এবং হিমু

৫ বছর আগে

আমরা পারিও বটে ! ! !

আমরা পারিও বটে ! ! !

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার খেলা শেষ। কারেন্ট যাওয়ার কারণে চারদিক নীরব আছে ভালই।স্টেডিয়ামের চিৎকার বাসার রুম পর্যন্ত চলে আসছে...

এখন জানলাম পাকিস্তান বোলিং করছে, গেইল, স্মিথ আউট তাতেই এই গগনবিদারী চিৎকার।

আমাদের আবেগের সাথে নাকি ক্রিকেট জড়িয়ে আছে ! ! ! এখন থেকে এই কথা শুনলে শুধু মুচকি হেসেই যাবো। বাংলাদেশ পরাজিত হলে চার-পাঁচটা গালি খরচ করে তারপর কিছুক্ষণ ক্যামেরার সামনে নিজের শোকার্ত চেহারা দেখিয়ে তৎক্ষণাৎ পরের ম্যাচের জন্য পকেট থেকে পাকিস্তানের পতাকা বের করতে উলঙ্গ নৃত্য প্রদর্শন করবো। আবার বাসায় এসে অনলাইনে লেকচার মারবো যারা বাংলাদেশে থেকে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায় ওরা জারজ। এই হচ্ছে আমাদের আবেগ !

আমরা পারিও বটে ! ! !

সাকিব একটি সাক্ষাৎকার দিল। যেটি পড়ে আমি কেন,অনেকেই মনে করেন না যে ভুল কিছু বলেছে সে। কিন্তু আমরা সব মহাপন্ডিতরা এটি নিয়েও সমালোচনা করা শুরু করেছি। হাহাহাহাহা....কি যে বলবো, কেউ কেউ বলছে ক্রিকেটে জয় পেতে স্বদিচ্ছা লাগে,লাগে মনোবল...ব্লা....ব্লা।।।

ও তাহলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ হারে তখন মনোবল থাকে না আর যখন জেতে তখন মনোবল উপচিয়ে পড়ে??? আমাদের সমাজে এত যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছে জানতাম না। অন্যের মনেরভাব বোঝার এতোই যদি আমাদের ক্ষমতা তাহলে সমাজে এত অন্যায় কেন???

আচ্ছা, সাকিবের কথাগুলোর বিপক্ষে যুক্তি দেখান তো। সেই মাশরাফি যুগের পর আর কোন আন্তর্জাতিক মানের পেসার বাংলাদেশের ক্রিকেট দলে আছে?

বর্তমান টি-২০ দলটা কতটা ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য? প্রতিদিন দেখি সবাই নিজের পছন্দ মতো স্কোয়াড সাজিয়ে বলে। জিয়াকে রাখা দরকার, রাজ্জাককে দরকার নেই, অমুক, তমুক। গত ম্যাচে জিয়া তো ছিল।আমুল কি পরিবর্তন হয়েছিল ফলাফলের?

খারাপ খেললেই আমরা বংশ-উদ্ধার করা শুরু করি।সাথে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলা তো চলেই।নতুন সংযোজন বিজ্ঞাপন করা নিয়ে। ভারতের কোহলি-ধনীরা তো ‘আন্ডারওয়্যার’ থেকে শুরু করে ‘চুইংগামের’ বিজ্ঞাপন পর্যন্ত করে এবং সিরিজে ধবলধোলাই হয়ে আসে,কই তাদের উপর থেকে তো কেউ আস্থা হারায় না।

হুম অবশ্যই সবকিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় ভালভাবে। তাই বলে “ধরা,মার-কাট” পন্থা অবলম্বন করলেই কি ফলাফল খুব ভাল হবে???

সাকিব বেতন নিয়ে একটা কথা বলেছে। একজন ক্রিকেটার একটু ফিটফাট ভাবে চললে আমি আপনি বলবো,‘দ্যাখ জনগণের টাকা লুইট্টাপুইট্টা খাইয়া লাট সাহেবের মতো চলে।’ আবার একটু দরিদ্রের মতো চললে, ‘অয় কি বাল খেলবো! অরে বেতন দেয় না ঠিক মতো এজন্য মনোযোগ নাই খেলায়। ’ দুর্ভাগ্যজনক হলেও এগুলো কিন্তু সত্যি।

আমরা পারিও বটে ! ! !

পুরুষ দল চারটা ম্যাচ হেরেছে আর মহিলা ক্রিকেট দল শ্রীলংকার বিপক্ষে জিতেছে। শুরু হয়ে গেল সমালোচনার ভান্ডার। ওদের থেকে শেখা উচিত, অমুক করা উচিত, তমুক করা উচিত....ব্লা....ব্লা... তবুও আমাদের মুখ থেকে বের হবে না,“আচ্ছা ওরা যখন পেরেছে তোমরাও নিশ্চয়ই পারবে।এই বিশ্বাস আমরা রাখি।” সব কিছু যদি তুলনা দিয়েই হতো তাহলে আর যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষা দিতে হতো না কখনো।

আমরা পারিও বটে ! ! !

প্রত্যাশা করছি আকাশচুম্বী। প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না,সাথে সাথে মাথার ওপরে রাখা দেবীকে এক হেঁচকা টানে পায়ের তলায় পিষে ফেলছি। সত্যি করে বলুন তো কবে থেকে আমাদের প্রত্যাশা বেড়েছে??? হ্যাঁ,সেই ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াটওয়াশ করার পর।

তাহলে এবার হিসেব করে বলুন তো সেই ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কতটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে??? এটা আপনি আমি জানি যে বাংলাদেশ টি-২০ পূর্ণাঙ্গ দল হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সেটি মুখে মানি না। যদি প্রথম ম্যাচ জিতে যেত প্রত্যাশা করতাম পরের ম্যাচ জিততে,তারপরেরটা জিতলে তারপরেরটা....এভাবেই চলতো..

অনেকে নেদারল্যান্ডের থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট শেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।হুম, আপনারাই প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমিক !!! নেদারল্যান্ডের যে কয়জন প্লেয়ার বিগ ব্যাশ অথবা কাউন্টি লিগে খেলে সেই অভিজ্ঞতার হিসেব কি কখনো ভেবে দেখেছেন?বাংলাদেশের কতজন প্লেয়ার কাউন্টি লিগ অথবা বিগ ব্যাশ খেলে বলুন তো???

এই হচ্ছে আমাদের পারা। ঐ এগারো জন কি রকম অবস্থায় আছে তা আমি আপনি কল্পনা করতে পারবো না। তাদের ভেতরটা কতখানি পুড়ছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারবো না। আমরা শুধু পারবো সেই পোড়াঘাতে লবণ ছিটিয়ে দিতে।

তারপরেও ওরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। আমার দেশের হয়েই তো ওরা খেলছে, বুকে সবসময় ধারণ করছে নিজ দেশের কথা। আর আমরা কি করছি? একমুহূর্তের কষ্ট ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুন আনন্দ লীলায় মেতে উঠছি।

দেশপ্রেম উপলব্ধি করার ক্ষমতাও আমাদের নেই,আসলেই আমরা পারিও বটে....!!!

১ Likes ১০ Comments ০ Share ৪৫৬ Views

Comments (10)

  • - সেলিনা ইসলাম

    নাটকটি সম্পর্কে যেটুকু বর্ণণা দেয়া হল তাতেই শিউরে উঠলাম আর মঞ্চের সামনে বসে দেখ্লে কী হবে ভাবাই যায়না! দিন যত যাচ্ছে মানুষের মনন ক্ষমতা তত বেশী কঠিন হচ্ছে আর এই কঠিনকে সহজাত রূপ দিতে এ ধরনের চিত্রনাট্য খুবই দরকার। সময়োপযোগী সৃষ্টি! নাটকটি আরো বেশি সফলতা পাক সেই শুভকামনা ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

    • - আল ইমরান

      সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এ নাটক আপনি বসে দেখার সুযোগ পাবেন না। খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে অনুভব করতে হবে। এবং আপনি নিজেও এখানে একটা রোল প্লে করবেন। এটাই নাটক উপস্থাপনের ইউনিক স্টাইল। 

    - ঘাস ফুল

    ব্লগে কোন দিন মঞ্চ নাটকের ওপর কোন রিভিউ পড়া হয় নাই। এই প্রথম পড়লাম। রিভিউ পড়েই বুঝালাম এটা মিরপুরের বধ্যভূমির ওপর নির্মিত নাটক, তাও আবার মাত্র ২০ মিনিটের। তারমানে নাটক দেখে যতটা বুঝা যাবে, তার চেয়ে অনুভব করে আরও বেশী বুঝে নেয়ার অবকাশ তৈরি করে দেয়া হবে। আপনার রিভিউও খুব ভালো হয়েছে ইমরান ভাই। ছবিটাও দুর্দান্ত তুলেছেন। রিভিউর সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে ছবিটা। ধন্যবাদ আমাদের সাথে আপনার এই চমৎকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। 

    - আল ইমরান

    সুযোগ থাকলে কোন একদিন দেখে আসবেন। এমন অসাধারন আইডিয়া না দেখলে মিস করবেন। শুভকামনা থাকল। 

    Load more comments...