পুকুরপাড়ে ভূত

প্রচন্ড শীত পড়েছে , বাইরে অনেক কুয়াশা। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আর এই শীতে “ কবি গান” শুনতে গিয়েছিল সুমন। সুমন বড়ই দুষ্ট ছেলে। লেখাপড়া বাদ দিয়ে গ্রামের কোথায় গান, বাজনা হচ্ছে, কোথায় জুয়ার আসর বসেছে, এগুলো দেখে শুনে বেড়াতো। আর এদিকে সুমনের মা ফরিদা ভাবছে, ছেলেটার সারাদিন কোন খোঁজ নেই। বাপ মরা ছেলেটি বড্ড অসহায়। তার একমাত্র সম্বল এই ছেলেটা। ছেলেটা ইদানিং খুব বদমাইশ হয়েছে।  মায়ের কথা শুনেনা। পাড়ার মুরব্বীদেরও সম্মান করেনা।
একদিন সুমন রাতে একা একাই “ কবি গান ” শুনতে গিয়েছিল। কবিগান শেষ হতে  রাত ২ টা বেজে গেছে। তাই রাস্তা ঘাটে কোন মানুষ জনও নেই। সুমন কোনদিন জ্বীন, ভূতের বিশ্বাস করেনা।
এই প্রচন্ড শীতে সুমন কবিগান শুনে একায় বাড়ী ফিরছিল । রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সামনে একটি বিশাল আম বাগানে গেল সুমন। আম বাগানের মাঝখান দিয়ে সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সে। হঠাৎ সুমন বাগানের এক কোণ থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। ঘন কুয়াশা ও অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিলনা। সুমন ভাবছে কে এত রাতে এই বাগানে বসে কান্না করছে। তাই সুমন কান্নার আওয়াজ শুনে এগিয়ে গেল। কাছাকাছি যেতেই সুমন দেখতে পেল, আম গাছের নিচে এক মহিলা কান্না করছে। সুমন তার দিকে যেতেই মহিলাটা উধাও হয়ে গেল। সুমনের সমস্ত শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল ! সুমন সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো আর ভাবলো কি হলো এটা ? সুমন ভাবছে , আমি কি ভুল দেখলাম আর কে হতে পাওে ? এটি ভূত নয়তো আবার ? এ কথা সে কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মাথায় একটি কাঁচা আম পড়লো। সুমন চিৎকার করে বলতে লাগলো, কে রে এত রাতে আমার সাথে ফাজলামি করে ? সাহস থাকলে সামনে আসো ? কিন্তু সুমনের কথার কোন সাড়া মিললো না। সুমন ভাবছে আমটা কিভাবে পড়লো আমার মাথায় ? এখনতো বাতাসও নেই। না আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।
সুমন অনেকণ ধরে বাগানে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও কাউকে পেল না। সুমন একটু ভয় পেয়ে যায়। কি হতে পারে এটি ? নিশ্চয় ভূত হবে হয়তো। সুমন ভাবলো আমার এখানে আর থাকাটা ঠিক হবে না। সুমন একটুকুও দেরি না করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলো। তার বাড়ী যেতে আরো প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা যেতে হবে। সুমন মাথায় আঘাত পেয়েছে। তাই  একটু মাথাটা ব্যাথা করছে। কোন রকমে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ীর কাছাকাছি আসতেই সামনে আরও একটি বিপদে পড়ে সে। পুকুর পাড়ে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। সুমন ভাবলো এরা আবার চোর নয়তো। এত রাতে চোরেরা এভাবে ঘাপটি মেরে থাকে। সুমনকে বাড়ী যেতে হলে তাদের কাছ দিয়েই যেতে হবে।
তাদের কাছাকাছি আসতে সে এক ভয়ানক কান্ড দেখে সুমন। লোক দুটির সাদা পোশাকে বিভৎস্য চেহারা , আর কি বিশ্রী গন্ধ বের হচ্ছিল , সুমনের বমি আসছিল প্রায়। সুমন বলল কে আপনারা এত রাতে কেন এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। লোক দুটি কোন কথা না বলে সুমনের কাছাকাছি আসতে লাগলো। তারা যত সুমনের কাছাকাছি আসছে সুমন ততো পিছাচ্ছে। সুমনের আর বুঝতে বাকি থাকলো না যে সে ভূতের পাল্লায় পড়েছে। সুমন ভয়ে থর থর কাঁপতে লাগলো। আর সে ভাবছে কি করবে এখন সে ! দৌড়ে পালানোর কোন সুযোগও নেই তার।
এক পর্যায়ে সুমনকে তারা ধরে ফেলে পুকুরের নামাতে লাগলো। আর সুমন চিৎকার করে বলতে লাগলো মা আমাকে বাঁচাও , মা আমাকে বাঁচাও। কিন্তু কে শোনে তার কথা ! লোক দুটি সুমনকে পুকুরের মাঝখানে নিয়ে তাকে পানিতে ডুবাতে লাগলো ! এদিকে তার চিৎকার শুনে তার মা গ্রামের লোকজনকে ডেকে নিয়ে পুকুর পাড়ে নিয়ে এলো। সুমনের মা লোকজনদের বলল আমি এখানে আমার ছেলে সুমনের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। গ্রামের লোকজন পুকুরে নেমে অনেকণ ধরে খুঁজতে লাগলো। প্রায় আধা ঘন্টা পর তাকে অজ্ঞান অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায় । জীবন প্রদীপ প্রায় নিবু নিবু । সবাই সুমনকে নিয়ে ছুটলো হাসপাতালের দিকে !

০ Likes ১ Comments ০ Share ৪৫৬ Views

Comments (1)

  • - আজিম হোসেন আকাশ

    শুভ কামনা রইল।

    - মোঃসরোয়ার জাহান

    চমৎকার হয়েছে, ভালো লাগলো