কল্পদেহী সুমন

২ বছর আগে লিখেছেন

ছদ্মবেশী

একই স্কুল এমনকি একই কলেজে পড়তো জায়েদ আর মেহরুন। স্কুল-কলেজে জায়েদ মেয়েদের সাথে কথা তো দূরের কথা একদমই মিশতো না। দেয়ালেরও কান আছে এই সূত্রে সে তার আশেপাশের অনেক মেয়েদের চিনতো, এমনকি অনেকের কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন রকমের গল্পও শুনতো। আর মেহরুন ছিলো ঠিক জায়েদের বিপরীত একটা মানুষ, সারাদিন বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে যেন হইহুল্লোড় করাই তার বড় নেশা ছিলো। মেহরুন স্কুল থেকেই চশমা পরতো চোখে, সব সময় হিজাব পরতো। তবে তার চেহারা সবাই দেখতো, চেহারা ঢেকে চলাটা সে কখনো পছন্দ করতো না।
 
কলেজ শেষ হয়েছে কয়েক বছর হয়ে গেছে। কলেজের বন্ধুদের সাথে জায়েদের এতোটা সখ্যতা নেই এখন বলা চলে। জায়েদ এখন ভার্সিটিতে পড়ে, এখন আর কলেজের সেই জায়েদ নেই। সে অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন তার বান্ধবী আছে, মেয়েদের সাথেও মিশে অন্য বন্ধুদের মতোই।
 
আজ একটু আগেই বাসায় ফিরছে জায়েদ। অন্য কোনদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর বন্ধুদের সাথে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতো। কিন্তু আজ কি ভেবে যেন ক্লাস শেষ করেই লাপাত্তা, তার বন্ধুরা তাকে ফোন দিয়েও পাচ্ছে না। এর মধ্যেই মেহরুনের সাথে দেখা হলো জায়েদের। মেহরুন জায়েদকে দেখেই চিনে ফেললো। জায়েদও মেহরুনকে চিনতে পারলো। মেহরুন তো এমনই একটু বেশি কথা বলে আর জায়েদ বাচাল ধরনের মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে একদম চুপ হয়ে যায়। মেহরুন কথা বলছে তো বলছেই আর বন্ধ করছে না। অনেক কথা বললো, নিজ থেকেই জায়েদের ফোন নাম্বারও নিলো। জায়েদ কিছুই বললো না, মেহরুনের সব কথায় হ্যাঁ হ্যাঁ করে গেলো।
 
এরপর কয়দিন কেটে গেল, জায়েদের সাথে মেহরুনের কথাও হচ্ছে না, দেখাও হচ্ছে না। জায়েদও খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি মেহরুনকে, ভুলেই... continue reading
Likes Comments
০ Shares

কল্পদেহী সুমন

২ বছর আগে লিখেছেন

ভাগ্যের ডায়েরি

রুহি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ এর একজন ছাত্রী। রূপে-গুনে একদম মানানসই একটা মেয়ে। তার চোখগুলোতে একটা অদ্ভুত মায়া আছে, যেই মায়ায় শত শত যুবক প্রেমে গড়াগড়ি খায়। এ পর্যন্ত অসংখ্য ছেলে তাকে প্রেম প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কেউ কেউ গোপণে জানতে পারছিলো রুহি দুই বছরের সিনিয়র একজনের সাথে গত এক বছর ধরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। তার নাম সাদ আন্দালিব। সে বিবিএ, এমবিএ করে ইতিমধ্যে ভালো একটা বিজনেস ফার্ম খুলেছেন। মোটামুটি বেশ ভালোই উপার্জন হতে তা থেকে। সাদ আন্দালিবও ছিলেন এমনই একজন যার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য মেয়ের দেওয়ানা হয়ে যেত। কিন্তু তার এক কথা নিজের পছন্দ ছাড়া আর কারও ভালোবাসায় তিনি পা ফেলবেন না। এর মধ্যেই রুহির সাথে পরিচয়, এরপর ভালো লাগা, ভালোবাসা। রুহিও বিবিএ শেষ করে এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে এখন। সাদ আন্দালিবের মা তখন তার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন খুব। কি আর করার মায়ের জোরাজুরিতে বলেই দিলেন রুহি নামে একটা মেয়েকে সে ভালোবাসে। এ নিয়ে কয়দিন ঝামেলা হলেও পরে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। অবশেষে রুহিকেই বিয়ে করে সংসার শুরু করে সাদ আন্দালিব।
প্রথম একটি বছর বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটলো বিপত্তি। স্কুল জীবনে রুহির সাথে একটা ছেলের অনেক দিনের সম্পর্ক ছিলো। তখন তাদের মা-বাবার চোখে ধরা পরায় সম্পর্কটা সেখানেই শেষ হয়ে গেছিল। সেই ছেলেটি আজ বহু বছর পর রুহির খোঁজ পেল। রুহির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। ছেলেটির নাম তন্ময়। সে রুহির জন্য অপেক্ষা করে আছে এতদিন ধরে। এখন পর্যন্ত রুহির জন্যই সে কোন মেয়েকে বিয়ে করেনি। রুহিও বহুদিন পর তন্ময়কে পেয়ে আগের সেই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো। একদিন রুহি... continue reading
Likes Comments
০ Shares

কল্পদেহী সুমন

৩ বছর আগে লিখেছেন

ভালোবাসি

কখনো সম্পর্কগুলো হয়তো বোঝা হয়ে উঠেনা কোনদিকে গড়াচ্ছে। হয়তো ভালোবাসা, গুরুত্ব, অনুভূতি এসব কিছুর কোন ঘাটতি নেই। তবুও কোন এক অজানা কারণে, অজানা ভয়ের কারণে হয়তো বলা হয়ে উঠেনা তখন অনেক কথাই। অথচ বুঝতে পারে তারা অনেক কিছুই তার। শুধু বলা হয়েই উঠেনা কেউ কাউকে। এই না বলাটাই কখনো কখনো সম্পর্কগুলোকে টিকিয়ে রাখে নতুবা হারানোর সেই আশংকা থেকে মুক্তি দেয়।
মাঝ রাতে মোবাইলের রিং বাজছিল। হিমেল ঘুমিয়ে ছিলো তাই বুঝতেছিলো না। দুই/তিন বার রিং বাজার পর হিমেলের বোঝে আসলো কেউ রিং দিচ্ছে। তবুও রিসিভ করতে পারলোনা। অপরপ্রান্তে অহনার তাই খুব রাগ উঠছিল। হিমেল মেসেজ দেখলো। "এই কি হলো? কথা কওনা কেন? " অহনা মেসেজে বললো। হিমেল তখন মেসেজ দিয়ে বললো "আমি কোথায় ছিলাম? তোমার সাথেই তো কথা বলছিলাম, তাহলে তুমি আবার এসব বলছো কেন? ""এই তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তুমি ঘুমাও ", অহনা মেসেজ করে বললো। এরপর হিমেল ঘুমিয়ে পরলো।
ছুটির দিন আজ। সকাল নয়টা/দশটা বেজে গেল এখনো অহনা হিমেলের কোন খবর নিচ্ছেনা। হিমেল বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে অহনার একটি মেসেজের জন্য। হঠাতই তখন অহনা ফোন দিয়ে বসলো।
-হ্যালো (অহনা)
-হুমম (হিমেল)
-কি করো?
-কিছুনা, বসে আছি। তুমি?
-আমি ঘুম থেকে উঠলাম।
-রাতে আমার কি হইছিলো বলো তো?
-কি জানি উল্টাপাল্টা বলছিলে!
-আমার আসলে একটু চোখ লেগে গেছিল আর স্বপ্নও দেখা শুরু করলাম। আর স্বপ্নে আমি তোমার সাথেই কথা বলছিলাম তাই পার্থক্য করতে পারছিলাম না।
-ওয়াও তুমি আমাকে স্বপ্নে দেখছো?
-হুমম, কেন তুমি দেখোনা আমাকে?
-না, আমি স্বপ্নই দেখিনা। স্বপ্ন না দেখার জন্য দোয়া পড়ে ঘুমাই।
-কেন?
-আমি শুধু খারাপ স্বপ্ন... continue reading
Likes Comments
০ Shares

কল্পদেহী সুমন

৩ বছর আগে লিখেছেন

প্লাস-মাইনাস

সেদিন খুশবু কারো সাথেই আর কথা বলেনি। বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেছিলো তবুও সে বিছানা ছেড়ে উঠেনি। তার মা-বাবা অনেক ডাকাডাকির পরও সে কোন সাড়া দেয়নি। চুপ হয়ে শুয়ে ছিলো। মাঝেমধ্যে দুই/এক ফোটা জল গাল বেয়ে পড়ছিলো। খুশবুর মা-বাবা খুব চিন্তিত হয়ে গেল, তাদের এতো ভালো একটা মেয়ের হঠাৎ কি হয়ে গেল আজ।
কাউকে মনে-প্রাণে ভালোবাসা কি কোন অপরাধ? হয়তো না, কিন্তু এই নিস্পাপ মেয়েটা তবুও কেন অর্ককে সেই প্রথম থেকেই ভালোবেসে এসে শেষ পর্যন্ত কষ্ট পেল। যখন সে ভালোবাসা কি তাই বুঝতোনা তখন থেকেই তো সে অর্ককে আজীবনের জন্য পাশে চাইতো। সে কখনোই ভাবেনি অর্ক আর তার মাঝে এতোটাই দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যাবে। নিয়তির খেলায় কেন যে এমন লেখা ছিলো তা ঐ সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। এতো করে চাওয়া জিনিসগুলোই হয়তো দূরে চলে যায়, খুব দূরে। যেখান থেকে সেটাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়না। যদি এমন ভাবে হারিয়েই যাবে তাহলে কেন জীবনের অনেকটা অংশের সাথে সেই বিষয়গুলো জড়িয়ে দিবেন তিঁনি? এর উত্তর হয়তো তিঁনি ছাড়া আর কেউ দিতেও পারবেনা। হয়তো এর মাঝেই তিঁনি লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন আগামীর ভবিষ্যৎ।
রাত ঠিক তিনটার দিকে খুশবুর মা তার কপালে হাত দিয়ে দেখলো খুব গরম হয়ে আছে। জ্বরে খুশবুর হাত-পা পুড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে এরপর অনেকক্ষণ ধরে গোসল করার কারণে হয়তো জ্বর উঠে গেছে তার। সারা রাত জল পট্টি, মাথায় পানি দিলো খুশবুর মা। সকালের দিকে একটু সুস্থ হলো খুশবু। এরপর অনেকদিন খুশবু খুব অসুস্থ ছিলো। ঠিকমতো কারো সাথে মিশতোনা, কথা বলতোনা। খুব নিরব হয়ে গেল সে। এখন আর আগের মতো বান্ধবীদের সাথে হইহুল্লোড় করে বেড়ায়না খুশবু। আগের সেই খুশবুটা এখন অন্য... continue reading
Likes Comments
০ Shares

কল্পদেহী সুমন

৩ বছর আগে লিখেছেন

প্লাস-মাইনাস

ভালোবাসা বুঝেনা এমন কোন প্রাণি এ পৃথিবীতে নেই। জন্মের পর থেকেই তারা ভালোবাসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পরে। সদ্য জন্মপ্রাপ্ত শিশুটিও ভালোবাসা বুঝে। হয়তো সে তখনো ভালোবাসা কি তা জানেনা। তবে সে ভালোবাসার অনুভূতিগুলো বুঝতে পারে। সেই অনুভূতিগুলোর সামান্য অনুপস্থিতি তাকে কষ্ট দেয়। একটা ছোট্ট শিশুকে দেখবেন তার বাবা অফিসে যাওয়ার সময় কেমন কান্না করে। তার মা যদি একটু আড়াল হয় তাহলে পাগল হয়ে যায়। এমন করে সংসারের প্রতিটি মানুষের জন্য শিশুটি এমন করে। সে কিন্তু কিছু না বুঝেও ভালোবাসতে শিখে যায়। কিছু না জেনেও ভালোবাসার মানুষগুলোকে তার চারপাশে সব সময় দেখতে চায়।
অর্ক আর খুশবু খুব ছোটবেলা থেকেই পাশাপাশি বাসায় থাকে। তারা ছোটবেলা থেকেই একসাথে খেলে, স্কুলে যায়। খুশবুর জীবনের প্রথম বন্ধু ছিলো অর্ক আর অর্কের জীবনেরও প্রথম বান্ধবী ছিলো খুশবু। পাশাপাশি বাসায় ছিলো বলে তাদের এই বন্ধুত্ব আরও বেশি গভীর ছিলো। কখনো কখনো তো একজন আরেকজনকে ছাড়া খেতেই বসতোনা। প্রতিদিন বিকালে তারা বের হতো, একসাথে ঘুরতো খেলতে তাদের বিল্ডিংয়ের সামনে ছোট মাঠটাতে। এভাবে করে বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিলো তাদের ছোট্ট বেলার জীবন। কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের মানসিক পরিবর্তন হতে লাগলো। অর্কটা ছিলো একটু বেশিই এ্যাডভান্স। টু-থ্রি তে পড়েই যেন বড়দের মতো বুঝতো। টু-থ্রি তে উঠেই অর্ক তখন খুশবুর সাথে বেশি মিশতে চাইতোনা। আগের মতো খুশবুর সাথে খেলতেও চাইতোনা। কিন্তু খুশবু বেচারীর তো অর্কর সাথে কথা না বললে, একসাথে খেলতে না পারলে কিছুই ভালো লাগতোনা। খুশবুটা ছিলো একটু কম চালাক, ও এতো কিছু বুঝতোনা। ওর একটাই কথা অর্কর সাথে খেলবে, আর অর্ক ওর সাথে তখন আর মিশতেই চাইতোনা। এভাবে করে ক্লাস ফাইভে উঠে গেলো তারা।... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...