"গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

রুদ্র আমিন

৩ বছর আগে লিখেছেন

অনুভবে তুমি (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা-২০১৬/ ৩য় পর্বঃ ক্যাটাগরী-২)

বর্ষাঃ শেষ পর্যন্ত তুমিও চুটিয়ে প্রেম করলে রুদ্র? আজকাল তো প্রেমের কথা পেটের ভেতরেই রাখতে হয় পুরে… বলতেও লজ্বা হয় আর ভাবতে তো কথাই নেই ।
রুদ্রঃ আফা কি আর কমু কন…গরীবের তো ঐ একখান জমিন, আসমান, সাগর-নদী।
বর্ষাঃ সব বুঝলাম এবার বলো তো তুমি কার সাথে প্রেম করছো ?
রুদ্রঃ আফা হাইসেন না, কতা দিতে ওইবো।
বর্ষাঃ কি এমন কথা বলবে যে সে কথা শুনে আমি হাসবো ? মেয়েটি দেখতে কেমন ?
রুদ্রঃ আফা সে দেখতে খুব সুন্দর, ঠিক কোকিলের লাহান। কি সুন্দর চোখ, গতর গাও বেশ লাতুস লুতুস….এক বছর হইবো তার সাথে দেখা হইছে। যতদিন... continue reading

৪১৭

সেলিনা ইসলাম

৩ বছর আগে লিখেছেন

শুকনো গোলাপের প্রেম (সৃজনশীল-ব্লগিং-প্রতিযোগিতা-২০১৬-৩য়-পর্বঃ-ক্যাটাগরী-২)

এক

রাজু বিষণ্ণ মনে জানালার কাছে বসে,অঝরে বৃষ্টি ঝরে যাওয়া দেখছে। মাঝে মাঝে হাতটা জানালার বাইরে বাড়িয়ে দিয়ে দেখছে বৃষ্টি কতটা জোরে পড়ছে। বৃষ্টিটা যে এত দীর্ঘ সময় ধরে হবে তা সে ভাবেনি! সময় যত যাচ্ছে হার্টবিট তত যেন দ্রুত হচ্ছে! মাঝে মাঝে ভীষণ কান্নাও পাচ্ছে। কিন্তু কী করবে বা কী তার করা উচিৎ কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। একবার ভাবছে বৃষ্টি হয়ে ভালোই হল। অন্তত একটা অজুহাত দেখান যাবে...! আবার ভাবছে না গেলে কী ভালো দেখাবে? মনের দোলাচলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না রাজু...। সে ভাবতেই থাকে। এমন সময়  ফোনটা বেজে উঠে। বিরক্তি নিয়ে ফোনটা ধরে। বলে-
... continue reading

৬০৩

দীপঙ্কর বেরা

৩ বছর আগে লিখেছেন

বেঁচে থাকার মজা (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা ২০১৬ ৩য় পর্ব ক্যাটাগরি ২ গল্প)

 

-দাদা , ও দাদা । ও দাদা আপনাকে
বিতিনকে দাঁড়াতেই হল । পেছন ফিরে গলা তুলে নিজের দিকে আঙ্গুল করে বলতেই হল - আমাকে ?
ভদ্রলোকে কলিং ফোন পকেটে রাখতে রাখতে এগিয়ে এল - হ্যাঁ আপনাকেই ?
- হ্যাঁ , বলুন ।
- আমি আপনাকে চিনি । আপনি কি এখানেই থাকেন ?
সঠিক ঠিকানা পরিচয় দেওয়া ঠিক হবে কি না বুঝতে না পেরে বললাম - হ্যাঁ , এই সামনেই থাকি । আপনি ?
-আমি ঠিকাদার অবনীবাবুর লোক ।
সঙ্গে সঙ্গে মাস ছয় সাত আগে নবাবগঞ্জের সমবায়ের সামনে অবনীবাবু আর তার দলবলের সাথে সিকি কাজ করে পুরো পয়সা... continue reading

৩১৮

মুদ্রা

৩ বছর আগে লিখেছেন

এক মৃত্যুর একাধিক মৃতদেহ

একটার পর একটা ফোন দিয়ে যাচ্ছে শিউলি,কিন্তু আজ সেদিকে রহিমের কোন খেয়াল নেই।রহিম বেশ যত্ন করেই আধো খাওয়া সিগেরেটটা জ্বালাচ্ছে,তিন দিন হল গুলশানের এই চায়ের দোকানের বেঞ্চির সাথে তার সখ্যতা।প্রথম দিন স্যারের বাসার সামনের ওয়েটিংরুমে দাড়োয়ান বেশ কিছুক্ষণ অনুমতি আনতে গিয়ে দাড়া করিয়ে রাখলেও,দ্বিতীয় দিন গলাধাক্কা দিয়ে তাকে বের করে দেয়।তারপরও স্যারেকে একবার দেখে একটু কথা বলবার আশায় সে স্যার বাসার কাছের এই চায়ের দোকানে বেঞ্চিতে বসে আছে।স্যার রহিম কে বেশ স্নেহ করতেন তাই রহিমের ধারণা যে কিছু বলতে চাইলে স্যার অবশ্যই সেটা বুঝবেন,ওদিকে বেঞ্চির মালিক দোকানদার বিরক্ত হলেও রহিমের মায়া মাখা চেহারাটার দিকে তাকিয়ে কেন জানি অযথা বসে... continue reading

৩৫৮

জাকিয়া জেসমিন যূথী

৩ বছর আগে লিখেছেন

গল্প শিরোনামঃ “বিষাদ কাহন” (সৃজনশীল ব্লগিং প্রতিযোগিতা-২০১৬/ ৩য় পর্বঃ ক্যাটাগরী-২)

জানালার পর্দা গলে দিনের আলো উঁকিঝুকি দিচ্ছে। গায়ের ওপর থেকে লেপ সরিয়ে দেয় নিশি। মাথার নিচের বালিশটাও সরিয়ে একপাশে রেখে দু পায়ের পাতা সোজা টান টান করে দুই হাত শরীরের দু পাশে আড়াআড়ি করে রাখে। একটু পরে উপুড় হয়ে শোয়। দুই পা টান টান। হাত দুটো ভাঁজ করে কপালের নিচে রাখা। ঘুম থেকে জেগে ইয়োগার আসনের মাধ্যমে একটু একটু করে আড়মোড়া ভাঙ্গে ওর। তিন চারটা ইয়োগা-আসন হালকাভাবে নেয়ার পরে বক্স খাটের ড্রয়ার থেকে ট্যাব টা নিয়ে সুইচ অন করে। নোটিফিকেশনে ইমেইল আর ফেসবুক বার্তা আসে। ট্যাব ওপেন হতেই একটি বার্তা ছুটে আসে__
কিশোর: আপি, কেমন আছো? শুভ সকাল।
... continue reading

২০ ৭১৫

এ.টি. নূর শেখ লিটা

৩ বছর আগে লিখেছেন

"কনফেসন অব আ সাইকো"

টেবিলের উপরে খবরের কাগজটা খুব ধীরে ছুঁড়ে দিয়ে সাংবাদিক লুতফুন নাহার অর্শা জিজ্ঞেস করেন-“তাহলে মিঃ রিফাত, খুনগুলো কিভাবে করতেন আপনি! আই মিন, স্বাভাবিকভাবে সিরিয়াল কিলারদের যেমনটা হয় আরকি সবারই নিজেস্ব একটা স্টাইল থাকে কিনা…!” একবার কেশে নিয়ে সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসতে বসতে পুনরায় বলেন তিনি-“তা আপনার স্টাইলটা কেমন!? সেটাই জানতে চাইছিলাম আরকি।”
-“স্টাইল! হাহা…” টেবিলের অপর প্রান্তে বসা লোকটা হাসতে হাসতেই সামনের দিকে ঝুঁকে এসে বলে-“ আমি কেবল কনফার্ম করি ব্যাপারটা। ঠিক এইদিকটায়,(কপালের মাঝে আঙ্গুল ঠেকিয়ে দেখিয়ে দিয়ে) কপালের মাঝ বরাবর বন্দুকটা ঠেকাই আমি, নাহ! ওটাকে বন্দুক নয়, বরং আমার প্রিয় সঙ্গী বার্সা বললে বেশ হয়। যাই হোক কপালে ঠেকিয়েই আমি... continue reading

৪৪৬

হরি দাস পাল

৩ বছর আগে লিখেছেন

বেঁচে থাকার সুখ(প্রতিযোগীতা/২০১৬, ক্যাটাগরি-২)

যে অফিসে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল, সেই অফিসের রিসিপশনিষ্ট মেয়েটিকে নিয়ে একটা গল্প লেখার কথা ভেবেছিল আসাদ। পরিপার্টি সুন্দর অফিসের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে মেকাপের আড়ালে বয়স লুকানোর যথার্থ চেষ্টা করেছে মেয়েটি এবং সফলও হয়েছে বলতে হবে। মাত্র একঘন্টা মেয়েটির সামনে বসে থেকে আসাদের মধ্যবিত্ত মানুসিকতা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেল যে, এই অফিসের অন্তত ছয় জনের সাথে মেয়েটির গভীর প্রেমের সম্পর্ক্য আছে। আরো দুজনের সাথে হবু হবু প্রেম। মেয়েটি আশ্চর্যজনকভাবে অফিসের বেশিরভাগ কর্মচারীরর বাড়ির খবর, ঘরের খবর এমনকি হাড়ির খবরও জানে। ছেলের জন্মদিনে আয়নাল সাহেব কি রঙের শার্ট পরেছিলেন, আজিজ ভাইয়ের শ্যালিকা কার সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে, হারুন সাহেব ডিনারে কি... continue reading

৩৪১

আবু সাঈদ আহমেদ

৩ বছর আগে লিখেছেন

ফুলকি

 
: বেপারী, কামটা বালা করতাছো না।
: আমি কি কইছি কামটা বালা করতাছি- তালি বাজায়া নাচো!
: আমি পোলাপানগো হাতে দইরা কাম শিখাই। তুমি তাগো ভাগায়া লিয়া যাও।
: আমি ভাগামু, তুমি হালায় কিমুন ওস্তাদ অইলা যে তাগো আটকায়া রাখতে পারো না!
: বেপারী, খোচা দিতাছো! দাও।
: দিমুনা কেলা! কও! আপন বায়েরা তোমার ভিটি বাড়ি দখল কইরা লিলো। মাগার কিচ্ছু কইলা না। জোয়ান বয়সে বাচ্চা হইতে গিয়া বৌটা মইরা গেলো। পোলার কথা চিন্তা কইরা আবার বিয়া করলা না। ঐ পোলা অহনে তোমার খোজ খবর'ভি লয় না।
: বেপারী, এই সব গান্দা প্যাচাল বাদ... continue reading

৫১৪

টি.আই.সরকার (তৌহিদ)

৩ বছর আগে লিখেছেন

মহব্বত আলীর মাইক্রো বিলাস (পর্ব-৩, ক্যাটাগরি-২)

মহব্বত আলী । সহজ-সরল ধাঁচের সাধারণ একজন মানুষ । বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি । জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছেন বেশ কয়েক বছর আগে । কাজ করেন গার্মেন্টস কারখানায় । সুপারভাইজার জাতীয় কোন এক পদে চাকরি করছেন প্রায় দু’বছর । ১২ হাজার টাকা বেতন থেকে খাওয়া-দাওয়া আর ঘর ভাড়া দিয়েও মাসে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারেন । বাড়িতে বৃদ্ধ মায়ের সাথে স্ত্রী আর দুই ছেলে-মেয়ে । স্বল্প আয়ের হলেও বেশ গোছানো সংসার মহব্বত আলীর । মেয়েটা সামনে এসএসসি দেবে । ছোট ছেলেটা ক্লাস সেভেনে পড়ে । ওদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেই মূলত মহব্বত আলীর গ্রাম ছেড়ে শহরে আগমন ।... continue reading

৩৭২

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

মা

ঠক ঠক করে দরজা ধাক্কানোর শব্দ হচ্ছে।
বীণা এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিল তাই সে শুনতে পায় নি। নিশ্চয়ই তার স্বামী এসেছে। বুকের ভেতর ধক করে উঠলো তার।
বীণার স্বামী নিয়াজুল হক। ডাক নাম নিয়াজ। একটি মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরি করে। ছয় বছর আগে বেশ শখ করে নিয়াজের সাথে বীণার বিয়ে দিয়েছিলেন বীণার বাবা। বিয়ের পর বীণা বুঝতে পেরেছিল তার বাবা মেয়ের জন্য পৃথিবীর সবচাইতে যোগ্য ছেলেটিকেই নির্বাচন করেছেন। অনেক সাজানো গুছানো সংসার ছিল একসময় তাদের। কিন্তু এখন?
বীণা কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা খুলে দিল। নিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। দরজা খুলতে অনেক দেরি করে ফেলেছে সে। সারাদিন ঘরের কাজ কর্ম... continue reading

৪৬৬