Nusrat Jahan

৫ বছর আগে

সুখের অসুখ

অর্থহীন মায়ার দৌরাত্বে যখন হয়েছি ক্লান্ত ; তখনি চোখের গাঢ় আলোয় দেখেছি অন্ধকার । কেবলি ঘাঢ়ের উপর লেপ্টে থাকা দায়িত্বের বোঝা ক্রমশ ভারী থেকে ভারীতর হয়েছে ,আমার চারপাশ মোড়ানো মায়ার জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসতে পারেনি । আসলে পারা না পারারব্যাপারটা সম্পূর্ন আপেক্ষিক । হয়তো জীবন শুরুর লগ্নে নিজেকে ঠিক এই জায়গায় আবিষ্কার করতেচাই নি ,কেউই তা চায় না । আমার এক জোড়া কিশোরী চোখ খুঁজেছিল --এক মুঠো নীল আকাশ ,তাতে উড্ডীয়মান শাদা পায়ড়া । মাতাল করা সোনা রোদ ভেসে বেড়াতো দুই বেনীর আল বেয়ে ,ঝালড় দেওয়া ফ্রকের ভাঁজে তেঁতুল আচার । সেখানে আক্রশ বলে কিছু ছিল না ।এখন এখানেজমাট বেঁধেছে ক্রোধের ভাঁজ , ফ্রকের ভাঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে বহু আগেই। সময়ের বেড়াজালেনিজেকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা ছাড়া আর কিই বা করার আছে ; পরিধি দেওয়া বৃত্তের মধ্যেখানেকেবল ঘুড়পাক খাওয়া ।ভেঙে ফেলার যে ক্রোধ প্রতিদিন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ,একটা চারগ্রাম ক্লোবামের কাছে পরাজিত হয় অন্তত ছয় ঘন্টার জন্য ।

আড়মোড়া জেগে ওঠে আর একটি সকাল ।সব্জিওয়ালার বিরামহীন সাইরেন আর দেশী মুরগীরহাঁক-ডাক কানের পর্দা কাঁপিয়ে জানান দিয়ে যায় -এটাই বাস্তবতা । চোখ মেলবার আগেই তিন পাখারঘূর্নণ বন্ধ হয়ে যায় ,বিদ্যুৎতো হাপিয়ে উঠেছে কবেই । ৩৬ বৎসরের পুরনো মুখ আয়নার ঘোলা কাঁচেদেখতে দেখতে কলের চাকায় হাত রাখি ;ওখানে কেবল শূণ্য বাতাস । এ শূণ্যতা বুঝি সব খানেই ।

কারো হয়তো খোলা থালায় ,কারোবা চামড়ার খাঁজ কাটা মানিব্যাগে ।কারো কারো নিস্তব্ধবিছানায় ।জীবনের পথ কখন কোথায় এসে বাঁক নেবে কে বলতে পারে ; না কেউ পারে না ।

এতো কিছুর মাঝেও কারো শূণ্য গোলা ভরে ওঠে প্রাচূর্যে ,সুসজ্জিত অট্টালিকায় অথবা আলো ঝলশানোশপিংমলে । দিনের তিন প্রহর এক রুটি দিয়ে কাটিয়ে কেউ আত্মতৃপ্তি খোঁজে । কেউ হয়তো দুঃখ বিলাসীরোগে আক্রান্ত কোন এক অজানা কারনে ঠিক আমারি মতোন ।তবু অসহিষ্নু চোখ বার বার পেছন ফিরে চায় -যেখানে টুকরো কিছু স্মৃতি ছাড়া জমিয়ে রাখবার মতোআর কিছুই নেই ।ওটা আবার স্পর্শ করতে পারবো বলেই কি বেঁচে থাকা ? হবে হয়তো ।

২ Likes ১৬ Comments ০ Share ৫৯৮ Views

Comments (16)

  • - আলমগীর সরকার লিটন

    খুব সুন্দর কবিতা----------

    • - প্রলয় সাহা

      ধন্যবাদ দাদা

    - মাসুম বাদল

    ভাললাগা জানালাম...