"গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

জামান একুশে

৩ বছর আগে লিখেছেন

অশরীরী

চকমকির আলোয়ান গায়ে রূপালী জোছনার সাথে এক্কাদোক্কা খেলতে খেলতে সময় কাটছিল মৃদুলের। বাঁশঝাড় লাগোয়া নদীর এই ঘাটটাতে পা ঝুলিয়ে বসলেই নদীর পানিকে ছুঁয়ে ফেলা যায়। ভরা পূর্ণিমার সাথে যৌবনবতী নদীর এই আস্ফালন একান্তে উপভোগ করে মৃদুল। শুধু মাঝে মধ্যে এসে হানা দেয় উপেন্দ্র কিশোর। বলে একটু সরে বসরে খোকা। জল জোছনা আমিও খুব ভালোবাসি। মৃদুলের বেশ রাগ হয়। এমনিতেই সে তার জল-জোছনায় কাউকে ভাগ দিতে চায়না। তারমধ্যে আবার উপেন্দ্র বাবুর গা থেকে ভেসে আসে উৎকট পোড়া গন্ধ। মৃদুল বিরক্তি নিয়ে বলে – আপনি এখন যানতো কাকাবাবু! পৃথিবীর এই জল-জোছনায় আপনার কোন অধিকার নেই। আপনি এখন অতীত। উপেন্দ্র বাবু বিষন্ন হয়। যদিও... continue reading

৩৪৭

জামান একুশে

৩ বছর আগে লিখেছেন

অজ্ঞাতনামা কেউ

ইংরেজীতে সে বরাবরই ভালো কিন্তু টেস্টে এত কম কীভাবে পেল বুঝতে পারছে না চিত্রা। শ্রেণি শিক্ষক হামিদুর স্যার (হিমু স্যার নামে পরিচিত) বললেন তোমাকে প্রপার গাইড করলেই রেজাল্ট আশানুরুপ হবে। তুমি আগামী সপ্তাহ থেকে বিকেলের ব্যাচে এসো আমি দেখবো তোমার বিষয়টা। হিমু স্যারের এমনিতেই খুব সুনাম। তিনি ভালো শিক্ষক। তার কাছে কেউ পড়তে চাইলেও সিট সংকুলান না হওয়াতে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়না। কিন্তু স্যার তাকে আলাদাভাবে এত গুরুত্বদিয়ে বলেছে যে নিজেকে খুব ইম্পর্টেন্ট মনে হচ্ছে।
এরপর থেকে চিত্রা নিয়মিত স্যারের কাছে পড়তে যায়।
এক বিরামহীন বৃষ্টি বেলার মন কেমন করা বিকেলে সে স্যারের বাসায় উপস্থিত। কিন্তু সেদিন অন্য কেউ পড়তে... continue reading

৩৮৭

জামান একুশে

৩ বছর আগে লিখেছেন

ছন্দপতন

মেয়ে পটানোয় উস্তাদ বলে খ্যাত হাসিনের কোন মেয়ে বন্ধু নেই। এটা নিয়ে তার কোন আফসোসও নেই। কেউ প্রশ্ন করলে বলে প্রেমিকরা কখনো অভিজ্ঞ হয় না আর অভিজ্ঞ লোকেরা প্রেমিক হতে পারেনা। বন্ধুদের প্রেমের টানাপোড়ন ভাঙ্গার এডভোকেসি করতেই তার সময় যায়। এ হিসেবে সব বন্ধুদের গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে তার দারুন সখ্যতা। দোদুল্যমান সম্পর্ক মজবুত করার জন্য তাকে অনেক সময় দিতে হয়। রিক্সায় ঘোরা, পার্কে বসে বাদাম খাওয়া, স্লিপ পাঠিয়ে ক্লাস থেকে ডেকে আনা এসবই তাকে করতে হয়।
অনেকটা ফুরফুরে মেজাজেই চলছিল হাসিনের জীবন। কেউ না থেকেও অনেকে আছে এমনভাবে। কিন্তু তার এই ভালো থাকার মধ্যে একদিন বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে... continue reading

৪০৮

মুদ্রা

৩ বছর আগে লিখেছেন

কর্পোরেট শূন্যতা

ঘড়ির কাঁটাটা মধ্যরাত পার করেছে কিছুক্ষণ আগেই,তবু রুদ্রের দেখা নেই।এদিকে রোদেলার অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন কচ্ছপের বেগে যাচ্ছে।মনের ভেতর নস্টালজিয়া গুলোর দৌড়ঝাঁপ,চোখের স্মৃতিপটে আঁকছে সেই দিনগুলোকে।যখন পরস্পরের ভালবাসার আলিঙ্গনে দিন ফুরিয়ে যেত,তবুও দেখার স্বাদ ফুরাতো না। ফোনালাপে রাতগুলো কেটে যেত সকালে আবার দেখা হবার তিব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।কখনও টি এস সি কখনও ছবিরহাট বা হাকিম চত্বর এভাবেই চলত দুজনের সারাটা দিন ।প্রায় প্রতিদিনই হলের গেট বন্ধের অন্তিম মুহূর্তে ছুটতে ছুটতে রোদেলা হলে আসা সেই দিনগুলো যেন দ্রুত হারিয়ে গেল।প্রথম যেদিন রুদ্রের সাথে পরিচয়,খুব একটা কথা হয়নি সেদিন কেবল চুপচাপ থেকে শুনেছিল একটি ভরাট কণ্ঠের কবিতা পাঠ।এভাবে কবিতা শুনতে শুনতে রোদেলা একটা সময়... continue reading

৪০৫

এ.টি. নূর শেখ লিটা

৩ বছর আগে লিখেছেন

“সম্পর্ক” (প্রতিযোগিতা২০১৬, ক্যাটাগরি-২)

আকাশ মোবাইলে ফেইসবুক ওপেন করে বসে ছিল ওর কক্ষে।দরজা খুলে ওর বোন আনিকা কখন ঘরে প্রবেশ করেছে সেদিকে ওর বিন্দুমাত্র খেয়াল ছিলনা বরং ওর মনোযোগ পূর্বের মতই ছিল মোবাইলের উপর।কিন্তু সেটাকে পাত্তা না দিয়েই আনিকা প্রশ্ন করে-“কিরে আজ তো তোর এক্সাম ছিল।তা কেমন দিলি?”
-“ভালো” আকাশের নির্লিপ্ত উত্তর।
-“গুড।তা সব কোশ্চেনের আনসার করেছিলি তো?”
-“হুম” আকাশ এবারও মোবাইল থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই উত্তর দেয় আনিকার প্রশ্নের যেন আনিকা থাকাতে ও বিরক্তই হচ্ছে কেবল কিন্তু এটাকেও পাত্তা দিল না আনিকা বরং কন্ঠটাকে পূর্বের মত স্বাভাবিক রেখেই বলে-“আমি সারাদিন অফিস শেষে বাসায় এলাম।কোথায় আমার সাথে একটু ঠিকভাবে কথা বলবি, সময় দিবি, তা না বরং মোবাইল নিয়েই... continue reading

৪২২

শাহআজিজ

৩ বছর আগে লিখেছেন

আলাপ

 
আলাপ     (দ্বিতীয় পর্ব, ক্যাটাগরি-০২, ছোট গল্প)
ভোরের ভৈরবী রাগ ধীরলয়ে ‘আলাপ’ দিয়ে শুরু হয়।
এখানে এই বাড়িতে রাগ সঙ্গীত শুরু হয় ‘ঝালা’ দিয়ে। ঘুম ভেঙ্গে সুদীপ্ত দু’কানে আঙ্গুল চেপে রাখে । এই হেঁড়ে গীত কুলসুম বেগম বনাম কাজের বুয়া ফয়জুনির মধ্যে হয় প্রতিদিন । এই যুগলবন্ধীর পরিবেশ বান্ধব ছিন্নকারী তিন তালের ছয় তালে রুপান্তর ভোরের সুখনিদ্রাকে রীতিমত শ্লীলতাহানি করে। সুদীপ্ত বারান্দায় গিয়ে দাড়াতেই সব চুপচাপ ।
‘জামাই চা খাইবা’?
নিরুত্তর সুদীপ্ত চোখ কচলে ঘরে ঢোকে ।
এরপর ভলিউম কমিয়ে ইজ্জত  ও হিজাব সহকারে হেঁড়ে রাগের যুগলবন্ধী চলতে থাকে।।
continue reading

৩১৭

তানিম হক

৩ বছর আগে লিখেছেন

অসময়ের প্রেম এলোমেলো (প্রতিযোগিতা ২০১৬ - ক্যাটাগরি-০২, গল্প, পর্ব-২)

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না, রবিন্দ্র সাহেব এই গানটা আজ মনের ভিতর কিছুটা অশান্ত করেছে, সিনথিয়ার কথা বলছি, খুব আদুরে গলায় প্রায়ই বলতো, তোমাকে একদিন না দেখে হয়ত বাঁচা যায় না, খুব সকালে চাচা দোকান খুলতে পারেন না তাই, সকাল বেলা উঠে আমিই খুলি, একের পর এক কর্মচারীরা আসে অনেকটা নওয়াবী হালে, তবে নওয়াবী বলা যায় না, ওদের ডিউটি যেন ওদের রোবট করে ফেলেছে , সকাল ৯টা থেকে শুরু সেই রাত দশটায় ফিরে ওরা, সকাল বেলা আমি একাই খুলি, ফটোকপিয়ার গুলো চালু দিয়ে গরম করি, মোবাইল গুলো সচল করি, এক কাপ চা এনে পত্রিকা খুলে... continue reading

৮৩৮

রুদ্র আমিন

৩ বছর আগে লিখেছেন

নাট্যমঞ্চ (প্রতিযোগিতা ২০১৬ - ক্যাটাগরি-০২, অনুগল্প, পর্ব-২)

কলাম করা একটি চারা গাছ এনেছিলাম। সময়টা শুধুই মনের দাবি। কখন, কোনদিন, কোন বার, কোন সময়ে? আকাশে কালমেঘ যখন স্বচ্ছ আকাশটাকে আধা জ্বলন্ত চুল্লির ধোয়ায় চোখে জল নিয়ে আসে ঠিক তেমনি। চোখের জল ছাড়া কিছুই বলতে পারি না। মনেও পড়ে না। শুধু বেদনার জল, স্মৃতির ছলছলানির কথাই স্মরণ হয়।
মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কলামের চারা থেকে ফল আহরন করবো না। যেদিন পরিপক্কতা পাবে কিংবা যেদিন ফল দিয়ে সে তৃপ্ত হবে সেইদিন নেব। চারা গাছে একদিন মুকুল এলো এর পর ফলের পথে পথ চলতে শুরু করলো। একদিন ফল পরিপক্কতার রূপ ধারন করলো। লোভ সামলানোটা কষ্টের রুপে বেদনা হয়ে উপস্থিত হলো।... continue reading

৩৯৯

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

লাল গরু (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা ২০১৬ - দ্বিতীয় পর্ব, ক্যাটাগরি-০২, ছোট গল্প)

ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। বড় ভাই কামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর জামাল উদ্দিন কোন ঈদে কোরবানি দিতে পারেনি। আজ থেকে পনের বছর পূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন কামাল উদ্দিন। জামাল উদ্দিন ভাবছে এবার নিজের পোষা লাল গরুটা বিক্রি করে কোরবানিতে শরিক হবে।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর জামাল উদ্দিন ও স্ত্রী জরিনা বেগম তাদের শোবার ঘরে আসলো। জামাল উদ্দিন বালিশটা টেনে হেলান দিয়ে বসলেন। জরিনা বেগম একটি পান মুখে দিয়ে বললেন, কি ব্যাপার আইজকা এতো তাড়াতাড়ি শুইয়া পড়বেন নাকি?
– না। তোমার সাথে কিছু কথা আছে। তার আগে আমারে এক খিলি পান দাও।
জরিনা বেগম সুপারি, জর্দা, খয়ার ও চুন... continue reading

৬১১

মাদিহা মৌ

৩ বছর আগে লিখেছেন

রোজনামা

সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগীতা - ২০১৬ এর জন্য
এক
ন্যাপথলিনের উগ্র গন্ধে ভারী হয়ে আছে আট বাই চার ফুটের তাকটি। বছরের পর বছর এই আলমারির তাকে থরে থরে সাজানো কাপড়ের নিচের নির্দিষ্ট একটা জায়গায় পড়ে আছি। নয় মাসে ছয় মাসে একবার হয়তো বাইরের আলো বাতাসের দেখা পাই আমি। যখন এই আলমারির মালকিন গোছানো কাপড়চোপড়গুলো নিপুণ হাতে আরো নিখুঁতভাবে গোছায়, তখন। তার হাতের স্পর্শে মনে পড়ে
আমার অস্তিত্ব। বাকি সময়টাতে আমি ভুলেই যাই আমি কে। কেন বছরের পর বছর আমাকে এভাবে নির্জীবভাবে পড়ে থাকতে হচ্ছে।
ন্যাপথলিনের কল্যাণে পোকামাকড় আমার ধারে কাছে আসতে পারে না। মালকিন প্রায়ই ন্যাপথলিন দিয়ে যায়। এখানে অযত্নে পড়ে থাকলেও... continue reading

৪৩৯