সিজোফ্রেনিয়া কি?

আপনি কি জানেন ?
গান শুনে সিজোফ্রেনিয়া ভাল হয়? 
শ্বাস প্রশ্বাস ব্যায়ামের মাধ্যমে মৃদু লয়ের বাঁশী, সন্তুর, সারেঙ্গী, বেহেলা অষ্টপ্রহর মেনে নিয়মিত শুনলে পাশাপাশি ক্ষতি বিহীন সিজোফ্রেনিয়া ভাল হয়। সেই সাথে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় ও কর্মস্পৃহা বেড়ে যায়।

এখন আমরা জেনে নিব,সিজোফ্রেনিয়া কি ও কত প্রকার ?কারণ ও লক্ষণ ।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্য কি কি মাধ্যমে সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা হয় সিজোফ্রেনিয়া / Chizophrenia

সিজোফ্রেনিয়া /Chizophrenia ( কোন কিছু মনে না রাখতে পারা বা স্মৃতিভ্রষ্ট ) ভুমিকা ঃ-সুইডেনের মনোচিকিৎসক ইউজেন ব্লিউলার ১৯১১ সালে সিজোফেন্সনিয়া শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। শব্দটি এসেছে মূলত গ্রিক ভাষা থেকে। এর প্রথম অংশটিকে বলা হয় ‘সাইজো’ বা ‘সিজো’, যার অর্থ ভাঙা বা টুকরো। দ্বিতীয় অংশ হলো ‘ফেন্সনিয়া’ অর্থাৎ মন। কাজেই সিজোফেন্সনিয়ার পুরো শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় ভাঙা মন বা যে মন টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মনোচিকিৎসক ব্লিউলারের থিউরি অনুসারে যখন আমাদের মস্থিস্কের কর্ম পদ্ধতি বোধশক্তি এবং বাস্তবতা কে চিন্তা শক্তিতে নিয়ে এককরে মিল রাখতে পারেনা তখন ই সিজোফেন্সনিয়ার অসুখটির শুরু হয় যাকে আমরা স্মৃতিভ্রষ্ট বলে জানি৷ অর্থাৎ এই রোগ হলে মানুষ কোন কিছু মনে রাখতে পারে না৷ 

কত বয়সে হতে পারে  ?যে কোন বয়সে হতে পারে তবে ৯৬% যাদের বয়স ১৫ -৩০-এর মধ্যেই বেশী হয় । বয়স ৪০-এর ওপরে গেলেও সিজোফেন্সনিয়া হতে পারে ৬% বেলায় । শিশুদের হয়ে থাকে তবে বেশী হয়ে থাকে মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় – তখন মা এবং সন্তান দুজন ভোগতে পারে । মুলত অসুখ টি সমাজের যে কোনো শ্রেণীর মানুষের হতে পারে এবং প্রতি একশ জনের মধ্যে একজন সিজোফ্রেনিয়া তে আক্রান্ত হয়ে থাকেন ( মাইনর বা মেজর ) । ২০১৩ হিসাব অনুসারে পৃথিবীতে ২৯ মিলিয়নের মত মানুষ সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দিন দিন অসুখটি বৃদ্ধি পাইতেছে জীবন যাত্রার মান কঠিন হওয়ার কারনে । (সিজোফ্রেনিয়ার মত অজানা আচরণ প্রত্যেক মানুষের জীবনে সাময়িক সময়ের জন্য দু একবার ঘটলে ও একে সিজোফ্রেনিয়া বলা ঠিক হবেনা ) তবে মদ গাজা ,যে কোন ধরণের ড্রাগস সেবনকারী এবং আঘাত জনিত কারনের বেলায় বয়সের উপর নির্ভর করেনা । 

কারন ঃ-সিজোফ্রেনিয়া অসুখটি মস্তিস্ক বা ব্রেনের একটি বায়োলজিক্যাল বা জৈব রাসায়নিক পদাথের গোলাযোগ পূর্ণ সমস্যা এবং বেশির ভাগ জিন গঠিত বিষয় বা ক্রোমোজোম কে ও দায়ী করা হয় ৬০% বেলায় – অর্থাৎ ব্রেইন কেমিস্ট্রি এবং ব্রেইন স্ট্রাকচার দুটি তেই পরিবর্তন দেখা যায় ।মানব মস্তিষ্কে নিউরন বা স্নায়ুকোষের পরিমাণ অনির্দিষ্ট, এ সংখ্যাটি বিলিয়ন বিলিয়ন হতে পারে। প্রত্যেকটি স্নায়ু বা নিউরনের শাখা-প্রশাখা থাকে, যার সাহায্যে সে অন্য স্নায়ু বা মাংসপেশি বা অন্য কোনো গ্রন্থি থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করতে পারে। নিউরন বা স্নায়ুকোষের শেষাংশে বা টার্মিনাল থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নি:সৃত হয়। এগুলোকে নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক দূত বলা হয়ে থাকে ( যার অন্য নাম ডোপামিন এবং গ্লোটামিন ) । এগুলোর সাহায্যে মূলত নানা ধরনের উদ্দীপনা স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়। যে কোন কারনে মস্তিষ্কের ভিতরে একটা ভারসাম্মহিন কেমিক্যাল প্রতিক্রিয়ায় নিউরোট্রান্সমিটার ( বেশী পরিমাণ ডোপামিন এবং গ্লোটামেইটের মাত্রারিক্ত ক্ষরনের ফলে সহানুভূতিশীল হয়ে বেশী নিঃসৃত হয় ) নিঃসৃত হওয়ায় একজন সুস্থ মানুষের সঠিক কিছু বুজার উপলব্ধি নষ্ট হয়ে যায় বা উলঠ পালটা অনুভূতি প্রেরন করে থাকে স্নায়ুকোষ সমূহ । তখন একজন মানুসজ নিজের অজান্তে যা করে তাই সিজোফ্রেনিয়া । অর্থাৎ মানসিকভাবে অসুস্ত – রোগীর চিন্তা-চেতনা, অনুভূতি ও তার কাজকর্মে বা আচরণে ধরা পরে । চিন্তা-ভাবনাগুলো যেন মস্তিষ্কে উল্টা-পাল্টা খেলায় মেতে ওঠে। কখনো এগুলো মস্তিষ্কে ঠাসাঠাসিভাবে ওয়েভ ট্রাফিক জ্যামের মতো জ্যাম সৃষ্টি করে – তখন একজন মানুষ ভুল পথ কে সঠিক পথ মনে করে – ( পাগলামি বলা হয় ) — মুলত তাই —

সিজোফেন্সনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্বাভনা কাদের বেশী ? ঃ–

১- পারিবারিক এবং বংশগত কারনে হতে পারে ঃ-বংশগত ( জীন টেক ) ঃ-সিজোফ্রেনিয়া রোগটি ৪৫-৬০% বংশগত এবং এর জন্য বেশির ভাগ ডি এন এ এবং ক্রোমোজোম কেই দায়ী করা হয় । সম্প্রতি বিজ্ঞান অনুসারে প্রমান করা হয়েছে – প্রতি একশত জনে একজন সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগার সম্বাভনা থাকলেও যাদের পরিবারের বাবা , মা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাদের বেলায় ৪০% বেশী আক্রান্ত হতে পারেন এবং সেকেন্ড ডিগ্রী সম্পর্ক ( চাচা, ফুফো, দাদা ) তাদের বংশানিক্রমিক জীন থেকে ১০% সম্বাভনা আছেই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার । অন্য দিকে আরেক গবেষণায় বাস্থব প্রতীয়মান হয় যে যদি উভয় শিশুরা যমজ হয়ে থাকে এবং তাদের বাবা মা কেউ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকেন তা হলে ৫০% সম্বাভনা থেকেই যায় যমজ ভাই বোন ডি এন এ এর ধারা প্রবাভিত হওয়ার ।সে জন্য উক্ত পরিবারের সদস্যরা যদি উপযোক্ত পরিবেষ এবং নিয়ম মাফিক সবকিছুতে আগে ভাগে সতর্ক থাকেন এবং প্রকৃতির কু-সঙ্কস্কার পরিত্যাগ করে চলেন তা হলে শতভাগ আশা করা যায় সিজোফ্রেনিয়া থেকে মুক্ত থাকার ।

২- পরিবেষ ও পুষ্টি জনিত কারনে ঃ-অনেক সময় পরিবেষ ও সামাজিক বিভিন্ন অমর্যাদা জনক যে কোন কারনে মধ্য বয়সী পুরুষ / নারী সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগতে পারেন ।সামাজিক ঃ- মুলত প্রথমে মানসিক আঘাতের কারনে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বিঘ্নিত হয়ে পরবর্তীতে আস্থে আস্থে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যায় । বিশেষ করে আত্ম মর্যাদা , দুঃসংবাদে অথবা প্রিয় কিছু হারানোর ভয়ে হতে দেখা যায় (যেমন ঃ- বিশেষ ভাবে যারা সম্মানহীন এবং বন্ধুহীন ও আত্মীয়হীন জীবন যাপন করেন। শিক্ষার সুযোগ হারান, চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন, ।সামাজিক বন্ধন ছিঁড়ে যায়, রাজনৈতিক জীবনে ও তাদের দৈনন্দিন ব্যক্তিজীবনে পর্যন্ত বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। সর্বোপরি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া ব্যাক্তি যখন ভাবেন – ভবিষ্যৎ জীবন বলে কিছুী অবশিষ্ট রইল না ইত্যাদি ) মুলত তারাই সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগতে পারেন বেশী । যদি ও প্রথমে বুজা যায়না অসুখ টির মারাত্মক প্রতিক্রিয়া কি ? কিন্তু আস্থে আস্থে অসুখ টি যখন স্থায়িত্ততা লাভ করে তখন অনেকের বেলায় ১৫/২০ বছর আগেই উক্ত ব্যাক্তিকে মৃত্যু বরণ করতে দেখা যায় ।এ ছাড়া পুস্টি , ভিটামিন – খনিজ পদার্থের অভাবে মস্তস্কের স্নায়ু কোষ সমূহ সঠিক ভাবে কাজ করতে ব্যাথ হতে পারে বিধায় – দারিদ্র্য সিমানায় বসবাসরত যে কোন বয়সের পুরুষ/ মহিলা বা শিশুরা ও সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগতে পারে একটু বেশী । সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যারা মাত্রাতিরিক্ত নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩ অভাব থাকে তাদের বেলায় সিজোফ্রেনিয়াতে ভোগার সম্বাভনা একটু বেশী । 

৩- বিভিন্ন ঔষধ অথবা ড্রাগস নেশাকারীদের বেলায় হতে পারে ঃ-যারা দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্রাব বৃদ্ধি কারক ঔষধ সেবন করেন তাদের বেশী হয়ে থাকে । ৪৫-৫৫ শতাংশ আক্রান্ত হতে পারেন । মেদভুড়ি জাতীর স্থূলতায় ভোগেন এমন সব পুরুষ বা মহিলারা আক্রান্ত হওয়ার সম্বাভনা একটু বেশী ( তাদের আবার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের হারও বেশী থাকায় প্রস্রাব ব্রিদ্ধিকারক ঔষধ সেবন করতেই হয় তখন পুরাতন রোগিরা ৬০% বেশী সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্বাভনা আছেই )এ ছাড়া যারা বিভিন্ন ড্রাগস অথবা মদের নেশায় আসক্ত – বিশেষ করে পুরাতন নেশাকারীরা ৯০% বেলায় এই অসুখটি হবেই – তার কারন হিসাবে দেখানো হয়েছে – দীর্ঘ দিন নেশা করার ফলে মস্থিস্কের নিউরন সমূহ শুঁকিয়ে যেতে থাকে তখন নিউরোট্রান্সমিটার স্নায়ু সমূহ কে নির্দিষ্ট পরিমাণ যে অনুভূতি জাতীয় স্পন্দন দেওয়ার কথা সেখানে ঠিক মত স্পন্দন পৌছাতে পারেনা বরং ক্ষতিকারক বজ্র কেমিক্যাল পদার্থই বেশী নিঃসরণ করে —– কোন কোন ক্ষেত্রে এও দেখেছি – যারা নতুন ভাবে ড্রাগে আসক্ত, তারা ড্রাগের নেশা ছাড়ার জন্য প্রথম ৯০ দিনের ভিতর এ রকম আত্ম ভোলা হয়ে পড়েন – অবশ্য সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে পরবর্তীতে তা ৭০% বেলায় ঠিক হয়ে যায় । সর্বোপরি ড্রাগে আসক্তদের মধ্যে ৫-১০ শতাংশ আত্মহত্যা করেই মারা যায় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অক্ষমতা জনিত অসুখের প্রথম ১০টি কারণের একটি হচ্ছে সিজোফ্রেনিয়া জাতীয় অসুখ ।গর্ভবতী মায়েদের বেলায় ঃ- বিজ্ঞানীরা মনে করেন কোন কোন গর্ভবতী মায়ের বেলায় ও সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন যদি শরীরে অতিরিক্ত টক্সিসিটি থাকে – অবশ্য সাথে পুস্টহিনতা, ভাইরাস এবং পরিবেষ গত কারন কে দায়ী করা হয়ে থাকে – তবে এখানে নির্দিষ্ট কারন এখন ও অজানা—রোগজীবাণু দ্বারা মস্তিস্কের সংক্রমণ ঘটলে হতে পারে — যেমনঃ ভাইরাসজনিত ইনফেকশন বা ভাইরাল সংক্রমণের কারনে হতে দেখা যায় -বিশেষ করে শিশুদের বেলায় শীত কালে ফ্লু বা ঐ জাতীয় ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে । তা ছাড়া সেক্স ট্রান্সমিশন জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে ও হতে পারে ।যে কোন কারনে মস্তিষ্কে সরা সরি আঘাতের ফলে ও সিজোফ্রেনিয়া হতে পারে ।
০ Likes ০ Comments ০ Share ৪৪৬ Views

Comments (0)

  • - মাসুম বাদল

    শুভকামনা... emoticons

    • - mazed hossain

      ধন্যবাদ!

      শুভেচ্ছা জানবেন।

    - আলমগীর সরকার লিটন

    বেশ লাগল কবিতা

    • - mazed hossain

      ধন্যবাদ!

    - সুমন সাহা

    শুভকামনা রইলো...emoticons

    • - mazed hossain

      ধন্যবাদ ! ভালো থাকেন শতত