এস আহমেদ লিটন

৪ বছর আগে লিখেছেন

মুক্তিযোদা (প্রতিযোগিতার জন্য ক্যটাগরি-১)

এলাকায় পাকসেনারা ক্যাম্প করেছে! নিজাম হুজুর বেশ সখ্যতা গড়ে তুলেছে ওদের সাথে! এলাকার খবরাখবর ইনার মাধ্যমে পায়! এলাকায় কে কে মুক্তিবাহিনীতে গেছে, কারা যেতে পারে, এসব বিষয়ে কোথায় আলাপ আলোচনা হয়, তাদের নাম ঠিকানা ও চিনিয়ে দেয়ার কাজটি এই নিজাম হুজুর করেন! এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কিছু গুপ্তচর রাখা আছে! এরা গোপনে নিজাম হুজুরে কাছে খবর পৌছে দেয়!

 মতিন সার বেশ সম্মানীয় ব্যক্তি কলেজের লেক্চারার, ওনার দুই ছেলে মেয়ে, ১৪ বছরের কিশোর সানি আর ১৬তে পা রাখা সনি! সনির চেহারা বেশ সুন্দর, চিকন, একটু লম্বা, মোটামুটি এলাকায় পাঁচজনের নাম বললে তার নাম আসে! নিজাম হুজুর খবর দিয়ে গেছেন পাকসেনারা ক্যম্পে দেখা করতে বলেছেন! এতে বেশ বিষন্ন হয়ে পড়লেন, না জানি কি বলবেন, দুশ্চিন্তায় মুখ কালো হয়ে গেছে! রাতের খাবার না খেয়ে শুয়ে পড়লেন! স্ত্রী হনুফা বেগম বারবার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও কোন উত্তর দিলেন না! সারা রাত চিন্তা করেও কোন কূল কিনারা পেলেন না! সকালবেলা ভয়ে ভয়ে নিজাম হুজুরের সাথে গেলেন! নিজাম হুজুরই অনেক অভয় দিয়েছিলেন, কোন সমস্যা নেই, আমি আছি ইত্যাদি! সত্যি তেমন কিছু হল না, এলাকার খোঁজ খবর নিলেন, মুক্তিবাহিনীদের সম্পর্কে জানতে চাইলেন,আর তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে বললেন! আর কড়া ভাষায় বললেন মুক্তিবাহিনী বিষয়ে কোন খবর থাকলে যেন সঙ্গে সঙ্গে পৌছে দেয়া হয়! কোন কথা না বলে শুধু সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকিয়ে ফিরে এলেন! কিন্তু পাকদের বলে কোন বিশ্বাস নেই! কখন কি করে বসে তাই সরে থাকাটা মঙ্গল! হনুফা বেগমকে বললেন গুছিয়ে নাও ক'দিন তোমাদের বাড়ি থেকে ঘুড়ে আসি!

এদিকে নিজাম হুজুর  তার সুন্দরী মেয়ের খবর আগেই দিয়ে রেখেছেন! এবার তারা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন এখবর শুধু দিলেন না  সাথে করে কিছু জোয়ান নিয়েও আসলেন! নিজাম হুজুরের হাতে পায়ে ধরে আর বাঁচান গেলো না! হনুফা বেগম বারবার পায়ে ধরলেন একবার নিজাম হুজুরের একবার পাকসেনাদের, বুটের লাত্থি দিয়ে দূরে ফেলে দিলেন! এবার নিজাম হুজুরের পায়ে ধরে ভাইজান আমার মায়াডারে বাঁচান! কোন কথায় কাজ হলো না! মতিন সারকে গুলি করে মা-মেয়ে দুজনকেই নিয়ে গেলেন ক্যাম্পে আর সানি খাটে নিচে লুকিয়ে বেঁচে গেলেন!

 সানি গোসল-খাওয়া বাদ দিয়ে সারা ক্যাম্পের আশেপাশে ঘুর ঘুর করে! ক্যাম্প থেকে একটু দূরে মুদির দোকান এখন আর আগের মত লোকের আনাগোনা নেই! সন্ধা নামতেই সুনসান নীরবতা! এখান থেকেই ক্যাম্পের নির্যাতন সব শুনা যায়! বিশেষ করে সন্ধ্যার পর! এখান বসে মা বোনের নির্যাতনের চিৎকার চেচা মেচি শোনে! শারীরিক, মানসিক, পাশবিক সব ধরনের নির্যাতন হয় এখানে! শুধু যে সানির মা বোন তা নয় আরো অনেক মেয়েদের এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করছে! গগন বিদারী সে চিৎকারে যেন কিশোর সানির বুক ফেটে যায়! দুচোখ বেয়ে শুধু দুফুটা অশ্রু ঝরে! কোন শব্দ নেই, নির্বাক! অনেকেই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু যায় না! দোকান থেকে দু একটা রুটি বিস্কিট দিলে তাই খায়! রাত যখন একটু ভারি হয় দোকান বন্ধ হলে কারোর কাচারি ঘর বা বাইরের ঘরে গিয়ে পরে থাকে! কয়েকদিনই অনেক শুকিয়ে গিয়েছে, কাপড়ও বেশ ময়লা! এলাকার মানুষ এখন সানি পাগল বলে! পাক সেনারাও দেখে পাগল বলে কিছু বলে না!

হঠাৎ একদিন দেখে নিজাম হুজুর আসছেন, সানি পাগল আস্তে আস্তে বলল মুক্তিবাহিনী গ্রামে এসেছে! শুনেই দৌড়াতে দৌড়াতে ক্যাম্প গিয়ে খবর দিল! সঙ্গে পাকসেনারা গ্রাম ঘিরে ফেলল, তন্ন তন্ন করে খোজা হলো, কাউকে পাওয়া গেল না! ততক্ষনে সানি পাগল কোথায় হারিয়ে গেছে তারও ঠিক নেই!
দিন কতক পর মুক্তিবাহিনীরা খবরাখবর নিতে শুরু করল! কখন কোথায় কিভাবে এখানে আক্রমণ করা যায় তারও একটা পরিকল্পনা স্থির করেছে! এখানে বন্দীদেরও কিভাবে মুক্ত করা যায়? রাজাকার কে কে আছে? কে কিভাবে কাজ করছে?  যাবতীয় সংবাদ সানি পাগল দেয় খুব সুক্ষভাবে! 

এদিকে কয়েকজন সেনা কর্তা নিজাম হুজুরের বাড়িতে খেতে গিয়ে তার ১৪ বছরের কিশোর মেয়ে দেখে আর ঠিক থাকতে পারল না তাকেও ক্যাম্পে আনা হল! পুরনো কারো কারো ছেড়েও দেয়া হলো!  ঘটনার আকর্ষিকতায় স্তম্ভিত হয়ে পরলেন কিন্তু কিছুই করার নেই! কত মুক্তিযাদ্ধাকে ধরিয়ে দিয়েছে! কত মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে আজ নিজের মেয়েকে আর ভাবতে পারছে না! তাও ১৪ বছরের ছোট্ট কিশোর! কত করে বলল হুজুর মেয়েটা বড্ড ছোট ওকে ছেড়ে দিন না, আমিই সব ব্যবস্থা করে দেব! এ কথা বলার সাথে সাথে এক লাত্থি দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল! প্রকৃতির অঘোমো নীতি চড়ম শাস্তি হয়ে গেল নিজাম হুজুরের!

সানি পাগলসহ আরো বেশ কয়েকজন কিশোর-যুবক হঠাৎ একদিন গ্রাম থেকে হারিয়ে গেল! এই মা ও মাটিকে মুক্ত করবে বলে! কঠিন শপৎ নিয়েছে আজ হোক কাল হোক তারা এদেশ স্বাধীন করবেই! এই মাটি আমাদের! এ নদী আমাদের, দক্ষিনা যে বায়ু বয় তাও আমাদের! মুক্ত আকাশের মুক্ত বিহঙ্গটাও আমাদের! আমাদের এ পবিত্র মাটিতে পাকসেনাদের জায়গা হতে পারে না! 

 

 

Likes Comments
০ Share

Comments (0)

  • - এই মেঘ এই রোদ্দুর

    দারুন হইছে । শুভকামনা

    - আমির ইশতিয়াক

    ভাল লাগল কাশেম ভাই।