Site maintenance is running; thus you cannot login or sign up! We'll be back soon.

কারিম গাজী

৪ বছর আগে

গল্প: মৃন্ময়ী ও আমার মিথ্যে প্রেমের ইতিকথা।

পর্ব:১
অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে  কল আসতেছে বারবার,আমি অপরিচিত নাম্বার  ধরি না তেমন।তাই আজো স্বভাব অনুযায়ী  ধরব না  ভাবছিলাম কিন্তু না
শেষ পর্যন্ত ধরতে হলো মিনিয়াম ত্রিশ টা কল যে দিতেছে তার কল না ধরলে নিজেকে ছোট মনে হবে,হতে পারে কেউ হয়ত কোন বিপদে পড়েছে।

হ্যালো আসসালামু আলাইকুম
কে বলছেন?
আমি মৃন্ময়ী ভাল আছ?
আমি কিছু বললাম না।
হ্যালো তুমি কি আছ?
হুম্ম বল(বিরক্ত সুরে)
তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে পারবা?
না আমি পারবো না,আর কিছু বলবা আমি একটু ব্যস্ত।
প্লিজ তোমাকে কিছু কথা বলব,তোমাকে দেখতে মনে চাইতেছে।
আমার চাইতেছে না,কারো খেলনার পুতুল হতে ইচ্ছা করে না,তাছাড়া আমি কারো বাবার চাকর না যা চাইলে তা আমাকে এনে দিতে হবে।
দয়া করে আজ প্রথম আজ শেষবার তুমি একটি বার দেখা কর,আমি একনজর দেখেই চলে যাব।(কান্নার আওয়াজ স্পষ্ট)
ন্যাকামি কান্না আমাকে দেখিয়ো না,ঠিক আছে কোথায় আসবো আমি পাচ মিনিটের বেশি সময় দিতে পারবো না।
আমাদের মন্দিরের পাশের খালি মাঠে বকুল গাছে তলায় আমি আছি,রোমেন। আমাকে আবার বাসায় ফিরতে হবে,তুমি একটু জলদি এস।
আমি তোমার হুকুমের আসামী না,এখন ৪ টা বাজে আমি চেষ্টা করছি সাড়ে ৪ টার আগে আসতে।
কল টা কেটে দিলাম।

প্রায় ২ বছর আগে শেষ দেখা হয়েছিল আমাদের।
আমি মুসলিম মেয়েটা হিন্দু প্রেমে পড়েছিলাম দুজন দুজনার।কথায় আছে ভালবাসা সর্বদাই এক পাক্ষিক,আমার বেলাও তাই।আমিই প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম তার প্রেমে।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মৃন্ময়ীকে রাজী করতে হয়েছিল।
প্রথমে তাকে ভালবাসি বলতে পারি নি মনে মনে ভালবেসেছি শুধু।তার বান্ধবীদের কাছ থেকে  শুনলাম তার বিয়ের কথা চলতেছে,সে দিন থেকেই সুযোগ খুজছিলাম অবশেষে তার শুরু টা হয়ে গেল একটু কাকতালীয় ভাবে।
হিন্দুদের এক উৎসবে সে লাল রংগের তিলক একেছিল আমি যেটা সিধুরের ন্যায় দেখাচ্ছিল
আমার যে সেদিন কি অবস্থা,মেডামের প্রাইভেট পড়ব কি মাথায় পানি ঢেলে শেষ করতে পারছি না।
কারন একটাই মৃন্ময়ীর বান্ধবী কে জিজ্ঞেস করেছিলাম
এই তোমার বান্ধবীর মাথায় সিধুর কেন?
(বলা হয় নি মনে হয় মৃন্ময়ী,রোহি  আমি আমরা সবাই প্রাইমারী স্কুলের বন্ধু বান্ধব
তাই প্রেমে প্রস্তাব দিতে এত বিপত্তি এত লুকোচুরি।)
হা রোহি ছিল মেয়েটির নাম:
সে আগেই জানত আমি মৃন্ময়ীকে ভালবাসি।
তাই মজা করে সে বলে দিল যে মৃন্ময়ীর আর্শীবাদ হয়ে গেছে তিন মাস পর তার বিয়ে।
কথাটা শোনার পর নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারি নি।অজোরে কিছু ক্ষন কাদলাম,সেদিন প্রাইভেট পড়া হয় নি,মেডামের টিউবওয়েলর মাথা দিয়ে মাথাঠাণ্ডা করতে করতে প্রাইভেট ঘন্টা শেষ।
মেডাম আমাকে অনেক কেয়ার করত,যদিও ছাত্র হিসেবে ভাল ছিলাম না।আমি প্রাইভেটে না গিয়ে টিউবওয়েলের পাশে বসে থাকার কারন উদ্ধার করতে মেডাম চলে এসেছেন সাথে সবাইকে নিয়ে।কি ব্যাপার রোমান তোর শরীর অসুস্থ রিক্সা কিরে দিব তোকে?
 না মেডাম লাগবে না,
তোর কি হইছে,আজ প্রাইভেট পড় নাই কেন?
এত বিচলিত হয়ে এত গুলো প্রশ্ন করতে আমি এর আগে কাউকে দেখি নি।মেডাম আমাকে নিজের ছেলের মত দেখতো সব সময়,সবাইকে অবাক করে দিয়ে আমার মাথাটা তিনি নিজ আচলে মুছে দিলেন।বললেন চল আমার সাথে,
আমি নিজেকে সামলে নিলাম আমি জানি মায়ের মত শিক্ষিকাকে মিথ্যা বলতে পারবো না,তাই মেডামকে পাস কাটিয়ে যেতে চাইলাম।
মেডাম আমাকে বলল ঠিক আছে বাবা তুই বাসায় যা,দেরি করিছ না আজ আড্ডা না দিলেও চলবে।
আমি বাধ্য ছেলের মত জ্বি হা বলে চলে আসলাম মেডামের এরিয়া থেকে।


চলবে
০ Likes ০ Comments ০ Share ৪০৩ Views