কারিম গাজী

৩ বছর আগে

গল্প: মৃন্ময়ী ও আমার মিথ্যে প্রেমের ইতিকথা।

পর্ব ৫
সকল নিরবতা ভেংগে মৃন্ময়ী  দৌড়  কাছে আসল,
আমাকে বুকে জড়িয়ে নিল।আমি ভেজা অনুভব করছি,তার চোখের জলে কাপড় ভিজে গেছে,আমার বুকে এক অবর্ণনীয় আনন্দ অনুভুত হল।কারো কান্নায় এত সুখ আছে আগে জানা ছিল না।
যে মেয়েটিকে এতকাল নির্দয় ভেবে ঘৃনা জমানোর চেষ্টায় ছিলাম,তার হৃদয়ে এত কমলতা আছে জানা ছিল না।প্রিয়জনের দূরে থাকলে মায়া বাড়ে কথাটি সত্য।
মনে করছি এই সুখ আজীবন থাকুক,কিন্তু আমি কি ভাবছি  অন্যের বউকে,সে অন্যের বউ আমি তাকে পাবার বাসনা রাখতে পারি না।
কিছুক্ষন নিরবতা ভেংগে আমার বুক থেকে তার মাথা সে উঠিয়ে নিল,
-আমাকে এখনো ভালবাস রোমেন?
-আমি নিজেকে সামলে নিলাম, না আমি তোমাকে ভালবাসি না।
তাহলে তোমাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম তুমি বাধা দিলে না কেন?
-আজব প্রশ্ন কর কেন? আমি দুই বছর আগে তোমাকে বুকে জড়ানো ছাড়াই ভালবেসে ছিলাম।
সেদিন তুমি চলে গেছ কেন জানতে চাই নি,আজ কেন ফিরে এসেছ জানতে চাইব না।
তুমি তোমার ইচ্ছায় বুকে টেনেছ আবার নিজের ইচ্ছায় সরে গেছ,সেখানে আমি বাধা দেবার কে?
-তুমি এমনভাবে কথা বলছ কেন,অনেক দিন তোমার সাথে দেখা,তুমি এমন করলে কি কার কাছে যাব?
-আমি নিশ্চুপ।
-আমার আম্মু আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে,আমার পরিবারের কেউ রাজী ছিল না,আমার এ ছাড়া পথ খোলা ছিল না।কিছুদিন ভেবেছিলাম তোমার কাছে চলে যাব,পরে ভাবলাম পাগলামো করার সীমা থাকা দরকার,তুমি আমাকে বিয়ে করে খাওয়াবা   কিভাবে,আমি যে তোমাকে লালন করতে পারবো তাও সম্ভব নয়।
-হুম বুঝলাম।
-আমি প্রায় সময় ভাবতাম তোমাকে কল দেই এবং দিয়েছিও ,তুমি কল ধরে আমার কন্ঠ বুজতে পারলে কেটে দিছ অনেক দিন।শুনেছি এখন অপরিচিত কল ধর না।
-ঠিকি শুনেছ তবে তোমার জন্য না,কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে সেজন্য,
-তা এতদিন পর কি মনে করে আসলে?
-তোমাকে দেখার ইচ্ছা ছিল, দেখলাম
-আমাকে নিয়ে যে ধারনা তোমার সেটা ভেংগেছে কিনা আমি জানি না।
-সেটা জেনে এখন কোন লাভ আছে?
-না সেটা নেই তবুও ইচ্ছে করে জানতে,তোমাকে তো ভালবেসেছিলাম।
এখন বাস না?
-এখন যে ভালবাসা বুকে পুষি সেগুলো মুল্যহীন।বিয়ের পর স্বামীর ভালবাসাই মেয়েদের সব।
হুম,সত্য বলেছ তোমারা অনেক সহজেই ভুলে যাও,আমরা বিয়ের আগে আর পরে কোন সময় ভুলতে পারি না।
অভিনয় করতে জানি না যে।
-কে বলেছে ভুলে গেছি,মেয়েরা প্রথম প্রেম শত চেষ্টায় ভুলতে পারে না,তোমরা সহজেই  মনের ব্যাথা প্রকাশ করতে পার,আমরা তা পারি না।সেজন্যেই এমন মনে হয়।
-কেমন আছ,রোমেন?
-আছি প্রেমের সুধা পান করে নরকের কীট হয়ে।
ভালই আছি,এখন প্যান্ট আমার এত নিচে থাকে না,চুল ও ঠিক ঠাক রাখি,ভয় লাগত যদি পথ মাঝে দেখা হয়ে যায়,তুমি দেখবে আমি আবার আগের মত নাই,খুব কষ্ট পাবে জানি।
তুমি আমি কত কাছে ছিলাম,থাকবো বলেছিলাম,আমার কপালের একটি সিধুর কত দুরত্ব তৈরি করে দিল।
তোমাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলাম।
-তাহলে শোনাও,
-শোন তাহলে:

তবে শোন আমার কবিতা

তোমার কপালে লাল সিধুর
বিধাতা তোমাকে বর দিয়েছে,
রক্তাক্ত লাল সে উপহার।
তুমি একটি সিধুরে বিবক্ত আমি সেই জগতের অপরিচিত বাসিন্দা।
সিধুরে ঢাকা কপাল রেখায় আমি নেই
একটি সিধুর তোমার আমার মাঝে দেয়াল,
সেই দেয়ালে কান্নায় আকা ছবি দেখ মেয়ে?
তোমার সিধুরে আমার হৃদয়ের রক্ত দেখ?
তোমার সে দেয়াল আমার চুমোয় আকা
পৃথিবী ছিন্ন শুধু একটি সিধুরে।

আচ্ছা উঠি ভাল থাকো।যদি জীবনে আর দেখা না ও হয়, আমাকে ক্ষমা করে দিও।
শুধু এতটুকু জেন তোমাকে কোন এক সময় ভালবেসেছিলাম।

সে চলে গেল,তার চোখে জল ছিল কিনা আমি জানি না,উল্টো মুখে কি জেন মুছতে মুছতে চলে গেল।আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি,জীবনে এমন সময় আসবে ভাবি নি।
মৃন্ময়ীর জন্য এত ভালবাসা সেদিন ছিল কিনা আমি জানি না আজ আরো বেশি ভালবেসে ফেলেছি,আজ ভীষন একা লাগছে,আমি তার ফিরে যাওয়া দেখে কাদতে চাইলাম,কিন্তু কাদতে পারলাম
কে যেন বাধা দিতে লাগল,হয়ত বিবেক।
আমি শুন্য ছিলাম এত কাল,তারপরও আবার শুন্য হলাম,এই শুন্যে কিছুটা হলেও পূর্ণতা আছে,মনে কিছু শান্তি অনুভুত হল।

সমাপ্ত..................
০ Likes ০ Comments ০ Share ৩৭০ Views