"গল্প" বিভাগের পোস্ট ক্রমানুসারে দেখাচ্ছে

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

ত্রিভুজ

হঠাৎ করেই বেশ সকালবেলা রাফিনের ঘুমটা ভেঙে গেল।
সকাল না বলে এখনের সময়টাকে ভোর বলাই চলে। সূর্য মাত্র উঠি উঠি করছে। এমনিতে রাফিনের বেশ ভালোই ঘুম হয়। সে প্রায় অনেকের কাছ থেকেই শুনেছে রাতে নাকি তাদের ভালো ঘুম হয় না। রাফিন তার ২৪ বছরের জীবনে এরকম কখনো অনুভব করে নি। রাতে তার বেশ ভালোই ঘুম হয়। তবে তার সমস্যাটা হয় সকালে। যখন কোন কিছু নিয়ে খুব চিন্তিত থাকে কিংবা কোন কারণে তার ভীষণ মন খারাপ থাকে তাহলে বেশ সকালে তার ঘুম ভেঙে যায়। আজও সে যথেষ্ট চিন্তিত। চিন্তিত হবেই বা না কেন? আজ তার মা আসছে তাকে দেখতে।
মা... continue reading

৪৬৩

আতা স্বপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

নাস্তিক ধোলাই (২য় পর্ব)

৩.
একবার এক নাস্কিক বন্ধু আমায় মহানবী সা: বহু বিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল। আচ্ছা তোর ধর্মগুরু মুহাম্মদ সা. তিনি বহু বিবাহ করলেন কেন? আবার তার মধ্যে একজন শিশু (কথাগুলো সে একটু ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করে বলেছিল। মহানবী সা. এর সম্মান রক্ষায় সেভাবে প্রশ্নটি করলাম না।) ।
তোর প্রশ্নের জবাব দেব। তার আগে তোকে ক্ষমা চাইতে হবে। তুই বিশ্বাস করিস আর না করিস ওনি আমার নবী। ইসলামের নবী। তাকে এভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল করা তো একদম ঠিক হয় নাই। নিজেকে এতো পারফেক্ট ভাবিস কেন? তোর ভাবনাই ঠিক এমন ভাবছিস কেন? কোন জিনিস পুরোপুরি না জেনে এভাবে সার দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষ সম্পর্কে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ... continue reading

৬৯৩

মিনাক্ষী বিশ্বাস

৩ বছর আগে লিখেছেন

বুকের মাঝে এক পরিত্যক্ত নগর

বুকের মাঝে এক পরিত্যক্ত নগর
আমি ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠি এক পরিত্যক্ত নগরীর ল্যান্ডস্কেপে। ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি ভোর তবে সূর্য উঠে নি। তড়িঘড়ি উঠে পড়ে হাঁটতে শুরু করলাম। আমি সরু একটি গলি ধরে এগিয়ে যাই, আমি জানি এখান থেকে বেশ খানিকটা হাঁটলেই বড় রাস্তা। আমি হাঁটতে থাকি সরু গলি ধরে আর এক সরু গলির ভেতরে, আমি হাঁটতে থাকি অন্ধকার থেকে অন্ধকারের ভেতরে। হাঁটতে থাকি, হাঁটতে থাকি, ক্রমশ অনুভূত হয় অট্টালিকা, সরুতর হয় গলিপথ।
অন্ধকার গলির মোড়েই খুঁজে পাই একটি দরজা। হাতড়ে কড়া নাড়ি। খুব করে ডাকি 'বন্ধু...বাড়ি আছিস...বন্ধু"
পরিত্যক্ত নগরীর দরজা কেউ খোলে না। আমি ছুটে চলি প্রতিবেশী... continue reading

৭০১

আমির ইশতিয়াক

৩ বছর আগে লিখেছেন

আয়না

রমনা পার্ক রাজধানী ঢাকার ঠিক মধ্যভাগে নগরের অক্সিজেন সরবরাহকারী হিসেবে নীরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নানা প্রজাতির গাছ, কৃত্রিম হ্রদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে পার্কটি নগরবাসীর এক প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এখানে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ নানা শ্রেণী মানুষের আগমন ঘটে।  মুনিয়া ও শ্রাবণ নামের এক প্রেমিক যুগল রমনা পার্কের ভিতর প্রবেশ করল। তারা হাঁটতে হাঁটতে রমনা পার্কের কোন একটি জায়গায় এসে বেঞ্চের উপর বসল। কিছুক্ষণ পরই নয়/দশ বছরের একটি মেয়ে কতগুলো বকুল ফুলের মালা নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসল। মেয়েটির পরনে একটি ময়লা জামা ও একটি স্যালোয়ার। মেয়েটি অসহায় দৃষ্টিতে ডান হাতে একটি মালা নিয়ে শ্রাবণের সামনে ধরে বললো, সাব মালা নিবেন! মালা!... continue reading

৪১৮

আতা স্বপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

নাস্তিক ধোলাই (পর্ব-১)

১.
আমার অনেক নাস্কিক বন্ধু আছে। এরা মাঝে মাঝে এমন ভাব নেয় যেন মহাজ্ঞানী এরিষ্টেটল। আর এমন সব প্রশ্ন করার চেষ্টা করে -ভাব খানা এমন তোরে আজকা পাইছি টাইপ। এমন একজন আমাকে বলল আচ্ছা তুই ধর্ম কেন মানিস? ধর্ম না মানলেইতো ভাল। স্বাধীন জীবন লিড করা যায়। ধর্ম মানলেই যত গেনজাম। বিশ্ব আজ ধর্মিয় উগ্রতার স্বিকার।
আমি বললাম তোর কথা শেষ? নাকি আরো কিছু বলবি?
না আগে এইটাই বল তুই ধর্ম মানিস কেন?
আমি বললাম, তার আগে তোকে একটা প্রশ্ন করি। তুই জামা কাপর পরিস কেন?
কেন আবার! আমিতো আর জংগলি না। মানুষ। আমার শরম আছে । লজ্জা আছে। তাই পরি।
জামা... continue reading

৮৭১

মামুন

৩ বছর আগে লিখেছেন

মায়ের নাইয়র

একদিন আমান হেঁটে হেঁটে চলেছিল। গন্তব্য উদ্দীশ্যহীন। ঝুপড়ি এক চা’র দোকানের সামনে ছোট্ট একটি পানের দোকান। খোলা পান বিক্রী হয় সেখানে। সাথে ‘সাদা পাতা’ এবং চুন সুপারি। দোকানে একটা ছোট টেপরেকর্ডারে বেশ উচ্চ স্বরে গান বাজছে।
‘কাজল নদীর জলোর
ভরা ঢেউ ছলছলে’… …
নিজের ভেতর থেকে আমান যেন হঠাৎ বের হয়ে আসে। ফিরে যায় অনেক আগে। নৌকায় করে বাগেরহাট থেকে নানাবাড়ি যাচ্ছে। আব্বা-আম্মা, ছোট ভাই, আর ছোট খালু। নদীর পানিতে মাঝির বৈঠা র সংঘর্ষে কোমল-মৃদু আওয়াজ। পানির নিজস্ব রঙ নেই জানে সে। কিন্তু পানির কি নিজস্ব ঘ্রাণ আছে?
ছোট খালু খুব ভালো গাইতে জানতেন। নৌকায় বসে তিনি এই গানটি গাইছিলেন!... continue reading

৫০১

শাহআজিজ

৩ বছর আগে লিখেছেন

শৈত্যসুখ

কার্ত্তিক এলেই মাজেদ উল হক কাজের মেয়েদের বলবেন ওরে তোরা লেপগুলো ছাদে রোদ্দুরে দে, একটু ঝরঝরে হোক । বেগম মাজেদ বলেন আর কিছুদিন বাদে হলেও ক্ষতি হতো না। এখন হটাৎ করেই বৃষ্টি নামে। মাজেদ সাহেব বললেন আবহাওয়া আমি খেয়াল করি, তুমি দুঃশ্চিন্তা করোনা তো।
মাজেদ দম্পতি গত ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবনে ঝগড়াতো তো দুরের কথা জোরেও কথা বলেননি। অবসর নেবার পর ধীরে ধীরে মাজেদ সাহেব একাকী হয়ে গেছেন। সরকারের শীর্ষ চাকুরীর ব্যাপারটাই আলাদা। তার সাথের অনেকে ক্লাবে যান , ফুর্তি করেন। তিনি পানাহার করেন না তাই ওদিকে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তার গাড়ি নেই , কখনো ছিলনা ওই সরকারের দেওয়া... continue reading

৩৩৯

মামুন

৩ বছর আগে লিখেছেন

তিন শহর

ফ্রাঙ্কফুর্ট। জার্মানী।
ম্যাসেঞ্জারেবন্ধুর ম্যাসেজ। আর এক মহাদেশ পার হয়ে আসাতেই যেন হ্যান্ডসেট স্ক্রীণেমৃদু কাঁপন অনুভব করে দূরের বন্ধু। মৃদু হাসি নিয়ে বিছানায় পাশ ফিরে আরামঅনুভব করে। ভালো লাগাটুকু চোখ বন্ধ করে উপভোগ করে।
স্ক্রীণে বন্ধুর মুখ।
‘ পারুর সাথে একবার কথা বলতে চাই। আমার ফোন ই ধরছে না। তোর বুবুকে বল না..’
সময় যেন থমকে যায়।
নিঃশ্বাসগুলো বিশ্বাসের ওপার থেকে এপারে আসতে বাঁধা পায়।
সমস্যারগভীরেচিন্তা-ভাবনাকে ঠাই দেবার আগেই বেদনারা ঘিরে ধরে দূরের বন্ধুকে। সেমোবাইলের দর্পণে কাছের বন্ধুরছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। উপায় খোঁজে।


মধ্যরাত। পারুর শহর।
একাএক প্রিয়দর্শিণী ঘুমন্ত ওর নিজ শহরের নিমগ্নতা... continue reading

৫১২

Ahmed Bairul Sourov

৩ বছর আগে লিখেছেন

কচুপাতার নৌকা- আহমেদ বাইরুল সৌরভ

-দিদি, আমিও আসি তোর সাথে?
-তোকে আসতে হবে না।এই কাঠফাটা রোদে তোর গা জ্বলে যাবে।
-কিছুই হবে না। আসি নারে দিদি।
-বললাম না আসতে হবে না। ধমক দেয় প্রমীলা।
দিদির ধমক খেয়ে থমকে দাঁড়ায় শ্যামল। আর সে সামনে পা বাড়ায় না। শীতল চোখে তাকিয়ে থাকে প্রমীলার দিকে। দু’চোখে জল টলমল কর‡Q তার।
প্রমীলার মায়া হয়। সে এগিয়ে যায় শ্যামলের দিকে। বলে, যাবি, তাহলে চল। তুই বুলুকে কোলেনে  আর আমি দুলুকে কোলেনিচ্ছি ।
বুলু আর দুলু হচ্ছে ছাগল-ছানা। চারদিন আগে তাদের ছাগির দুইটা বেটা বাচ্চা হয়েছে। প্রথমে বুলু তারপর দুলু।  বুধবারে... continue reading

৭৮৯

md mamun chowdury

৩ বছর আগে লিখেছেন

একটি কবিতা

  ক নিশ্চিন্তপুর। মেহেরপুরের মৃতপ্রায় ভৈরব নদীর ওপর পিঠ ঠেকিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে। বছর বছর নদীর খামখেয়ালি চলনের সাথে সাথে পাল্টে যায় গ্রামটির ভূগোল। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে, কচি হাতে আঁকা একটি নদী-গ্রাম। সাপের মতো লিকলিকে দেহ নিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে, গ্রামটিও অতি উৎসাহের সাথে বাকে বাক মিলিয়ে খানিকটা পথ হেঁটে পিছুটান মেরেছে। অন্যদিকে নিরন্তর মাঠ। যতদূর চোখ যায় ধানী জমি, যেখানে আকাশ-মাটি এক হয়েছে বলে গ্রামের মানুষ মনে করে, সেখান থেকে ভারত দেশের শুরু। ওদিকটাতে গ্রামটা আরেকটু হাতপা ছড়াতে পারত, কিন্তু কেন জানি তার যত চাপ এই নদীটার দিকেই। ফলে ওদিকে আয়তনে না বেড়ে নদী যেখানে যেখানে কোমর... continue reading

৫০৪