"গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

সমুদ্র মিত্র

৪ বছর আগে লিখেছেন

শোষন ব্যাবস্থা

একদিন কোন এক ভালো এবং জ্ঞানী মানুষ এক অন্ধ শহরে ঢুকে পড়লো, সে চাইলো এই শহরের মানুষগুলো আর অন্ধ না থেকে জানুক তাদের অন্ধত্ত্বের কারন আর তারা এই ভ্রান্তির জগত থেকে মুক্তি পাক।
  কিন্তু এই শহরের কেউ তাঁর কথা শুনলো না,উল্টো তাকে পাপী আর নিয়মভঙ্গকরী বলে আখ্যা দিয়ে তাঁকে অনেক মারলো আর তাঁর চোখ উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল।
  কারন,ঐ শহরের ধর্মই ছলো এমন।ঐ শহরের নিয়ম ছিলো কারো ঘরে কখনো আলো জ্বলবে না,আলোকে অস্বীকার করাই ছিলো তাদের ধর্ম । আর,
  এই ধর্মের স্রষ্টা যিনি ছিলেন তিনি ছিলেন নিশাচড় প্রাণীর মতই হিংস্র প্রকৃতির।যে কিনা সর্বদা আলোকে ভয় পেতো আর... continue reading

৫১১

হরি দাস পাল

৪ বছর আগে লিখেছেন

ভোম্বলের বউ

ভোম্বল আমার কাছের বন্ধু ছিল কারন, আমরা স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে বোম বাষ্টিং খেলতাম। পৃথিবীর সবথেকে মজার খেলার মধ্যে বোম বাষ্টিং অন্যতম। এত কম পয়সায় এর চেয়ে বেশি বিনোদন আর কোন খেলাতেই নেই।
খেলার সরঞ্জাম বলতে একটা টেনিস বল ছাড়া কিছু না। প্রথমে বলটি উপরে ছুড়ে মারো। নিউটনের আপেলের মত বলটি যখন নিচে পরবে খপ করে ধরে, বলটি উপরে না উঠে নিচে নামলো কেন এসব অবান্তর কথা না ভেবে, যাকে সুবিধা ধিপ করে তার গায়ে মেরে দাও।
আমার কব্জিতে খুব বেশি জোর না থাকলেও হাতের এইম ঠিক ছিল ষোলআনা। তাছাড়া বল যত জোরেই গায়ের দিকে আসতো না কেন, আমি... continue reading

৪৪২

Riad Al Sahaf

৪ বছর আগে লিখেছেন

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

প্রায় মধ্যরাতে রিকসায় হলে ফিরছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। রিমঝিম বৃষ্টি না, একেবারে মুষলধারে বৃষ্টি।
রিকসাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম পলিথিন আছে কিনা। মানা করলো। সাথে মোবাইল, মানিব্যাগ আছে তাই বৃষ্টিতে না ভিজে দৌড়ে রাস্তার পাশে এক যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিলাম। রিকসাওয়ালাও আমার পাশেই বসলো।
বাড়ি কোথায়, ঢাকায় কোথায় থাকে এইসব টুকটাক কথা বলছিলাম। বললো যে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই থাকে। রিকসাটা তালা দিয়ে পাশেই বিছানা করে শুয়ে ঘুমায়। এরকম অবশ্য অনেককেই ক্যাম্পাসে থাকতে দেখি।
এমন সময় উনার ফোন এলো। বৃষ্টির কারণে কথা শোনা যাচ্ছিলো না তাই লাউড্স্পীকার অন্ করলেন তিনি। অপাশ থেকে কথা বলছেন উনার স্ত্রী।
কথোপকথনের... continue reading

৭৬১

মোঃ মুতাসিম উদ্দিন

৪ বছর আগে লিখেছেন

অর্ধেক গল্প

এটা একটা প্রেমের গল্প। এটা একটা বিরহের গল্প। এটা আমার বন্ধুর গল্প।  
আমার বন্ধুটার নাম ছিল নুহাশ কিংবা রাফি। আবার অর্কও হতে পারে।   সে তখন কলেজে পড়তো বা পড়তো না। তবে একথা ঠিক, তার তখন কলেজে পড়ার মতনই বয়স।  
সে একটা মেয়ের প্রেমে পড়ল। মেয়েটার তখন পুতুল খেলার বয়স। সাত, আট কী নয়।  
নুহাশ কিংবা রাফি অথবা অর্ক মেয়েটাকে খুবই ভালবাসতো। মেয়েটা তাকে ভালবাসতো নাকি সেটা কেউ জানে না। তবে আমি জানি, মেয়েটা আমার বন্ধুকে দেয়ার জন্যে চকোলেট জমিয়ে রাখতো। নতুন আঁকা কোন ছবি বা প্রজাপতি লাগানো চুলের ক্লিপটা আমার বন্ধুকে না দেখানো পর্যন্ত... continue reading

৬০২

অজুফা অজু

৪ বছর আগে লিখেছেন

চতুর্ভুজের দুঃখ

আমি ঋদ্ধ।ঋদ্ধ নামটি আমার একদম ভাল লাগে না। কারণ ঋদ্ধ মানে সমৃদ্ধ। কিন্তু আমি কোন কিছুতেই সমৃদ্ধ না। টিচাররা বলেন আমি নাকি গাধা। আমার কোন বুদ্ধি নেই। আমি পড়া মনে রাখতে পারি না। প্রতিদিনই ক্লাসে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।দাঁড়িয়ে থাকতে আমার একদম খারাপ লাগে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি অনেক কিছু ভাবি। ভাবতে ভাবতেই ঘণ্টা পরে যায়। আমি যা ভাবি তা কাউকেই বলতে পারি না। কে শুনবে আমার কথা? ক্লাসের ভাল ছেলেগুলো আমাকে দেখতে পারে না আর দুষ্টগুলো খালি মারামারি করে। আমি কিছু না করলেও আমাকে মারে। বড় আপার কাছে আমার নামেই সবাই বিচার দেয়। সেদিন বড় আপা আমাকে... continue reading

৪৭৬

ধ্রুব বাধন

৪ বছর আগে লিখেছেন

ব্রেসলেট (The Bracelet)

ব্রেসলেট (The Bracelet )    "দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ ঝামেলায় পড়ি । বিশেষ করে এমিলিয়ার সামনে। এমিলিয়া আমার বর্তমান সঙ্গী । আমি এমিলিয়াকে কিছুটা ভালোওবাসি । প্রচণ্ড দুঃসময় এ হাত ধরে রাখা খুব অল্প কয়েকটা মেয়ের মাঝে এমিলিয়া একজন। এই এমিলিয়া যখন লাল সবুজ হলুদ রং এর একটি ব্রেসলেট কেন আমি হাত থেকে খুলি না কোন সময় – এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় তখন সত্যিকার অর্থে় মন খারাপ হয় ।    শ্রুতির সাথে পরিচয় আমার মেয়েবন্ধু অ্যাথনিয়ার মাধ্যমে। শ্যাম বর্ণের কালো চুলের উপমহাদেশীয় নারী শ্রুতি। প্রথম দেখাতেই মেয়েটির প্রেমে পড়লাম। অজানা কারনে প্রচণ্ড রকমের অহংকারী মনে হয়েছিল ওকে। যদিও শ্রুতির... continue reading

৭৩৯

আমির ইশতিয়াক

৪ বছর আগে লিখেছেন

পকেটমার

- এই যে ভাই ভাড়া দেন।  কন্ট্রাক্টর ভাড়া চাইতেই প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে শক খেলাম। আমার মানিব্যাগ গায়েব হয়ে গেছে। পকেটে খুচরা টাকাসহ সব মিলিয়ে ৫০০/৬০০ টাকা ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভোটার আইডিকার্ডসহ সবই পকেটমার নিয়ে গেছে, আমি টেরও পেলাম না।  - কী হলো ভাই ভাড়া দেন।  আমি নম্র স্বরে বললাম, ভাই আমার মানিব্যাগ পকেটমার নিয়ে গেছে। তাই ভাড়ার টাকা দিতে পারছি না।  - মশকরা করেন ভাই। জলদি টাকা দেন। নইলে এখানেই নেমে যেতে হবে।  - বিশ্বাস না হলে নামিয়ে দিন।  কন্ট্রাক্টর আমার কথা বিশ্বাস করলেন না। তিনি মনে করলেন আমি সত্যিই মিথ্যা কথা বলছি। তাই ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলে আমাকে... continue reading

৩৯২

রাজীব নূর খান

৪ বছর আগে লিখেছেন

রমিজের বিবাহিত জীবন

রমিজ আমার বন্ধু। ভেরি ক্লোজ ফ্রেন্ড। সে বিয়ে করেছে প্রায় দুই বছর হতে চলল। যারা নতুন বিয়ে করবেন ভাবছেন তাদের অবশ্যই রমিজের বিবাহিত জীবনের ঘটনা জানা খুব প্রয়োজন। তাহলে বিয়ে করার পর আপনাদের বিবাহিত জীবনের সমস্যাগুলো দূর করতে পারবেন। রমিজ বলে, আমার জীবন বিসর্জন দিলাম আপনাদের জন্য। আমি যে সমস্ত ভুল গুলো করেছি- তা যেন আপনারা না করেন। বিয়ের সাতদিন পর রমিজ আমাকে খুব আক্ষেপ করে বলেছিল- দোস্ত, ক্যান তুই আমাকে বিয়ের সময় বাঁধা দিলি না। ... আহারে তখন যদি কেউ আমাকে একবার বুঝিয়ে বলত- বিয়ে করিস না, তাহলে এই... এই সমস্যা। আমি বিয়ে করতাম না। আল্লাহর কসম আমি... continue reading

৫৪১

রুদ্র আমিন

৪ বছর আগে লিখেছেন

আবিরের লাল জামা

আবির: বাবা, ও বাবা, কথা বলো। আমি আর রিমোট গাড়ি, লাল জামা চাইব না। তুমি কথা বলো। [রুদ্রের ছেলে আবির ঈদের আবদার ছিলো লাল জামা আর রিমোট কন্ট্রোল একটি গাড়ি। দারিদ্রের করালে রুদ্র আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। হাসপাতালের মেঝেতেই তার অবস্থান।]

প্রতিদিনের মতো সেদিনও রুদ্র পেটের দায় ঘোচাতে পাখি ডাকা ভোরে কাজের সন্ধানে বের হয়। রমজান মাস রোজা রাখলে চাল ডালের খরচটা কিছু কমে। তারপর আল্লাহর হুকুম মেনে চলা যায়। জীবনটা ও বেঁচে যায় অর্থেরও কিছু অভাব পূর্ণ হয়। রোজার মাসটি এভাবে কাটছে রুদ্রের সংসারে। স্ত্রী, রুদ্র ও তার ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান।
প্রতিদিন কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে... continue reading

৪৮৩

রাজীব নূর খান

৪ বছর আগে লিখেছেন

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা

এক কৃষকের সখ বিভিন্ন জাতের ঘোড়া সংগ্রহ করার। তার সংগ্রহ সম্পূর্ণ করতে এখন শুধু এক ধরনের ঘোড়ার প্রয়োজন, যেটা তার প্রতিবেশীর কাছেই রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী সেটা বিক্রয় করতে ইচ্ছুক নয়। তারপরও সে প্রতিদিন তাকে বিরক্ত করেই যাচ্ছে ঘোড়াটা বিক্রি করার জন্য।
শেষ পর্যন্ত সে তার প্রতিবেশীকে রাজী করাতে সক্ষম হয়, কিন্তু তার এই আনন্দও বেশী দিন সইল না। এর এক মাস পরেই ঘোড়াটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। পশু ডাক্তার এসে ঘোড়াটিকে দেখে বলল এটি একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ভাইরাসে আক্রান্ত। সে কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে বলল এগুলো তিন দিন ধরে খাওয়াতে হবে। এর মধ্যে সুস্থ না হলে তিন দিন পরে ঘোড়াটিকে মেরে... continue reading

৩২৩