"গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

রুদ্র আমিন

৩ বছর আগে লিখেছেন

আমি তোমাকে ভালবাসি

পৃথিবীর প্রতিটি মুহুর্ত একটি বাস্তবতা। শুধু সময়ের অপেক্ষায় সেই সকল বাস্তবতা স্থির হয়ে থাকে। একটু সুযোগ পেলেই যেন কসাইয়ের মতো গায়ের চামড়া তুলতে শুরু করে। এটা একপক্ষে অন্যপক্ষে এমনটি নাও হতে পারে, দেখা যায় অন্যপক্ষে হাতে সেই রুপোর কাঠি আর সোনার কাঠির রাজপুত্রের মতো। রাজ সিংহাসন, রাজরানী, মাধুরীদীক্ষিত আর নামীদামি ব্যান্ডের পণ্য সামগ্রী…. কই কাউকেই তো দেখি না চেমেলীদের খবর নিতে, ভালবাসতে।
আসলে অন্ধকার জগত সৃষ্টি করা যতটা সহজ আলোকিত পৃথিবীর কথা ভাবা ততটা সহজ নয়, যেখানে আলোর কথায় উঠতে বসতে বিদ্রুপের কষাঘাত হৃদয়ে আঘাত দিতে পারে। ধবংস সেখানে খুবই সহজ ক্ষেত্র সে ভালবাসাই হোক আর বেঁচে থাকার নুন্যতম... continue reading

১৯২৮

মামুন

৩ বছর আগে লিখেছেন

ব্যাধি

একজন লেখক তার জীবনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে সাজাতে পারেন। এক একটি অণুগল্প - লেখক জীবনের মুহূর্তগুলোর খন্ডাংশ!
নিজের জীবনের অণুগল্পগুলো লিখা শুরু করা দরকার। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে শুরু করবে, ভেবে পায়না আমান।
চলমান সময় এক ব্যাধি। সময়ের বুক খুঁড়ে খুঁড়ে  নিজেকে কি নির্বিকার ভাবেই না খেয়ে ফেলছে।
ব্যাধি আমানের নিজের শরীরেও বাসা বেঁধেছে। ওর নিজের শরীরের পুষ্টি পেয়ে  ধীরে ধীরে ওকেই শুষে নিচ্ছে। সবসময়ে আমানের সাথেই এমন কেন হয়?
নক্ষত্রখচিত এক নিশ্চুপ আকাশ। থমকে থাকা সময়ের আঁচল ছেড়ে  ছুটে আসা দমকা বাতাসের এলোমেলো তোড়ে আমানের চিন্তাস্রোত একটু হলেও যেন এলোমেলো হয়।
বেডসাইড টুলের ওপর ছবির একটি ফ্রেম। ওখানে স্মৃতিদের... continue reading

৪৪২

মামুন

৩ বছর আগে লিখেছেন

পথের বাঁকে

একটানা অনেকক্ষণ হাঁটবার পর, সামনের পথ কিছুটা ঢালু হয়ে এসেছে, অনুভব করল আমান। দু'পাশের 'অ্যাকাশিয়া' (আকাশী)' গাছগুলোর সৃষ্ট টানেলটি- মায়াবি সবুজ! দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ভালোলাগাদের চোখের পাঁপড়িতে  মৃদু কম্পন ওঠে। সময় যেন পলকের তরে থেমে যায়।
কলেজ ফিল্ডে তিন যুবক। ফাঁকা গোলপোষ্টের পেছনে গোল হয়ে বসা। আমানকে দেখে ঘোলা চোখে একপলক তাকায়। সিগ্রেট মিশ্রিত মারিজুয়ানার হাল্কা মিষ্টি ঘ্রাণ বুকে নিয়ে নেচে আসা দমকা হাওয়া, আমানের নাসারন্ধ্রে ঝড় তোলে। ওর দৃষ্টির প্রখরতা ছেলেগুলোর নির্লিপ্ত চাহনির সামনে কেমন নিস্প্রভ হয়ে আসে।
স্মৃতির চড়ুইগুলো কি আরো ধুষর ছিল?
আমান হাটে আর ভাবে। একজন পরাজিত মানুষ। যার স্মৃতির চড়ুইগুলো কেবলই ধুষর থেকে ধুষরতর।
আমান।... continue reading

৪৮৮

সমুদ্র মিত্র

৩ বছর আগে লিখেছেন

নিজের সাথে কথোপকথন

হুম...কথা সত্য,ভালোবাসাটা অর্থহীন । তারপরও তুমি ভালোবাসতে পারও । কেননা মানুষের মস্তিষ্কের একটা সীমাবদ্ধতার নাম ভালোবাসা,তাই এটা মানুষ কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারে না । শত চেষ্টা করলেও পারেনা ।  
এই পৃথিবীতে যা কিছু দেখছো এই সব কিছুই তৈরী হয়েছে ঘৃণা,ভালোবাসা, যৌনতা আরও নানান রকম অাবেগীয় অনুভূতিগুলো থেকে। এগুলোও মানুষের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা । মস্তিষ্কতোই মানুষের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে তাই না ।   
প্রকৃতি বিবর্তনের পথ ধরে চলে আসছে তাই সে প্রতিনিয়ত এই সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো নিয়ে  ভেবে চলেছে,এগুলোর সমাধান খুঁজছে ।   
শ্রী কৃষ্ণ বললেন, নিষ্কাম কর্ম করো । জীবনানন্দ তাঁর কবিতায় নির্লিপ্ততা খুঁজেছেন । লেখক হূমায়ুন হিমুকে নিয়ে কলকাঠি... continue reading

৬০৯

মামুন

৩ বছর আগে লিখেছেন

সেই মিথিলা (ধারাবাহিক গল্পঃ ১)

একটি ছোট গল্প লিখেছিলাম 'এক হৃদয়হীনা' নামে। গল্পটি পড়ে বিশেষ করে নিচের লাইনগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে, আমার শ্রদ্ধেয় এক শিক্ষক (গুরুজন) কিছু মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম- পরবর্তীতে সময় সুযোগ হলে আমি গল্পটির আরও একটি পর্ব লিখবো। এবং  হয়ত সেখানে অনুচ্চারিত প্রশ্নটির একটি উত্তর পাবো আশা করছি।
লাইনগুলো হলো-
..." সেই মিথিলাকে শেষবার দেখি এক আলোকোজ্জ্বল রাতে! রঙ বে-রঙের পোশাক পড়া অতিথিদের ভিড়ে... অপ্সরী সেজে বসে আছে সে! চারিদিকে এতো আলোর ভিতরে আমাকে নিকষ কালো আঁধারে ডুবিয়ে সে চলে গেলো অন্য একজনের হাত ধরে! সানাই বেজে চলেছে... সেই সানাইয়ের সুরে সুরে সে চলে গেলো... ফিরে এলোনা! ওর... continue reading

৪৯০

দীপঙ্কর বেরা

৩ বছর আগে লিখেছেন

পোড়ো বাড়ি

(ভূতের অণুগল্প)   আবিল মুখ তুলে হাঁ-করে চেয়েই থাকল পোড়ো বাড়িটির দিকে । আশেপাশে চারিদিকে সব শহরের হাওয়া লেগে গেল । আর এটা কারো চোখেই পড়ল না । হাজার বার এই পথে যাওয়া আসা করেছে কিন্তু নিজেরও তো চোখে পড়ে নি । কাওকে কিছু না বলে নিজেই দাঁও লাগাবে বলে আজ দু-গাড়ি মাল ফেলেই একা মোটর সাইকেল নিয়ে গলি পথ ধরে এই পোড়ো বাড়ির সামনে । ঢুকে দেখল পোড়ো তবে বেশ পরিচ্ছন্ন । বিকেলের লাল আভায় বেশ মায়াবী । পায়ের ছাপ স্পষ্ট । কিছু ঝড়ঝাড় পাখির শব্দ , মাকড়সার জাল গুছিয়ে সরানো । গাছের শেকড় দেওয়াল বেয়ে ছবির মত নেমে... continue reading

৪৫৫

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

আংটি

১।
শ্রাবণীর ফোন বেজে যাচ্ছে সেই সকাল থেকেই।
কিন্তু তার ফোনটা ধরতে ইচ্ছে করছে না। নিশ্চয়ই তার বন্ধুরা তাকে ফোন করছে। কাল শ্রাবণীদের পরীক্ষা। প্রায় সব পরীক্ষার আগেই তারা সব বন্ধুরা মিলে ভার্সিটির খোলা ক্যাম্পাসে পড়তে বসে। অনেকটা গ্রুপ স্টাডির মতো। তবে পড়াশুনা থেকে আড্ডা আর ফাজলামোই হয় বেশি। শ্রাবণীর তার বন্ধুদের কাছে আলাদা একটা গ্রহণ যোগ্যতা আছে। আর তার কারণ হচ্ছে শ্রাবণীই তাদের গ্রুপের এক মাত্র পড়ুয়া মেয়ে। স্যারদের নোট্‌স থেকে শুরু করে তাদের লেকচার সব কিছু ধরতে গেলে প্রায় মুখস্তের মতো থাকে শ্রাবণীর। তাই পরীক্ষার আগে সবাইকে পড়া আর নোট্‌স বুঝিয়ে দেয়ার এক মাত্র মানুষটি হোল সে। এর... continue reading

৮৬৬

তাহমিদুর রহমান

৪ বছর আগে লিখেছেন

বেনামী গল্প ২

আরিফুর সাহেবের মেজাজটা অত্যন্ত খারাপ। মানুষের মেজাজ মাপার কোন যন্ত্র থাকলে নিশ্চিত সবচেয়ে উঁচু মানই দেখাত। বলা হত আরিফুর সাহেব উচ্চমাত্রার মেজাজে আক্রান্ত। যার উপর তার এই মেজাজ খারাপ তার নাম হচ্ছে রইসুল, গাড়ির ড্রাইভার। একটা কাজে নিজের গাড়িটা রেখে ভাইরার গাড়িতে করে পান্থপথ এসেছিলেন। কি মনে করে প্রায় এক যুগ পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালেন। ঠিক সেই সময় তিনি উচ্চমাত্রার মেজাজে আক্রান্ত হলেন। দেখলেন রইসুল তার গাড়ি দিয়ে ভাড়া খাটাচ্ছে। তাকে যাত্রীদের কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল,
-স্যার এরা আমার দূরসম্পর্কের আত্নীয়।
-দূরসম্পর্কের আত্নীয় থেকে টাকাও নাও দেখলাম।
-স্যার আপনি যা ভাবছেন তা না। টাকা ভাংতি ছিল না তাই... continue reading

৫০৯

তাহমিদুর রহমান

৪ বছর আগে লিখেছেন

বেনামী গল্প ১

নীলয় অফিসে বের হবার সময় সিড়িতে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে তাকাল। না, প্রতিদিনের মত দিবা দাঁড়িয়ে নেই। বুঝতে পারে, গতকাল রাতের ঝগড়ার রেশ এখনো কাটেনি। গতকাল রাতে একথা, ওকথা মিলে কথা কাটাকাটি হল আর সেই থেকেই ঝগড়ার সূত্রপাত।
নীলয় আর দিবার পরিচয় বছর দশেক হয়ে যাবে কিন্তু বিয়ে হয়েছে মাত্র তিন বছর। এই তিন বছরে ঝগড়া জিনিসটা তাদের কাছে নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছি। অফিসে পৌঁছেই তার কিছু লিখতে ইচ্ছা হল। বহুদিন হল লেখালিখি ছেড়ে দিয়েছে। তবে সে আর কবিতা লিখবে না। কবিতা লিখে বড় মানুষেরা। তার মত ক্ষুদ্র মানুষ আর যাই লেখুক, কবিতা লিখতে পারে না। কোথায় জানি পড়েছিল, কবিরা হেঁটে... continue reading

৪৮৪

হরি দাস পাল

৪ বছর আগে লিখেছেন

বাতাসে প্রেম মিশে থাকে!

গ্রীষ্মকালের কিছু দুপুরবেলা শেষ হতে চায়না কিছুতেই। একরোখা সূর্য্যটা গো ধরে বসে থাকে অনেক্ষন। বঙ্গোপসাগর বাতাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এই বৃহত্তর ব-দ্বীপে। এরপর লোডশেডিং হয়ে ষোলকলা পূর্ণ হয়। এমন এক লম্বা দুপুরে বসে আছি পরিচিত চায়ের দোকানে।
আমি ছাড়া আর কোন চা পিপাসু নেই আশেপাশে। দোকানী নিজেই যেন আমার উপর বিরক্ত। আমার সামনের টেবিলে এককাপ গরম চা। একটা বিরাট সাইজের মাছি কাপের উপর ভনভন করে উড়ছে আর কাপের গায়ে লেগে থাকা কনডেন্সমিল্ক খাচ্ছে চেটে চেটে। আমি মনোযোগ দিয়ে মাছির কনডেন্সমিল্ক খাওয়া দেখছি। এমন সময় ভোম্বলের আগমন।
:হরি! তোকেই খুজছিলাম। আর দেরি করা যায়না, বুঝলি? যা করার এখনই... continue reading

৪৭৪