেয়ে ছোট্টটির নাম ছিল পিউ। সে ছিল বড়ই দয়ালু। অন্য হাঁসেরা যেখানে দুর্বল বা আহত মাছ দেখতে পেলেই গপ করে গিলে ফেলত, সেখানে পিউ কোন আহত মাছ ধরে খেতনা।
 
সে সময় পুকুরে বড় বড় দাঁতওয়ালা মাছেরা বর্ষার পানিতে এখানে চলে এসেছিল। তাই প্রায়ই বিভিন্ন মাছ মরে পরে থাকত। মাঝে মাঝে আহত মাছ পানিতে খাবি খেতে দেখা যেত। একদিন হল কি, একটা ছোট্ট পুঁটি মাছ... continue reading

১২ ৬০০

নাসির আহমেদ কাবুল

৫ বছর আগে লিখেছেন

টনি ও টমি

মাঘ মাসের উত্তুরে হিমেল হাওয়া। তার ওপর একটু আগে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছে! এ জন্যে শীতটা খুব জেঁকে বসেছে। সবাই কাঁপছে শীতে। বুড়ি মা তার প্রিয় কুকুরটিকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, ‘শীতের মধ্যে খুমিয়ে পড়ো না যেন! একটি গরু-ছাগলও যেন চুরি না যায়! হাঁস-মুরগীগুলোও যেন খেঁকশিয়ালে নিতে না পারে।’
বুড়ি মা’র কথা রাখতে পারেনি টনি। ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। আর এই সুযোগে খোঁপ থেকে বড় মোরগটি চুরি করে নিয়ে গেছে ধূর্ত একটি খেঁকশিয়াল!
কুকুরটি নাম টনি। প্রায় বছর পনের ধরে বুড়ি মা’র প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছে। কোনদিন এতোটুকু ভুল হয়নি। কিন্তু রাতে প্রচন্ড শীতের মধ্যে খড়ের গাদায় আশ্রয় নিয়ে ঘুমিয়ে... continue reading

১৪ ৭০১

নাসির আহমেদ কাবুল

৫ বছর আগে লিখেছেন

রাক্ষস এক বাজপাখির গল্প

হঠাৎ করেই বনের পাখিরা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। ওদের এই দুঃশ্চিন্তার কারণ একটি বাজপাখি। এটি যেন পাখি নয়, যেন রাক্ষস! সারাদিন শুধু খাই খাই। হাঁস খাবে, মুরগি খাবে, চড়–ই খাবে, টিয়া খাবে, ময়না খাবে- আরো কত কি! বাজপাখিটির ক্ষেতে কোন ক্লান্তি নেই। কিছুতেই যেন পেট ভরতে চায় না।
বাজপাখিটির সকালের নাস্তায় ছোট-বড় মিলে দশ থেকে বারোটি পাখি লাগে। দুপুরের খাবারের জন্য পনের থেকে বিশটি, আর রাতে এর কম হলে চলে না। এ ছাড়াও সারাদিন সময়-সুযোগ পেলেই টিয়া, ময়না, চড়–ই, টুনটুনি আর বুলবুলি মিলে আট থেকে দশটি পাখি শিকার করে খায় বাজপাখিটি।
এভাবে প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশটি পাখি বাজপাখিটি শিকার করে খায়। এতে দিন দিন... continue reading

১৫ ৭৯০