সাইফুল ইসলাম

১ বছর আগে

রুকইয়াহ শারইয়াহ এর ধারনা

রুকইয়াহ কি?

রুকইয়াহ অর্থঃ ঝাড়ফুঁক করা, মন্ত্র পড়া, তাবিজ-কবচ, মাদুলি... ইত্যাদি।
আর রুকইয়াহ শারইয়্যাহ (رقية شرعية) মানে শরিয়াত সম্মত রুকইয়াহ, কোরআনের আয়াত অথবা হাদিসে বর্ণিত দোয়া দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা।
তবে রুকইয়া শব্দটি দ্বারা সচরাচর ঝাড়ফুঁক করা বুঝায়, এই ঝাড়ফুঁক সরাসরি মানুষের ওপর হতে পারে, অথবা কোনো পানি বা খাদ্যের ওপর করে সেটা ব্যবহার করা হতে পারে। এক্ষেত্রে রুকইয়ার পানি, অথবা রুকইয়ার গোসল ইত্যাদি পরিভাষা ব্যবহার হয়। আর সবগুলোই সালাফে সালেহিন থেকে প্রমাণিত।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

শরঈ বিধান
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রুকইয়াতে যদি শিরক না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।”

বিশুদ্ধ আক্বিদা
উলামায়ে কিরামের মতে রুকইয়া করার পূর্বে এই আক্বিদা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া উচিত ‘রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁকের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই, সব ক্ষমতা আল্লাহ তা’আলার, আল্লাহ চাইলে শিফা হবে, নইলে নয়।’

শিরকি রুকইয়াহ
অনেক পথভ্রষ্ট কবিরাজ নিজেদের যাদুটোনার তাবিজকে রুকইয়া বলে প্রচার করে থাকে, যেগুলোকে বলা হয় রুকইয়াহ শিরকিয়্যাহ।

রুকইয়া প্রকারভেদ

বিভিন্ন ভাবে রুকইয়া করা হয়, যেমনঃ দোয়া বা আয়াত পড়ে ফুঁ দেয়া হয়, মাথায় বা আক্রান্ত স্থানে হাত রেখে পড়া হয়। এছাড়া পানি, তেল, খাদ্য বা অন্য কিছুতে দোয়া/আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে খাওয়া বা ব্যবহার করা হয়।

রুকইয়ার পূর্বশর্ত

রুকইয়া করে উপকার পাওয়ার জন্য তিনটি জিনিসের প্রয়োজন

নিয়্যাত (কেন রুকইয়া করছেন, সেজন্য নির্দিষ্টভাবে নিয়াত করা)
ইয়াক্বিন (এব্যাপারে ইয়াকিন রাখা যে, আল্লাহর কালামে শিফা আছে)
মেহনত (অনেক কষ্ট হলেও, সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রুকইয়া চালিয়ে যাওয়া)

লক্ষণীয়ঃ রুকইয়া থেকে পুর্ণ ফায়দা পাওয়ার জন্য দৈনন্দিনের ফরজ ইবাদাত অবশ্যই পালন করতে হবে, পাশাপাশি সুন্নাতের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। (যেমনঃ প্রতিদিনের নামাজ, মেয়েদের পর্দার বিধান) যথাসম্ভব গুনাহ থেকে বাঁচতে হবে। ঘরে কোনো প্রাণীর ছবি / ভাস্কর্য রাখা যাবেনা। আর সুরক্ষার জন্য সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো[৬] অবশ্যই করতে হবে। আর ইতিমধ্যে শারীরিক ক্ষতি হয়ে গেলে, সেটা রিকোভার করার জন্য রুকইয়ার পাশাপাশি ডাক্তারের চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে হবে।
০ Likes ০ Comments ০ Share ১১৯ Views